নন্দীগ্রামে বিধায়ক পদে ইস্তফা শুভেন্দুর, স্পিকারকে দিলেন পদত্যাগপত্র

38

১৫ মে, কলকাতা, রণজয় মুখোপাধ্যায় : জল্পনা ছিলই, আর সেই জল্পনাকেই সত্যি করে নন্দীগ্রামে বিধায়ক পদ থেকে ইস্তফা দিলেন শুভেন্দু অধিকারী। এবার নির্বাচনে ভবানীপুর ও নন্দীগ্রাম থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন শুভেন্দু। ভবানীপুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও নন্দীগ্রামে তৃণমূলের পবিত্র করকে হারিয়ে বিধানসভায় আসেন তিনি। সে ক্ষেত্রে তাঁকে একটি আসন থেকে পদত্যাগ করতেই হতো। মুখ্যমন্ত্রী নন্দীগ্রাম থেকেই ইস্তফার সিদ্ধান্ত নিলেন।

নন্দীগ্রামের সঙ্গে যোগাযোগ শুভেন্দু অধিকারীর দীর্ঘদিনের। ২০০৬-২০০৭ সালে বামফ্রন্ট সরকারের আমলে পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রামে শিল্পায়নের জন্য জমি অধিগ্রহণের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে গড়ে ওঠে। ভূমি উচ্ছেদ প্রতিরোধ কমিটি তৈরি হয়। সেই কমিটির নেতৃত্ব দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সে সময় তৃণমূলে ছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। কাঁথি দক্ষিণ কেন্দ্রের বিধায়ক। নিজের জেলা হওয়ার কারণে সেখানে সরকার বিরোধী আন্দোলনে অন্যতম নেতা হয়ে ওঠেন তিনি।

এরপর হলদি নদী দিয়ে বয়ে গিয়েছে অনেক জল। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী থেকে রাজ্যের মন্ত্রী হয়েছেন তিনি। ২০২০ সালে তৃণমূলের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে ২০২১-এ নন্দীগ্রাম থেকেই বিজেপির টিকিটে জয়ী হন তিনি। তারপর পশ্চিবঙ্গ বিধানসভায় বিরোধী দলনেতার ভূমিকা।

এবারের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বারবার তিনি ভবানীপুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছিলেন। বিজেপির তরফে তাঁকে দুই জায়গা থেকে প্রার্থী করা হয়। নন্দীগ্রাম এবং ভবানীপুরে দুই কেন্দ্রেই জয়ী হন তিনি। সে কারণেই তাঁকে একটি কেন্দ্র থেকে ইস্তফা দিতেই হতো।

নন্দীগ্রাম আসন থেকে ইস্তফা দেওয়ার পরই তাঁর আশ্বাস, ‘নন্দীগ্রামের প্রত্যেকটি ভোটারের কাছে আমার আবেদন, বিধায়ক অন্য কেউ নির্বাচিত হলেও দায়-দায়িত্ব-স্বপ্নপূরণ, আশা-ভাল রাখা, ভাল-মন্দে থাকা, উৎসব-উন্নয়নে থাকা সহ বিধায়ক পরিষেবা কার্যালয় সমস্ত রকমের পরিষেবা আপনারা পাবেন। আপনাদের বন্ধু শুভেন্দু আপনাদের সঙ্গেই থাকবে। প্রত্যেক বছর নির্দিষ্ট দিনে দেখা হবে।’

২০২১ সালে নন্দীগ্রামে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরাজয়ের পর পাইপলাইনের কাজ বন্ধ রাখার অভিযোগ তোলে বিজেপি। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, শুক্রবারই তিনি ৪ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প চালু করে দিয়েছেন।

শুক্রবারই অধিবেশন শেষ হওয়ার পর বিজেপি বিধায়কদের সঙ্গে বৈঠক করেন শুভেন্দু অধিকারী। এরপরই মুখ্যমন্ত্রী জানান, ভোটের আগেই প্রতিশ্রুতি দিয়ে ছিলেন জনতা জনার্দনের আবেদন মাথায় রেখেই সমস্ত উন্নয়নের কাজ হবে। সেই মত ১ জুন থেকে ‘জনতার দরবার’ করার ঘোষণা করেছেন শুভেন্দু অধিকারী।