নিউজ ডেস্ক: ইসরোর বেসরকারিকরণ নিয়ে তৈরি হওয়া জল্পনায় এবার জল ঢালল ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা। ইসরো চেয়ারম্যান ভি নারায়ণন বলেছেন, ইসরোকে বেসরকারি হাতে তুলে দেওয়ার কোনও পরিকল্পনা নেই। একইসঙ্গে মহাকাশ গবেষণা ও জাতীয় নিরাপত্তার ক্ষেত্রে ইসরোর গুরুত্ব কমানোর প্রশ্নও নেই। এরপর নারায়ণন বলেছেন, দেশের উন্নত মহাকাশ গবেষণা, প্রযুক্তি বিকাশ, জাতীয় ও কৌশলগত অভিযান, মহাকাশবিজ্ঞান, অনুসন্ধান এবং গুরুত্বপূর্ণ অত্যাধুনিক সক্ষমতার ক্ষেত্রে ইসরোই ভারতের প্রধান প্রতিষ্ঠান হিসেবে থাকবে। কয়েক দিন আগে ইসরোর কর্মীদের প্রতিনিধিত্বকারী একাধিক সংগঠন সংস্থার ভবিষ্যৎ ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলার পরেই এই বক্তব্য সামনে এল।
বিবৃতিতে ইসরো চেয়ারম্যান জানিয়েছেন, ইসরোর বেসরকারিকরণ হবে— এমন দাবি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং ভুল। দেশের উন্নত মহাকাশ গবেষণা, প্রযুক্তি বিকাশ, জাতীয় ও কৌশলগত অভিযান, মহাকাশবিজ্ঞান, অনুসন্ধান এবং গুরুত্বপূর্ণ অত্যাধুনিক সক্ষমতার ক্ষেত্রে ইসরোই ভারতের প্রধান প্রতিষ্ঠান হিসেবে থাকবে। অর্থাৎ, মহাকাশ ক্ষেত্রে বেসরকারি সংস্থার অংশগ্রহণ বাড়লেও ইসরোর মূল দায়িত্ব ও গুরুত্ব অপরিবর্তিত থাকবে।
তবে ইসরোর এই স্পষ্টীকরণের আগে সংস্থার অন্দরেই উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। ৪ সেপ্টেম্বর ইসরোর চেয়ারম্যান তথা মহকাশ বিভাগের সচিব ভি নারায়ণনকে চিঠি দেয় কর্মীদের প্রতিনিধিত্বকারী নয়টি সংগঠন। এই সংগঠনগুলির আওতায় কয়েক হাজার কর্মী রয়েছেন। চিঠিতে মহাকাশ ক্ষেত্রের বেসরকারিকরণ নিয়ে সরকারের নীতি, ভবিষ্যতে ইসরোর ভূমিকা এবং প্রস্তাবিত পরিবর্তনের প্রভাব সম্পর্কে স্পষ্ট ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছিল।
কর্মী সংগঠনগুলির উদ্বেগের মূল জায়গা ছিল, ইসরোর উৎপাদন এবং অপারেশন সংক্রান্ত কিছু দায়িত্ব যদি বেসরকারি সংস্থার হাতে যায়, তা হলে বর্তমান কর্মীদের ভূমিকা কী হবে এবং ভবিষ্যতে নিয়োগের ক্ষেত্রে তার কী প্রভাব পড়বে। এই প্রশ্নগুলির পাশাপাশি ইসরোর দীর্ঘমেয়াদি সাংগঠনিক কাঠামো নিয়েও স্পষ্টতা দাবি করা হয়েছিল।
ইসরোর বক্তব্য, বর্তমানে মহাকাশ ক্ষেত্রে যে পরিবর্তন হচ্ছে, তা সংস্থার গুরুত্ব কমানোর জন্য নয়। বরং মহাকাশ অর্থনীতির পরিসর বাড়ানো এবং গোটা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যেই বেসরকারি শিল্প, স্টার্ট-আপ এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে আরও বেশি করে যুক্ত করা হচ্ছে। বেসরকারি সংস্থাগুলি ইতিমধ্যেই প্রমাণিত প্রযুক্তি ও সক্ষমতার সম্প্রসারণে ভূমিকা নেবে। আর ইসরো আরও বেশি করে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের গবেষণা, উন্নত প্রযুক্তি এবং জটিল মহাকাশ অভিযানে মনোযোগ দিতে পারবে।
ইসরো এটিকে ‘বেসরকারিকরণ’ না বলে ‘ইকোসিস্টেম সম্প্রসারণ’ হিসেবে ব্যাখ্যা করেছে। সংস্থার মতে, মহাকাশ ক্ষেত্রে যত বেশি সংস্থা ও প্রতিষ্ঠান যুক্ত হবে, ততই দেশের সামগ্রিক সক্ষমতা বাড়বে। ফলে সরকারি প্রতিষ্ঠান ও বেসরকারি ক্ষেত্রের মধ্যে প্রতিযোগিতা বা দায়িত্ব হস্তান্তরের বদলে সহযোগিতার মাধ্যমে ভারতের মহাকাশ কর্মসূচিকে আরও বড় করার পথেই এগোনো হচ্ছে।
ফলে এই মুহূর্তে স্পষ্ট, মহাকাশ ক্ষেত্রে বেসরকারি অংশগ্রহণ বাড়লেও ইসরোকে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা নেই বলেই বার্তা দিয়েছে সংস্থা। বরং ভবিষ্যতে চাঁদ, মঙ্গল, মানব মহাকাশ অভিযান এবং অত্যাধুনিক মহাকাশ প্রযুক্তির মতো ক্ষেত্রে আরও বেশি মনোযোগ দেওয়ার জন্য বেসরকারি শিল্পকে কাজে লাগানো হবে।
৫৭ বছর আগে ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরু ও বিক্রম সারাভাইয়ের উদ্যোগে ইন্ডিয়ান স্পেস রিসার্চ অর্গানাইজেশন বা ইসরো প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।
সম্প্রতি ইসরোর ভবিষ্যৎ নিয়ে ইন-স্পেস-এর চেয়ারম্যান পবন গোয়েঙ্কা বলেছিলেন, ইসরোর রূপান্তর প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গিয়েছে। কারণ, এই প্রতিষ্ঠানের জটিল মহাকাশ গবেষণা, উন্নত প্রযুক্তি, বৈজ্ঞানিক অভিযান এবং পরিকাঠামোগত উন্নতির দিকে মনোযোগ দেওয়ার সময় চলে এসেছে। এজন্যই অতি সাধারণ কৃত্রিম উপগ্রহ এবং উৎক্ষেপণ যান তৈরির কাজ বেসরকারি বা রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার হাতে তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সরকার। কারণ, তাদের পক্ষে জ্যোতির্বিজ্ঞানের জটিল গবেষণা করা সম্ভব নয়। ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল স্পেস প্রমোশন অ্যান্ড অথরাইজেশন সেন্টার’ বা ইন-স্পেস কেন্দ্রের মহাকাশ দফতরের অধীনস্থ একটি স্বশাসিত সংস্থা, যার মাথায় রয়েছেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী। পবন গোয়েঙ্কার কথার পর দেশের বণিক মহল ও রাজনৈতিক মহলে বিতর্ক শুরু হয়।