১৫ মে, হাইলাকান্দি: রাত থেকে মুষলধারে বৃষ্টির জেরে জলমগ্ন হাইলাকান্দির পাঁচগ্রাম জাতীয় সড়ক। রেল লাইনে নামল ধস। ফলে সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে পড়ে শিলচর–শ্রীভূমি রেল পরিষেবা। প্রায় ঘণ্টা চারেক ধরে চলে ধস সরানো ও রেললাইন ঠিক করার কাজ। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পর পুনরায় চালু করা হয়েছে রেল পরিষেবা।

ছবি: সংগৃহীত
রাতভর মুষলধার বৃষ্টির পর শুক্রবার সকালে হাইলাকান্দির পাঁচগ্রামের অধিকাংশ এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়ে। কোমর জলে চলে ঝুঁকিপূর্ণ যাতায়াত। বন্ধ একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, দোকানপাট।
ভয়াবহ বৃষ্টির জেরে সকালে বড়সর ধস নামে রেল লাইনে। যাত্রীদের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে আপাতত ওই রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রেল কর্তৃপক্ষ। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন বহু যাত্রী। খবর পাওয়া মাত্রই ঘটনাস্থলে পৌঁছয় রেলের উচ্চপদস্থ আধিকারিক ও ইঞ্জিনিয়াররা। যুদ্ধকালীন তৎপরতায় চলছে ধস সারাইয়ের কাজ। মাটি ভরাট থেকে শুরু করে রেললাইন মেরামতের কাজ চলছে জোরকদমে। রেল সূত্রে খবর, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করা গেলেই ফের চালু করা হবে শিলচর-শ্রীভূমি রেল পরিষেবা।
উল্লেখ্য, এর আগেও একাধিকবার ধস নামে হাইলাকান্দি, কাছাড় ও শ্রীভূমির বিভিন্ন জায়গায়। ধসের জেরে ব্যাহত হয় যান চলাচল। থমকে পড়ে রেল পরিষেবা। গুয়াহাটি-শিলচর এক্সপ্রেসওয়ে হলে যাতায়েত অনেকটাই সুবিধে হবে বলে মনে করছেন বরাকবাসী।
এদিকে মুষলধার বৃষ্টির জেরে জলমগ্ন শিলচরও। শিলচরের বিলপার, রাধামাধব রোড, নিউ মার্কেট সহ একাধিক এলাকায় জমা জলের জেরে সমস্যায় পড়েন বাসিন্দারা। অনেকের বাড়ির ভিতরে জল ঢুকে নষ্ট হয়ে যায় আসবাবপাত্র। রাস্তাঘাট জলমগ্ন হওয়ার ফলে যান চলাচলেও সমস্যার সম্মুখীন হতে হয় এলাকাবাসীকে। এমনকি দকানপাটেও জল ঢোকায় লোকসান হচ্ছে বলে অভিযোগ ব্যবসায়ীদের। শিলচরের ফাটক বাজারে জল জমার জন্য প্রশাসনের গাফিলতিকেই দায়ী করেন শিলচরবাসী। নিকাশি ব্যবস্থা নিয়েও ক্ষোভ উগড়ে দেন তাঁরা।
বৃষ্টির কোপ থেকে বাদ যায় নি শ্রীভূমিও। শহরের বিভিন্ন প্রান্তে শুধু জল আর জল। চৌমহনি রোড, রামকৃষ্ণ মিশন রোড, পি ডব্লিউ ডি বাজার, বিজেপি দফতরের সামনেও হাঁটু জল। জলমগ্ন পরিস্থিতির জেরে বিদ্যুৎস্পৃষ্ঠ হয়ে একজনের মৃত্যুও হয় বলে অভিযোগ। স্কুলের ভিতরে জল ঢুকে পড়ায় শিকেয় পাঠদান।