বিপুল ভেজাল সস উদ্ধার! দেখতে টমেটোর সসের মতোই, কী কী মেশানো হয়

7

নিউজ ডেস্ক:রেস্তারাঁ কিংবা ফুটপাতের ফাস্ট ফুডের দোকানে দেদার খাচ্ছেন। টকটকে গাঢ় লাল সস মিশিয়ে কখনও চাউমিন কখনও এগরোল গপগপ করে গিলছেন। জিভের স্বাদে যা খেলেন তা বিষ নয় তো? বিশেষ করে টমেটোর সস ভেবে যেটাকে খাবারে মিশিয়ে খাচ্ছেন তা কি সত্যিই টমেটোর সস? দোকান থেকে বাড়িতেও যে সসের বোতল আনছেন। সেই সসটা ভেজাল কিনা তা কে জানতে পারবে? খাবারের ছলে আপনার ছোটো সন্তানের গালেও হয়ত কখনও দিয়েছেন সেই সস। কিন্তু নিজের অজান্তেই শিশুর গালে বিষ দিয়ে দিলেন না তো? সম্প্রতি সস তৈরির কারখানা থেকে ড্রাম-ড্রাম ভেজাল সস উদ্ধারের পর দেশজুড়ে শোরগোল পড়েছে।

কীভাবে তৈরি হচ্ছে ভেজাল সস?
গাজর, স্টার্চ, চিনি, নুন, সোডিয়াম বেঞ্জোয়েট এবং অখাদ্য রঙ দিয়ে তৈরি করা হচ্ছিল টমেটোর সসের মতো দেখতে এই সস।
খাবারে অধিক পরিমাণে রঙ মেশানো হত।
যে রঙ মেশানো হয় তা খাবার জন্য উপযুক্তই নয়।
এই সসের নমুনা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।

এই ভেজাল সসের বোতলই বাজারে চলে যেত।

সম্প্রতি এই ভেজাল সসের কারখানায় হানা দেয় উত্তর প্রদেশ পুলিশের একটি টিম। খাদ্যে অস্বাস্থ্যকর জিনিস মেশানো, ভেজাল রুখতে গিয়ে সসের কারখানায় ড্রাম ড্রাম ভেজাল মাল উদ্ধার করল পুলিশ। উত্তরপ্রদেশের খাদ্য সুরক্ষা বিভাগের টিম সম্প্রতি অভিযান চালিয়ে এই ভেজাল মাল উদ্ধার করে। চণ্ডী রোড এলাকায় মেরঠ গেট পুলিশ চৌকির পাশেই চলছিল এই বেআইনি সস তৈরির কারখানা। দোকানের উপর একটি ঘরে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে সস তৈরি চলছিল। সেই সমস্ত ড্রাম ভর্তি সস নষ্ট করেছে তদন্তকারীরা। গোপন সূত্রে পুলিশ খবর পায় এই এলাকায় ভেজাল সস তৈরি হচ্ছে। তেজেন্দ্র সিং নামে এক ব্যক্তির দোকানের উপরে চলছিল এই বেআইনি কাজ।

৩ ড্রামে প্রায় ২৩৫ কিলো গ্রাম ভেজাল সস উদ্ধার করে তা নষ্ট করেছে তদন্তকারীরা। পাশাপাশি এই কারখানা থেকে মিলেছে ৩৬০টি ভেজাল সসের সিল বোতল। সমস্ত মাল সিজ করেছে পুলিশ। যার বাজার মূল্য আনুমানিক ২২ হাজার ৬৮০ টাকা। এছাড়াও ড্রাম ভর্তি ২৩৫ কিলো গ্রাম সস নষ্ট করা হয়েছে। ভেজাল খাবার রুখতে উত্তরপ্রদেশজুড়ে এই ধরনের অভিযান চলবে বলে জানিয়েছেন তদন্তকারীরা।