নিউজ ডেস্ক: উজান অসমে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য আরও বেশি ত্রাণ ও ক্ষতিপূরণের দাবিতে অনশনে শিবসাগরের বিধায়ক অখিল গগৈ। রাইজর দল-এর সভাপতি অখিল গগৈ অনশন শুরু গুয়াহাটিতে।
দিশপুরের লোকসেবা ভবনের সামনে সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত এই প্রতিবাদ কর্মসূচি চলছিল। যদিও পুলিশ গিয়ে অখিল গগৈকে সরিয়ে দেয়।
বন্যার ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় অসম সরকার ও কেন্দ্রীয় সরকার ব্যর্থ হয়েছে বলে অখিলের অভিযোগ। বন্যাদুর্গত পরিবারগুলোর জন্য ত্রাণ ও পুনর্বাসনের দাবিতে রাইজর দল-এর ধারাবাহিক আন্দোলন ও দাবিরই অংশ হিসেবে এই নতুন প্রতিবাদ কর্মসূচির ডাক দিয়েছিলেন অখিল গগৈ।
অখিলের অভিযোগ, নির্বাচনী প্রচারের সময় বড় বড় প্রতিশ্রুতি দেওয়া সত্ত্বেও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বন্যা-পরবর্তী সময়ে উজান অসমের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেননি কিংবা দুর্গম অঞ্চলের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে আসেননি।
অখিল গগৈ আরও অভিযোগ করেছেন যে, বন্যাদুর্গত মানুষের জন্য কেন্দ্র কোনও বিশেষ সহায়তা করেনি কিংবা বন্যার ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে কোনও বার্তা দেয়নি।
অখিলের মতে, বন্যাদুর্গত বাসিন্দারা যখন সরকারি সহায়তার অপেক্ষায় রয়েছেন, তখন শাসক দলের নেতা, মন্ত্রী ও বিধায়কদের মনোযোগ নগাঁও লোকসভা উপনির্বাচনের দিকে।
শিবসাগরের বিধায়ক অখিল জানান, অনশন কর্মসূচির লক্ষ্য ছিল বন্যাদুর্গত পরিবারগুলোর জন্য ন্যায়বিচার, উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ ও ত্রাণ নিশ্চিত করা। তিনি বলেন, সরকার ঘোষিত সহায়তা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর ক্ষয়ক্ষতির তুলনায় যথেষ্ট নয়।
রাইজর দের’ দাবি, বন্যা-কবলিত প্রতিটি পরিবারকে অবিলম্বে ১৫,০০০ থেকে ২৫,০০০ টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদান করতে হবে। এ ছাড়া, যেসব পরিবার তাদের বাড়িঘর বা সম্পত্তি হারিয়েছে এবং যেসব ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তাদের প্রত্যেকের জন্য ১০ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণেরও দাবি জানিয়েছেন অখিল গগৈ।
রাইজর দলের সভাপতির দাবি, উজান অসমের বন্যার কারণ অনুসন্ধান এবং এর জন্য দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করতে অবিলম্বে সিবিআই তদন্ত করা হোক। এর আগেও তিনি অবৈধ খনন নিয়ে সিবিআই তদন্তের দাবি জানিয়েছিলেন। তাঁর মতে, অবৈধ খননের জন্য বন্যার ভয়াবহতা আরও বেড়েছে।
অসমের মন্ত্রিসভা থেকে জলসম্পদ মন্ত্রী সুশান্ত বরগোহাঁইকে বরখাস্ত করা এবং সোনারির বিধায়ক ধর্মেশ্বর কোঁওয়ার ও নাজিরার বিধায়ক ময়ূর বরগোহাঁইকে গ্রেফতারের দাবিও জানিয়েছেন অখিল গগৈ।
অখিলের হুঁশিয়ারি, অনশন কর্মসূচির পরেও যদি সরকার দাবিগুলো মেনে না নেয়, তবে রাইজর দল ২৩ সেপ্টেম্বর গুয়াহাটিতে আরও বড় আকারের বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করবে।