অঞ্জন দে, বীরভূম: বালি চুরি, কয়লা চুরির পর এবার তৃণমূলের বিরুদ্ধে পাথর খাদান থেকে রাজস্ব চুরিরও অভিযোগ তুলল বিজেপি। ১৫ বছরে তৃণমূল কংগ্রেসের আমলে শুধু মাত্র বীরভূমেই প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকার সরকারি রাজস্ব লুঠ হয়েছে বলে বিস্ফোরক অভিযোগ সিউড়ির বিজেপি বিধায়ক জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়ের। মঙ্গলবার বীরভূমের সিউড়িতে সাংবাদিকের এ কথা জানান তিনি। পাশাপাশি এই রাজস্ব যারা লুঠ করেছে তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার দাবিও জানিয়েছেন সিউড়ির বিজেপি বিধায়ক । এব্যাপারে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কাছে দরবার করবেন বলেও জানান জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়।
বীরভূমের পাথর শিল্পকে ঘিরে DCR বা ডিমান্ড কালেকশন রেজিস্টার নিয়ে বড়সড় কেলেঙ্কারির অভিযোগ তুললেন সিউড়ির নবনির্বাচিত বিজেপি বিধায়ক।
তার অভিযোগ বেসরকারি সংস্থার মাধ্যমে DCR দিয়ে সরকারি রাজস্ব আদায় করতো একটি বেসরকারি সংস্থা। তারা প্রতিদিন সরকারি কোষাগারে গড়ে ১৯ লাখ টাকা জমা দিত। রাজ্যে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর রাজ্য সরকারের ভূমি ও ভূমি রাজস্ব দফতর নিজে রাজস্ব আদায় শুরু করে। এই নতুন ব্যবস্থা ১৭ মে থেকে শুরু হয়। প্রথম দিনই রাজস্ব বাবদ আয় হয় ১ কোটি ২০ লক্ষ টাকা। দ্বিতীয় দিনে রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ বেড়ে হয় ২ কোটি ৩০ লক্ষ টাকা। রাজ্য সরকারের আশা রাজস্বের পরিমাণ দৈনিক তিন কোটি টাকা পর্যন্ত হতে পারে। মাত্র দু’দিনেই রাজস্ব আদায়ের অঙ্ক দেখে প্রশাসনের চোখ কপালে উঠেছে। সেই বিশাল অর্থ রাজস্ব আদায়ের পরেই নড়েচড়ে বসেন বিজেপির সিউড়ির বিধায়ক জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়। সাংবাদিক বৈঠক করে ১৫ বছরে তৃণমূল আমলে ১০ হাজার কোটি টাকার সরকারি রাজস্ব লুঠের অভিযোগ তুললেন তিনি।
জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়ের দাবি ব’র্তমানে যদি মাসে ৯০ কোটি টাকা DCR থেকে আদায় সম্ভব হয়, তাহলে আগে মাসে ২০ থেকে ২৫ কোটি টাকা আদায়ের অর্থ হল প্রতি মাসে ৬০ থেকে ৭০ কোটি টাকার গরমিল হয়েছে। সেই হিসেবে ধরলে গত ১৫ বছরে রাজ্যের রাজস্ব ক্ষতির পরিমাণ ১০ হাজার কোটি টাকারও বেশি হতে পারে।’ পুরো ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন সিউড়ির বিজেপি বিধায়ক। এ ব্যাপারে বীরভূমের তৃণমূল জেলা সহ সভাপতি মলয় চট্টোপাধ্যায়কে ফোন করা হলে তিনি ফোন ধরেননি।