কলকাতা, পৃথা দাশগুপ্ত: হাওড়া স্টেশন সংলগ্ন বঙ্কিম রোডের হকার উচ্ছেদের উপর অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ কলকাতা হাইকোর্টের। জুন মাসের শেষ অবধি এই নির্দেশ কার্যকর থাকবে।
প্রায় ৪০ দিনের স্বস্তি পেলেন হাওড়া স্টেশন সংলগ্ন এলাকার হকাররা। এই সংক্রান্ত মামলায় এদিন আদালত একগুচ্ছ নির্দেশ দিয়েছে। বিচারপতি বিচারপতি হিরণ্ময় ভট্টাচার্যের নির্দেশ, ‘ হকারদের আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য শুনানি করতে হবে রেল কর্তৃপক্ষকে। ওই শুনানিতে উপস্থিত থাকবেন হুগলি নদী জলপথ পরিবহনের প্রতিনিধি। শুনানির পরে উচ্ছেদ সম্পর্কিত বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে রেল কর্তৃপক্ষ। সেই সিদ্ধান্ত রিপোর্ট আকারে হাইকোর্টে জমা করতে হবে। মামলার পরবর্তী শুনানি ১০ই জুন।
এদিন আদালতে আবেদনকারীদের হয়ে সওয়াল করেন প্রাক্তন সাংসদ ও সিপিএম নেতা বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য। আদালতকে তিনি বলেন, ‘পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অধীনস্থ হুগলি নদী জলপথ পরিবহনকে ভাড়া দিয়েই হকাররা দোকান করেছে। নিয়মিত তাদেরকে ভাড়া দেওয়া হয় এবং ভাড়ার রসিদ রয়েছে। আবেদনকারী ব্যবসায়ীদের ট্রেড লাইসেন্স, জিএসটি এবং সার্ভিস ট্যাক্সের রেজিস্ট্রেশনও রয়েছে। এই বিষয়ে হুগলি নদী জলপথ পরিবহণের পক্ষ থেকে রেল কর্তৃপক্ষকেও জানানো হয়েছিল এবং তাদের অনুমোদন ছিল। রেল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে যে নোটিস দেওয়া হয়েছে সেই নোটিসে কোন স্বাক্ষর নেই। নোটিসগুলি দেওয়ালে সাঁটিয়ে দেওয়া হয়েছে, ব্যক্তিগতভাবে কাউকে দেওয়া হয়নি। আদালত এ বিষয়ে অবিলম্বে হস্তক্ষেপ করুক এবং এই নোটিসকে বাতিল বলে ঘোষণা করুক।’
এরপরই বিচারপতি হিরণ্ময় ভট্টাচার্যের কড়া প্রশ্নের মুখে পড়েন রেলের আইনজীবী। তাঁকে উদ্দেশ্য করে বিচারপতি বলেন, ‘আপনাদের এত দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের কারণ কি? হঠাৎ এই ধরনের উদ্যোগের প্রয়োজন হচ্ছে কেন? আপনারা কি কোন প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য এই উচ্ছেদ করছেন?’
জবাবে রেলের আইনজীবী কুমারজ্যোতি তিওয়ারি বলেন, ‘২০২৪ সালে অমৃত ভারত প্রকল্পে রেলওয়ে স্টেশনগুলিকে পরিচ্ছন্ন রাখার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। তার মধ্যে হাওড়া স্টেশন থেকেও চিহ্নিত করা হয়েছে।’