১৯ মে গুয়াহটি: অসমে হিমন্তবিশ্ব শর্মা। মুম্বইয়ে একনাথ শিণ্ডে। বাংলায় শুভেন্দু অধিকারী। রাজনীতিতে সুঁচ হয়ে ঢুকে ফাল হয়ে বেরনোর রাজনীতিতে বিজেপির মুন্সিয়ানার কাছে ‘শিশু’ দেশের অন্য রাজনৈতিক দলগুলি। প্রথমে হাত ধরে সখা সখা ভাব দেখানো, তারপর সময়-সুযোগ বুঝে গিলে ফেলা। সদ্য ছাব্বিশের নির্বাচনে পরাজয়ের পর এই উপলব্ধি বোধহয় তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের থেকে বেশি আর কে বুঝতে পারছেন!
সদ্য তেলেঙ্গানা সফরে গিয়ে খোদ প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য ঘিরে রাজনীতিতে শোরগোল। তেলেঙ্গনার মুখ্যমন্ত্রী রেবন্ত রেড্ডিকে উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘আপনি যেখানে পৌঁছতে চাইছেন সেখানে পৌঁছতে পারবেন না। তার চেয়ে ভালো আপনি আমাদের সঙ্গে আসুন’। মোদীর এই মন্তব্য তেলুগু রাজনীতিতে কার্যত তুফান তুলেছে। এমনকি নিজামের শহরে যাওয়া পর্যটকদের কাছে বিখ্যাত হায়দরাবাদি বিরিয়ানির সুবাসও স্থানীয় রাজনীতির আলোচনার কাছে কিছুটা যেন ফিকে।
অঙ্গ বঙ্গ কলিঙ্গ জয় হয়ে গিয়েছে। এবার বিজেপির টার্গেট দক্ষিণের তেলেঙ্গানা। সাম্প্রতিক ভোটে পূর্বঘাটের পাথুরে মাটিতে শিকড় অনেকটাই চারিয়েছে তারা। সামনেই হায়দরাবাদ পুরনিগমের ভোট। সেই ভোটে কার্যত একটা সেমিফাইনাল। ২ বছর বাদে বিধানসভা নির্বাচন। মোদীর মন্তব্য ঘিরে আলোচনার মধ্যেই রাজনীতির উত্তাপ আরও কয়েক ডিগ্রি বাড়িয়ে দিয়েছেন নিজামাবাদের বিজেপি সাংসদ ধরমাপুরী অরবিন্দ।
অরবিন্দের চমকে দেওয়া দাবি, ‘তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে শুভেন্দু অধিকারী যা করেছেন, সেটাই কংগ্রেসের সঙ্গে করতে পারেন রেবন্ত রেড্ডি।’ নিজামাবাদের সাংসদের আরও দাবি, তেলেঙ্গানায় কংগ্রেসের বহু প্রবীণ কংগ্রেস নেতার সঙ্গে অন্যায় করা হয়েছে। তারই প্রভাব পড়বে পরের বিধানসভা নির্বাচনে। বিজেপি সাংসদের ভবিষ্যদ্বাণী, পরেরবার তেলেঙ্গানায় খুব খারাপভাবে কংগ্রেসের পরাজয় হবে।
বিজেপি যে দাবিই করুক না কেন স্বাভাবিকভাবেই প্রকাশ্যে আমল দিতে রাজি নয় কংগ্রেস। কিন্তু আলোচনা থামছে কই? সরকারি অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর ইঙ্গিতপূর্ণ ও তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্যের জবাবে শুধুই মুচকি হাসি হেসেছেন রেবন্ত রেড্ডি। এই মুচকি হাসির আড়ালে আসলে কী? জানেন শুধু রেবন্তই।