নিউজ ডেস্ক: গ্লোবাল সাউথ বা উন্নয়নশীল ও স্বল্পোন্নত দেশগুলোর জোটের পক্ষে শক্তিশালী অবস্থান নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেছেন যে, এসব দেশকে কেবল নিয়ম মেনে চলার গণ্ডি থেকে বেরিয়ে এসে নিয়ম নির্ধারণকারীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে হবে। ১৮তম ব্রিকস সম্মেলনের সভাপতি হিসেবে উদ্বোধনী ভাষণে প্রধানমন্ত্রী মোদীর আলোচনার বিষয় ছিল অর্থনৈতিকভাবে অপেক্ষাকৃত দুর্বল ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর এই জোটকে বিশ্বমঞ্চে আরও শক্তিশালী কণ্ঠস্বর জোগানো।
চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের উপস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী মোদী বিশ্ব শাসনব্যবস্থায় বিদ্যমান ভারসাম্যহীনতার দিকে ইঙ্গিত করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার ক্ষেত্রে গ্লোবাল সাউথ-এর দেশগুলো প্রথম সারিতে রয়েছে, কিন্তু সিদ্ধান্ত গ্রহণের সময় তারা পেছনের সারিতেই থেকে যায়।
গ্লোবাল সাউথ বিষয়ক প্রস্তাবনা
প্রধানমন্ত্রী মোদী বলেন, বৈশ্বিক শাসনব্যবস্থার বর্তমান কাঠামোটি অনেকটা পিরামিডের মতো— যেখানে ক্ষমতা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের বিষয়টি শীর্ষস্তরে কুক্ষিগত থাকে, অথচ নীচের স্তরের দেশগুলো এসব সিদ্ধান্তের দ্বারা প্রভাবিত হওয়া সত্ত্বেও তা নির্ধারণের ক্ষেত্রে কোনও ভূমিকা রাখতে পারে না।
তিনি আরও বলেন, আমাদের এমনভাবে কাজ করতে হবে যাতে গ্লোবাল সাউথ দেশগুলো শুধু নিয়ম মেনে চলার গণ্ডি থেকে বেরিয়ে নিয়ম নির্ধারণের ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে পারে।
তবে প্রধানমন্ত্রী শুরুতেই স্পষ্ট করে দেন যে, ব্রিকস কোনও নির্দিষ্ট দেশের বিরুদ্ধে পরিচালিত কোনও জোট নয়। মোদী বলেন, আমরা কারও বিরুদ্ধে নই। বরং আমরা সবাইকে সঙ্গে নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার নীতিতে বিশ্বাসী ও সেই লক্ষ্যেই কাজ করে যাচ্ছি।
প্রধানমন্ত্রীর ১০-দফা কর্মপরিকল্পনা
মোদী উল্লেখ করেন যে, আগামী দুই দশকের জন্য একটি নতুন ও উচ্চাকাঙ্ক্ষী কর্মসূচি প্রয়োজন। এই লক্ষ্যে তিনি ১০-দফা কর্মপরিকল্পনার প্রস্তাব দেন, যা মূলত তিনটি স্তম্ভের ওপর গুরুত্বারোপ করবে— প্রতিনিধিত্ব, সক্রিয়তা এবং বিধি-বিধান প্রণয়ন।
মোদী বলেন, অন্যতম প্রধান বিষয় হল রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সংস্কার। বৈশ্বিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানে ভোটাধিকার, নেতৃত্বের পদ এবং নীতিগত অগ্রাধিকারের ক্ষেত্রে যেন অর্থনৈতিক বাস্তবতার প্রতিফলন ঘটে। যেসব দেশ বৈশ্বিক বিকাশে গতি সঞ্চার করে, বৈশ্বিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে তাদেরও মতামত থাকা উচিত।
এ ছাড়া তিনি প্রতিটি সিদ্ধান্ত, তার সময়সীমা এবং বর্তমান অবস্থা নথিবদ্ধ ও পর্যবেক্ষণ করার জন্য একটি নিরাপদ ডিজিটাল ভাণ্ডার তৈরিরও পরামর্শ দেন।
ইরান-কেন্দ্রিক সংঘাতের ফলে সমুদ্রপথে পণ্য পরিবহণ ব্যবস্থার দুর্বলতাগুলো যখন স্পষ্ট হয়ে উঠেছে, তখন প্রধানমন্ত্রী মোদী ব্রিকস দেশগুলোর মধ্যে নাবিকদের জন্য একটি জরুরি সহায়তা নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার প্রস্তাব দিয়েছেন।