আরজি কর কাণ্ডে ৩ আইপিএস সাসপেন্ড! খতিয়ে দেখা হবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভূমিকাও, জানালেন মুখ্যমন্ত্রী

33

১৫মে ২০২৬, কলকাতা, দেবারতি ঘোষ: ১৮ মে সোমবার দ্বিতীয় মন্ত্রিসভার বৈঠক। সেই বৈঠকেই আরজি কর সহ বেশ কয়েকটি বিষয় নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। একথা আগেই ঘোষণা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। কিন্তু তার আগেই আরজি কর নিয়ে বিশেষ প্রশাসনিক পদক্ষেপ করলেন তিনি। নবান্ন থেকে মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা, আরজি কর তদন্তে কর্তব্যে গাফিলতির অভিযোগে তিন আইপিএস বিনীত গোয়েল, ইন্দিরা মুখোপাধ্যায় এবং অভিষেক গুপ্তকে সাসপেন্ড করা হল। তাঁদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্তও শুরু হবে। এই পর্বে খতিয়ে দেখা হবে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভূমিকাও।

এদিন নবান্নে এই প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের কথা জানাতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে তিনি আরজি কর মামলা নিয়ে মুখ্যসচিব এবং স্বরাষ্ট্র সচিবের কাছে একটি রিপোর্ট চেয়েছিলেন। আরজি কর তদন্ত সে সময় দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ কর্তারা কীভাবে হ্যান্ডেল করেছিলেন তা জানতে চেয়েছিলেন। আপাতত প্রাথমিক একটি অনুসন্ধানের পর এই প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিলাম।’

এই প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, ‘আরজি কর তদন্তের সময় মিসহ্যান্ডলিং, যথাযথ এফআইআর করে পদক্ষেপ করায় অনীহা এবং সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত পুলিশ অফিসারের বিরুদ্ধে রাজ্য সরকারের হয়ে নির্যাতিতার পরিবারকে ঘুষ দেওয়ার চেষ্টার মতো ঘটনা সামনে এসেছে। ফলে এই তদন্তে যাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তাঁদের সাসপেন্ড না করে সঠিক তদন্ত সম্ভব নয়।’

এই প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আরও বলেন, ‘সাসপেন্ডেড আইপিএসদের হোয়াটস অ্যাপ চ্যাট খতিয়ে দেখা হবে। তাদের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী বা অন্য মন্ত্রীরা কোনও নির্দেশ দিয়েছিলেন কিনা তাও খতিয়ে দেখা হবে।’

এদিন সাসপেন্ডেড আইপিএস ইন্দিরা মুখোপাধ্যায় প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘কলকাতা পুলিশের তৎকালীন ডিসি একটি সাংবাদিক সম্মেলন করেছিলেন। সে সময় তাঁর ভাষা এবং শরীরী ভাষা কোনওটাই সুখকর ছিল না। তথ্য নিয়ে দেখা গিয়েছে, তিনি স্বরাষ্ট্র দফতরের কোনও মুখপাত্র ছিলেন না। এমনকি তাঁকে লিখিতভাবে সাংবাদিক সম্মেলন করার জন্য কোনও নির্দেশও দেওয়া হয়নি। কেউ মৌখিকভাবে তাঁকে এই সাংবাদিক সম্মেলন করতে বলেছিলেন। সেটাই তদন্তে খতিয়ে দেখা হবে।’

আরজি কর কাণ্ডের সময় কলকাতার পুলিশ কমিশনার ছিলেন বিনীত গোয়েল। সে সময় তাঁর পদত্যাগের জোরালো দাবি ওঠে। কিন্তু সরকার তৎক্ষণাৎ কোনও পদক্ষেপ না করলেও বেশ কিছুদিন পরে তাঁরে ওই পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। বর্তমানে বিনীত গোয়েল ডিজি(আইবি) পদে কাজ করছেন। সাসপেন্ডেড আইপিএস অভিষেক গুপ্ত আরজি কর কাণ্ডের সময় কলকাতা ডিসি(নর্থ) ছিলেন। তিনি এখন ইএফআরের কমাডান্ট পদে রয়েছে। আরজি কর কাণ্ডের সময় ইন্দিরা মুখোপাধ্যায় কলকাতা পুলিশের ডিসি(সেন্ট্রাল) পদে ছিলেন। বর্তমানে তিনি সিআইডির স্পেশাল সুপারিনটেনডেন্ট পদে রয়েছেন।