প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ মেনে বিধানসভায় সাইকেল চালিয়ে বিধায়ক

50

১৪ মে , কলকাতা : বাংলার বিধানসভায় অভিনব কাণ্ড। চলছে বিধায়কদের শপথগ্রহণ। সেখানেই সাইকেল নিয়েই হাজির হলেন হলদিয়ার বিধায়ক প্রদীপকুমার বিজলী। পার্ক স্ট্রিট এলাকার কিড স্ট্রিটের এমএলএ হস্টেল থেকে দীর্ঘ আড়াই কিলোমিটার পথ সাইকেলে পাড়ি দিয়ে বিধানসভায় এলেন বিজেপি বিধায়ক।

পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতিতে বেড়ে গিয়েছে অপরিশোধিত তেলের দাম। দিন কয়েক আগেই বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় করতে জ্বালানি সংরক্ষণের একগুচ্ছ পরামর্শ দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী। ব্যক্তিগত গাড়ির ব্যবহার কমিয়ে গণপরিবহণে যাতায়াত, কোভিড পরিস্থিতির মত ওয়ার্ক ফর হোম ফের চালু, অপ্রয়োজনীয় বিদেশ সফর বন্ধের কথা বলেছিলেন নরেন্দ্র মোদী। শুধু তাই নয়, মন্ত্রী ও অফিসারদের কনভয়ে গাড়ির সংখ্যা কমাতেও আর্জি জানিয়ে ছিলেন।

হলদিয়ার বিধায়ক বলছেন, প্রধানমন্ত্রীর আবেদনে সাড়া দিয়েই তিনি এমএলএ হস্টেল থেকে চলে গিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায়। জ্বালানি সাশ্রয়ে মোদীর বার্তায় সাড়া দেওয়ার জন্য তাঁকে সাধুবাদ জানিয়েছেন তাঁর সহকর্মীরা। বিরোধী দলের তরফেও মিলেছে শুভেচ্ছা।

তবে সাইকেল নিয়ে সংসদে যাওয়ার নজির ভূরি ভূরি। ২০২৪ সালের ২৫ নভেম্বর দিল্লির বায়ুদূষণের প্রতিবাদ জানিয়ে সাইকেল চালিয়ে সংসদে হাজির হয়েছিলেন তেলুগু দেশম পার্টির সাংসদ আপ্পালা নাইডু কালিশেট্টি। সেদিন থেকেই শুরু হয়েছিল সংসদের শীতকালীন অধিবেশন। ২০২১ সালে রান্নার গ্যাস ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে ৩ আগস্ট সংসদে সাইকেল চালিয়ে হাজির হয়েছিলেন কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধী। সঙ্গে ছিলেন বিরোধী দলের একাধিক নেতা। দিল্লির কনস্টিটিউশন ক্লাবে বিরোধী নেতাদের সঙ্গে প্রাতরাশের বৈঠকের পর, প্রতীকী প্রতিবাদের নেতৃত্ব দেন রাহুল গান্ধী।

সাইকেল চালিয়ে প্রতীকী প্রতিবাদের নজির রেখেছেন তৃণমূলের প্রতিনিধিরা। ২০২১ সালের ১৮ জুলাই। দিল্লির সাউথ অ্যাভিনিউয়ে তৃণমূলের দলীয় কার্যালয় থেকে সাইকেল চালিয়ে ডেরেক ও’ব্রায়েন, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, অর্পিতা ঘোষ, নাদিমুল হক, শান্তনু সেন, আবীররঞ্জন বিশ্বাস-সহ অন্তত ৮ জন সংসদ অভিমুখে রওনা হন। পেট্রোপণ্যের দাম বৃদ্ধি নিয়ে স্লোগান লেখা সাদা জামা পরে রওনা হন তাঁরা। তবে সংসদে ঢোকার আগেই তাঁদের আটকে দেওয়া হয়।

এবার প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানি সাশ্রয় নিয়ে বার্তার পর সাইকেল চালিয়ে নিজের দফতরে গিয়ে নজির গড়েছেন মধ্য প্রদেশ হাইকোর্টের বিচারপতি দ্বারকাধীশ বানসল। জবলপুরে বিচারপতি বানসলের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে সমাজমাধ্যমে আলোচনা কম হয়নি।

তবে সাইকেল ছাড়া রিকশায় বিধানসভা যাওয়ারও নজির রয়েছে। গত বছর, ১৮ ফেব্রুয়ারি খেটে খাওয়া শ্রমজীবী মানুষের প্রতিনিধি হিসেবে ও নিজের পুরনো পেশাকে সম্মান জানিয়ে প্যাডেল রিকশা নিয়ে বিধানসভায় যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন বলাগরের তৎকালীন বিধায়ক মনোরঞ্জন ব্যাপারী। সকাল ৯টায় তিনি বের হন এমএলএ হস্টেল থেকে। তবে ট্রাফিক বিধির কারণে গোটা পথ তিনি যেতে পারেননি। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর বার্তাকে মাথায় রেখেই সেই প্যাডেল করে দুচাকা নিয়ে সেই বৃত্তটাই কার্যত সম্পূর্ণ করলেন হলদিয়ার প্রদীপকুমার বিজলী।