নিউজ ডেস্ক: তামিলনাড়ুতে হাতি পাঠানো নিয়ে অসম জুড়ে বিতর্কের মাঝেই আরও একটি হাতিকে পাঠানো হচ্ছে তামিলনাড়ুকে। ৫ বছরের মাদী হাতি বিজুলিকে পাঠানো হবে তামিলনাড়ুর কাঞ্চিপুরমে কামাকোটি গজশালায়। ৪ সেপ্টেম্বর বনবিভাগের সরকারি নথিতে একথা বলা হয়েছে।
বনবিভাগের প্রধান মুখ্য সংরক্ষক ও প্রধান বন্যপ্রাণী ওয়ার্ডেন রাকেশ কুমার ডোগরার ডিজিটাল স্বাক্ষরিত এই নথিতে অসমের পাঁচটি পোষা হাতির তালিকা রয়েছে, যাদের তামিলনাড়ুর বিভিন্ন স্থানে পাঠানোর প্রস্তাব রয়েছে।
তালিকায় ‘বিজুলি’ নামের হাতির মালিক হিসেবে অসমের প্রয়াত পেনা মরানের পুত্র হিতেশ্বর মরানের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। হাতিটির মাইক্রোচিপ নম্বর হিসেবে ০0০৮১৭৬১০৩ নথিভুক্ত রয়েছে।
এই তালিকায় রয়েছে পুণ্য পেগুর মালিকানাধীন পাঁচ বছর বয়সি মাদী হাতি ‘দুর্গা’ মাদুরাইয়ের মীনাক্ষী আম্মান মন্দিরে স্থানান্তরের প্রস্তাব, শামসুল হকের মালিকানাধীন আট বছর বয়সি পুরুষ হাতি ‘হীরালাল’ এবং মুখেশ্বর মরানের মালিকানাধীন ছয় বছর বয়সি পুরুষ হাতি ‘শিব’, উভয়কেই তিরুবন্নামালাইয়ের আরুলমিগু অরুণাচলেশ্বরর মন্দিরে স্থানান্তরের প্রস্তাব করা হয়েছে, এবং পিয়াল মরানের মালিকানাধীন ১৩ বছর বয়সি পুরুষ হাতি ‘রূপসিং’, নাগাপট্টিনামের ভাইথিশরণ কোইলের শ্রী বৈদ্যনাথ স্বামী মন্দিরে স্থানান্তরের প্রস্তাব।।
নথিতে অবশ্য এটা উল্লেখ করা হয়নি যে ওই পাঁচটি হাতিকে ইতিমধ্যেই স্থানান্তর করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে যে, প্রস্তাবিত স্থানগুলোতে সুযোগ-সুবিধার বিষয়ে বিস্তারিত তদন্ত ও সরেজমিন যাচাই-বাছাইয়ের জন্য আবেদনগুলো সংশ্লিষ্ট জেলা-স্তরের ‘বন্দি হাতি কল্যাণ কমিটি’র কাছে পাঠানো হয়েছে।
পাশাপাশি, সংশ্লিষ্ট জেলা বন আধিকারিক, উপ-অধিকর্তা বা বন্যপ্রাণী ওয়ার্ডেনকে বন্দি হাতি, স্থানান্তর বা পরিবহণ, বিধি ২০২৪-এর অধীনে ফর্ম-৩-এ সুপারিশ জমা দেওয়ার জন্যও বলা হয়েছে।
প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য চিঠি হাতে পাওয়ার পর থেকে ১৫ দিনের সময়সীমা নির্ধারণ করেছে সংশ্লিষ্ট বিভাগ।
বন্যপ্রাণী সংরক্ষণকারী বিভিন্ন গোষ্ঠীর দৃষ্টি আকর্ষণ করা ‘দুর্গা’র স্থানান্তরের ঘটনার কিছুদিনের মধ্যেই ‘বিজুলি’কে স্থানান্তরের এই প্রস্তাবটি এসেছে। বন বিভাগের একই নথিতে মাদুরাইয়ের মীনাক্ষী আম্মান মন্দিরে স্থানান্তরের জন্য প্রস্তাবিত হাতিদের তালিকায় ‘দুর্গা’র নামও রয়েছে।
গোলাঘাট জেলায় ‘গায়ত্রী’ নামের পাঁচ বছর বয়সি আরেকটি হাতিকে মাঝপথে আটকে দেওয়ার ঘটনার পর থেকে অসম থেকে বন্দি হাতিদের অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার বিষয়টিও নিবিড় পর্যবেক্ষণের আওতায় এসেছে। উত্তরপ্রদেশের দিকে নিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয় বাসিন্দারা হাতিটিকে আটকে দেন এবং পরবর্তীতে সেটিকে বনবিভাগের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
‘অরণ্য সুরক্ষা সমিতি’ গায়ত্রীর মালিকানা, প্রশিক্ষণ, মাইক্রোচিপের মাধ্যমে শনাক্তকরণ এবং তাকে স্থানান্তরের প্রস্তাবিত প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। এই সংগঠন বনদফতরের বিশেষ প্রধান সচিব এম কে যাদবের বিরুদ্ধেও অভিযোগ এনেছে এবং এবিষয়ে তদন্তের দাবি জানিয়েছে।
সাম্প্রতিক প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে অসমের সংরক্ষণকর্মীরা বন্দি হাতিদের স্থানান্তরের ক্ষেত্রে অনুসৃত প্রক্রিয়াগুলো আরও ভালোভাবে খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে মালিকানা যাচাই, পরিবহণের ব্যবস্থা এবং গন্তব্যস্থলের সুযোগ-সুবিধার বিষয়টি নিশ্চিত করা।
Prev Post
Next Post