নিউজ ডেস্ক: সোনারপুরে মৃত কর্মীর বাড়ি যাওয়ার পথে নজিরবিহীন জনরোষের মুখে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়; ছোড়া হল ডিম-জুতো, ছিঁড়ল জামা। পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ ২৪ পরগনার সোনারপুরে এক নিহতের পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এই চরম হেনস্থার শিকার হন।ঘটনার প্রেক্ষাপটবিধানসভা নির্বাচনের ফলপ্রকাশের পর, ৩০ মে ২০২৬, শনিবার প্রথমবার রাজনৈতিক কর্মসূচিতে রাস্তায় নামেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বেলেঘাটা এবং সোনারপুরের ‘আক্রান্ত ও নিহত’ দুই তৃণমূল কর্মীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে যাচ্ছিলেন। সোনারপুরের কামরাবাদে সঞ্জু নামের এক প্রয়াত তৃণমূল কর্মীর বাড়িতে যাওয়ার কথা ছিল তাঁর।যেভাবে শুরু বিক্ষোভকলকাতা লাগোয়া পাটুলির ঢালাই ব্রিজ থেকে সোনারপুরের কামরাবাদ পর্যন্ত রাস্তার বিভিন্ন মোড়ে কালো পতাকা হাতে বিক্ষোভ দেখাচ্ছিলেন বিজেপি কর্মী-সমর্থক এবং স্থানীয় বাসিন্দারা। ভিড় এবং বিক্ষোভ এড়াতে চারচাকা গাড়ি ছেড়ে এক তৃণমূল কর্মীর মোটরসাইকেলে সোনারপুরে যাওয়ার চেষ্টা করেন অভিষেক। কিন্তু তিনি বাইকে চড়তেই পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।
https://www.facebook.com/share/v/1Cbvht2bTw
উত্তেজিত জনতা এবং বিক্ষোভকারীরা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাইকটি ঘিরে ধরে ধাক্কা মারতে শুরু করে। চারপাশ থেকে ধেয়ে আসে ‘চোর চোর’ ও ‘গো ব্যাক’ স্লোগান। তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সভাপতিকে লক্ষ করে একের পর এক কাঁচা ডিম, জুতো, ঝাঁটা ও ঢিল ছোড়া হয়। নিরাপত্তারক্ষীরা তাঁকে আড়াল করার আপ্রাণ চেষ্টা করে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে মাথায় ক্রিকেট ব্যাটসম্যানের হেলমেট পড়তে দেখা যায়। সেই হেলমেটের ওপরেও অনবরত ডিম এসে আছড়ে পড়ে। বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিরাপত্তারক্ষীদের ধস্তাধস্তি বেঁধে যায় । ধাক্কাধাক্কিতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় জামা ছিঁড়ে যায় এবং মাথার হেলমেটও খুলে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়।

https://www.facebook.com/share/v/1N45EKymzv
চরম নাটকীয় পরিস্থিতির মধ্যে একটি নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিয়ে তীব্র ক্ষোভ উগরে দেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, মৃত কর্মীর বাড়িতে আসার আগে পুলিশ প্রশাসনকে ইমেল মারফত সব জানানো হয়েছিল। তা সত্ত্বেও তাঁর সুরক্ষায় কোনো পুলিশ ফোর্স মোতায়েন ছিল না । ডায়মন্ড হারবারের তৃণমূল সাংসদ স্পষ্ট জানান, পর্যাপ্ত পুলিশ বাহিনী না আসা পর্যন্ত তিনি ওই স্থান থেকে নড়বেন না। গোটা বিষয়টি নিয়ে তিনি কলকাতা হাইকোর্ট এবং সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হবেন এবং নিজে পিটিশনার হিসেবে মামলা লড়বেন।
রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়াএই নজিরবিহীন আক্রমণ ও জনরোষের ঘটনাকে কেন্দ্র করে তপ্ত হয়ে উঠেছে বাংলার রাজনৈতিক মহল। তৃণমূলের পক্ষ থেকে একে ‘বিজেপির ডবল ইঞ্জিন মডেলের গুন্ডাগিরি’ ও পূর্বপরিকল্পিত হামলা বলে আখ্যা দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, বিরোধী শিবিরের দাবি, এটি কোনো রাজনৈতিক দলের কাজ নয়, বরং সাধারণ মানুষের জমে থাকা ক্ষোভের স্বতস্ফূর্ত বহিঃপ্রকাশ।