নিউজ ডেস্ক: ইনস্টাগ্রামে অভিষেক কংগ্রেস নেত্রী সোনিয়া গান্ধীর। ১০ নভেম্বর প্রকাশ পাবে সোনিয়া গান্ধীর লেখা বই ‘বিলংগিং: আ জার্নি অব লাভ’। সেই বইয়ের ছবি দিয়ে ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করেছেন ৭৯ বর্ষীয়া রাজনীতিক সোনিয়া।
সোনিয়া গান্ধীর স্মৃতিকথা ‘বিলংগিং: আ জার্নি অফ লাভ’-এর প্রথম কপিগুলো এসে পৌঁছেছে। প্রকাশকরা যখন বইটির কয়েকটি হার্ডব্যাক কপি নিয়ে এলেন, তখন সোনিয়া গান্ধী তাঁদের উদ্দেশে বলেন, আপনারা তো বেশ ভারী একটা বোঝা বহন করে এনেছেন।
এরপর সোনিয়া গান্ধীর হাতে বইটির প্রথম কপিটি তুলে দেওয়া হয়, সঙ্গে ছিল এক বাক্স মিষ্টি।
হাসিমুখে হার্ডব্যাক কপিটি হাতে নিয়ে পোজ দেন সোনিয়া গান্ধী।
বইটি উল্টেপাল্টে দেখার সময় মেয়ে প্রিয়াঙ্কাকে দেখিয়ে সোনিয়া গান্ধী বলেন, অনেক ছবি আছে, প্রিয়াঙ্কা। সোনিয়া বলেছেন, সবাইকে নমস্কার, আপনাদের সবার সঙ্গে এই মুহূর্তটি ভাগ করে নিতে পেরে আমি সত্যিই কৃতজ্ঞ। এটি ‘বিলংগিং: আ জার্নি অফ লাভ’-এর প্রথম ঝলক। এটি ভালোবাসা, কর্তব্য, হারানো এবং নিজের জায়গা খুঁজে পাওয়ার এক গল্প। আপনাদের সঙ্গে এটি ভাগ করে নেওয়ার অপেক্ষায় রইলাম, ভিডিয়ো সহ পোস্টে লিখেছেন সোনিয়া। এটিই ইনস্টাগ্রামে সোনিয়ার প্রথম পোস্ট।
বইটির ভারতীয় প্রকাশক হার্পার কলিন্স এর আগে এক পোস্টে জানিয়েছিল, আমাদের সময়ের অন্যতম প্রতীক্ষিত রাজনৈতিক স্মৃতিকথা ‘বিলংগিং’ হল ভালোবাসা, পরিচিতি, কর্তব্য ও আপন জায়গা খুঁজে পাওয়ার এক নাটকীয় এবং অত্যন্ত ব্যক্তিগত আখ্যান। এটি ভারতের যাত্রাপথকে ভেতর থেকে দেখার এক বিরল সুযোগ করে দেবে।
এর আগে, পেঙ্গুইন র্যাকন্ডম হাউস ইন্ডিয়া সোনিয়ার স্মৃতিকথা প্রকাশের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে। শোনা যায়, পাণ্ডুলিপিতে ‘সম্পাদনা সংক্রান্ত পরিবর্তন’ আনতে সোনিয়া গান্ধী রাজি হননি। যদিও প্রকাশক সংস্থাটি এমন কোনও কারণ থাকার কথা অস্বীকার করেছে।
বইটির মার্কিন প্রকাশক আলফ্রেড এ. নফ-এর মাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে সোনিয়া গান্ধী বলেন, আমার পরিবারকে নিয়ে অনেক কিছুই লেখা হয়েছে, কিন্তু খুব কম বর্ণনাই তাদের কাজের পেছনের প্রকৃত উদ্দেশ্য, তাদের কর্মকাণ্ড, এমনকি তাদের মানবিক দুর্বলতার গভীরে পৌঁছতে পেরেছে।
সোনিয়া বলেছেন, অনেক দিক থেকেই এই বইটি তাদের মানবিক সত্তার প্রতি এক শ্রদ্ধাঞ্জলি। আমার এই গল্প পাঠকদের এমন এক অনন্য দৃষ্টিভঙ্গি দেবে, যার মাধ্যমে তারা সেই সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিবর্তনগুলো দেখতে পাবেন, যা আমি গত ছয় দশক ধরে আমার এই প্রিয় দেশে প্রত্যক্ষ করেছি।”
বিলংগিং বইটিতে সোনিয়া গান্ধী লিখেছেন যে, ১৯৮৪ সালে তাঁর শাশুড়ি ইন্দিরা গান্ধী আততায়ীর হাতে নিহত হওয়ার পর তাঁর জীবন ওলটপালট হয়ে যায়। এরপর রাজীব গান্ধী ক্ষমতায় আসেন, কিন্তু সাত বছর পর তাঁকেও হত্যা করা হয়।
এক বিবৃতিতে সোনিয়া বলেছেন, গভীর শোক আর প্রিয়জন হারানোর বেদনা আমাকে রাজনীতির জগতে ঠেলে দিয়েছিল। তার আগে আমার ব্যক্তিগত গোপনীয়তাকে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে আগলে রেখেছিলাম।
Prev Post