হোস্টেলের অডিট, উচ্চস্তরীয় তদন্ত কমিটির নির্দেশ

4

নিউজ ডেস্ক: দিল্লির সত্য নিকেতনে ভবন ধসে সাতজনের মৃত্যুর ঘটনায় ভবনগুলো বৈধ অনুমতি নিয়ে নির্মিত হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে সোমবার দিল্লি হাইকোর্ট দিল্লির পুরনিগমকে উচ্চপর্যায়ের তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে। একইসঙ্গে আদালত রাজধানী জুড়ে ‘পেয়িং গেস্ট’ বা পিজি আবাসন ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণের জন্য জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে।
আদালত নির্দেশ দিয়েছে যে, ধসে পড়া কোনও ভবন যদি প্রয়োজনীয় অনুমতি ছাড়া নির্মিত হয়ে থাকে, তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দায়বদ্ধতা নির্ধারণ করতেও আদালত পুরনিগমকে নির্দেশ দিয়েছে। অনিয়ম বা গাফিলতির জন্য দায়ী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তার বিস্তারিত তথ্য প্রদানের জন্যও পুরনিগমকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
দিল্লির পিজি হোস্টেলগুলো যথাযথ অনুমতি ও নির্মাণ সংক্রান্ত বিধিমালা মেনে তৈরি করা হয়েছে কি না, তা যাচাই করতে হাইকোর্ট পুরনিগমকে অডিট বা নিরীক্ষা চালানোর নির্দেশ দিয়েছে। এ ছাড়া, এধরনের পিজি আবাসনে কতজন শিক্ষার্থী বসবাস করছে, আদালত সেই সংক্রান্ত তথ্যও তলব করেছে।
আদালত মন্তব্য করে যে, পিজি আবাসন পরিচালনার জন্য যদি কোনও সুনির্দিষ্ট নীতিমালা না থাকে, তবে সরকারকে অবশ্যই তা প্রণয়ন করতে হবে। আপনারা যদি গেস্টহাউস নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন, তবে পিজি কেন নয়? মন্তব্য আদালতের।
আদালত উল্লেখ করে যে, হয়তো দুটি তলার অনুমতি দেওয়া হয়েছে, কিন্তু মালিকরা সাতটি তলা নির্মাণ করেছে, ফলে এধরনের নিয়ম লঙ্ঘনের ঘটনা মর্মান্তিক দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে।
প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত মিশ্র মন্তব্য করেন যে, শিক্ষার্থীদের জীবন ও নিরাপত্তার জন্য ‘পিজি’ বা ভাড়াভিত্তিক আবাসন ব্যবস্থা গুরুতর হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে, বিশেষ করে এমন একটি শহরে, যেখানে উচ্চশিক্ষার জন্য সারা দেশ থেকে পড়ুয়ারা ছুটে আসে। আদালত এই পরিস্থিতিকে শোচনীয় আখ্যা দিয়ে বলে, প্রতি দুবছরেই এমন ঘটনা ঘটছে এবং আমাদের এর মুখোমুখি হতে হচ্ছে।
আদালত সলিসিটর জেনারেলকে নির্দেশ দেয় যে তিনি যেন কেন্দ্রীয় সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে শিক্ষার্থীদের জন্য হোস্টেল সুবিধা উল্লেখযোগ্যভাবে সম্প্রসারণের প্রয়োজনীয়তাটি জোরালোভাবে তুলে ধরেন।
আদালত মন্তব্য করে যে, হোস্টেল খাতে বিনিয়োগ আসলে দেশের তরুণ সমাজ ও ভবিষ্যতের মধ্যেই বিনিয়োগের শামিল। হতাহত এবং ধ্বংসস্তূপের নীচে আটকা পড়ার আশঙ্কায় থাকা শিক্ষার্থীদের কথা উল্লেখ করে আদালত বলে, ৫০ জন তরুণ শিক্ষার্থী, যারা সবেমাত্র নিজেদের জীবনের পথে পা রাখতে যাচ্ছিল, তারাই ভুক্তভোগী। এক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষ কোনোভাবেই তাদের দায় এড়াতে পারে না।
হাইকোর্ট কেন্দ্রীয় সরকার, দিল্লি সরকার, পুরনিগম এবং জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের কাছে এবিষয়ে প্রতিবেদন তলব করেছে এবং ভবিষ্যতে এধরনের ঘটনা রোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।
দিল্লি পুরনিগম, কেন্দ্রীয় সরকার ও দিল্লি পুলিশের পক্ষে সলিসিটর জেনারেল যে সব সম্ভাব্য পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন, আদালত তা আমলে নিয়েছে। আদালত বলেছে, আমরা আশা করি উদ্ধারকাজ আরও জোরদার করা হবে যাতে মানুষের জীবন বাঁচানো সম্ভব হয়।
সলিসিটর জেনারেল আদালতের কাছে এমন একটি নির্দেশ জারির অনুরোধ জানান যাতে আটকা পড়া ও মৃত শিক্ষার্থীদের ভিডিও প্রচার বা ছড়িয়ে দেওয়া বন্ধ করা যায়। আদালত জানিয়েছে যে তারা এই অনুরোধটি বিবেচনা করবে।
এই মর্মান্তিক ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে, তা আদালত রাজ্য সরকারের কাছে জানতে চেয়েছে এবং পিজি আবাসনগুলোর ক্ষেত্রে কঠোর নিয়মকানুন বা নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছে। আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর এই মামলার পরবর্তী শুনানি।