১৫মে ২০২৬, কলকাতা, দেবারতি ঘোষ: জেলগুলোর ভিতরে চলা অনৈতিক এবং অপরাধমূলক কান্ড নিয়ে কড়া পদক্ষেপ রাজ্য প্রশাসনের। শুক্রবার নবান্ন সভা ঘরে সাংবাদিক সম্মেলন করে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান,প্রেসিডেন্সি জেল চত্বরে তল্লাশি চালিয়ে উদ্ধার হয়েছে মোট ২৩টি মোবাইল ফোন। প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, জেলের ভিতরে বসেই একাধিক বন্দি বাইরের লোকজনের সঙ্গে নিয়মিত ফোনে যোগাযোগ রাখত। এই যোগাযোগের মাধ্যমে কোনও অপরাধচক্র পরিচালিত হত কি না, বা জেলের বাইরে থাকা দুষ্কৃতীদের সঙ্গে কোনও যোগ ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত ভার দেওয়া হলো CID কে।
https://www.facebook.com/share/v/17MG64TNzd
বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজ্যে পুলিশ এর আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠকে উঠে আসে এই তথ্য। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে জেলে সারপ্রাইজ ভিজিট করে তল্লাশি অভিযান চালানো হয়। সেই সময় একের পর এক মোবাইল ফোন উদ্ধার হয় । শুধুমাত্র প্রেসিডেন্সি জেল থেকেই উদ্ধার হয়েছে ২৩টি মোবাইলের মধ্যে বেশকিছু স্মার্টফোনও আছে। কীভাবে এত সংখ্যক মোবাইল জেলের ভিতরে পৌঁছল, তার পিছনে জেল কর্মীদের কোনও যোগ রয়েছে কি না, তাও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
https://www.facebook.com/share/v/14iuDbRHibP
ঘটনার জেরে নড়েচড়ে বসেছে রাজ্য প্রশাসন। রাজ্যের সমস্ত জেল কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করা হয়েছে এবং বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নিরাপত্তা ব্যবস্থায় গাফিলতির অভিযোগে সাসপেন্ড করা হয়েছে প্রেসিডেন্সি জেলের সুপার এম কুঝুর এবং চিফ কন্ট্রোলার দীপ্ত ঘড়ুই কে সাসপেন্ড করা হয়েছে। ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের ঘটনা না ঘটে, তার জন্য সমস্ত জেলার জেলগুলোতে নজরদারি আরও কড়া করার নির্দেশ ইতোমধ্যেই দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
জেলের ভিতর থেকেই অপরাধচক্র পরিচালনার ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং এর পিছনে বড়সড় গাফিলতি রয়েছে বলেও দাবি করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। সন্দেশখালি ঘটনায় অভিযুক্ত শাজাহানের প্রসঙ্গও টেনে আনেন মুখ্যমন্ত্রী। যদিও তার দাবি, এই সমস্ত ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে।