আগাম জামিনের আবেদন জানিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ অনুব্রত মন্ডল

20

পৃথা দাশগুপ্ত,কলকাতা:মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ছেড়ে ঋতব্রত শিবিরে যোগ।‌ তারপর‌ই কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ অনুব্রত মণ্ডল।‌ ঋতব্রত শিবিরের সঙ্গে বৈঠকের পর নিজের পদ ফিরে পেয়েছেন তিনি। বীরভূম জেলা তৃণমূলের পদে স্বমহিমায় ময়দানে নেমে দায়িত্ব পালন করছেন। তবে আজ তিনি মূলত বীরভূমের ইটভাটা লুঠ মামলায় গ্রেফতারির ভয়ে কলকাতা হাইকোর্টের কাছে আগাম জামিনের আবেদন করেছেন । কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের এজলাসে মামলা করেছেন অনুব্রতর আইনজীবী। এর আগে তিনি এই মামলায় আগাম জামিন চেয়ে সিউড়ি জেলা আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। কিন্তু সেখান থেকে তাঁকে খালি হাতে ফিরতে হয়।

অভিযোগকারী বোলপুরের ত্রিসুলাপট্টির বাসিন্দা শুভেন্দু মণ্ডল। পেশায় ব্যবসায়ী শুভেন্দু দীর্ঘ ৩৫ বছর ধরে ওই এলাকায় ইটের ব্যবসা চালাচ্ছেন। অভিযোগ, ২০২১ এ বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যে তৃণমূল ক্ষমতায় আসার পরই তাঁর ওপর তীব্র আক্রমণ নেমে এসেছিল তাঁর ইটভাটায়। অভিযোগের তির সরাসরি অনুব্রত মণ্ডলের দিকে।

ব্যবসায়ীর দাবি, খোদ অনুব্রত মণ্ডলের নির্দশে কঙ্কালীতলা গ্রাম পঞ্চায়েতের তৎকালীন উপপ্রধান মামন শেখের নেতৃত্বে প্রায় ২০০ জন সশস্ত্র দুষ্কৃতী তাঁর ইটভাটায় চড়াও হয়েছিল। সেখানে দিনদুপুরে ব্যাপক তাণ্ডব ও ভাঙচুর চালানো হয়। বাধা দিতে গেলে কর্মরত কর্মচারীদের বেধড়ক মারধর করে প্রায় ৩০ লক্ষ টাকার ইট লুট করে নিয়ে যায় দুষ্কৃতীরা। শুধু তাই নয়, ব্যবসায়ী ও তাঁর কর্মীদের প্রাণে মেরে ফেলার হুমকিও দেওয়া হয়।

মামলাকারীর অভিযোগ ,তিনি সক্রিয় বিজেপি সমর্থক ছিলেন। তাই তাঁর ওপর হামলার ঘটনা ।পুলিশ-প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েও কোনও সুরাহা বা ন্যায়বিচার পাননি তিনি। অবশেষে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন ব্যবসায়ী।

এই আবহেই কলকাতা হাইকোর্টে নতুন করে আগাম জামিনের আবেদন করেছেন অনুব্রত। এখন হাইকোর্ট এই আবেদন গ্রহণ করে তাঁকে অন্তর্বর্তী সুরক্ষা দেয় কি না, সেদিকেই নজর থাকবে। আদালতের সিদ্ধান্তের উপরই নির্ভর করবে মামলার পরবর্তী আইনি গতিপথ।