সুখেন্দুশেখরের পর আরও এক TMC রাজ্যসভার সাংসদ BJP যাওয়ার অপেক্ষায়?

29


নিউজ ডেস্ক:
পশ্চিমবঙ্গে পরাজয়ের পর তৃণমূলের ‘মূল’ ক্রমশই নড়বড়ে হতে শুরু করেছে। গৃহদাহে কার্যত জ্বলছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতে তৈরি তৃণমূল কংগ্রেস। সোমবারের ধাক্কা কাটতে না কাটতেই ফের এক ধাক্কা মঙ্গলবার।

সোমবার রাজ্যসভার তৃণমূল সাংসদ সুখেন্দুশেখর রায় সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। দল থেকেই পদত্যাগ করে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের ঘরে বৈঠক করেছেন। এবার তৃণমূলের আরও এক রাজ্যসভার সাংসদও কি বিজেপির দিকে পা বাড়িয়ে? নাম উঠে আসছে রাজ্যসভার তৃণমূল সাংসদ নাদিমুল হকের। সূত্রের খবর, বিজেপির সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন নাদিমুল। অর্থাৎ লোকসভার ২০ তৃণমূল সাংসদ এনডিএ-কে সমর্থনের শর্তে তৃণমূলের একটি ব্লক তৈরি করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে প্যাঁচে ফেলেছেন। ঠিক তখনই রাজ্যসভাতেও একের পর তৃণমূল সাংসদ এবার বিজেপিমুখী। ফলে সংসদের দুই কক্ষ মিলিয়ে ৪১ তৃণমূল সাংসদের মধ্যে কার্যত গুটিকয়েক ঘাসফুল শিবিরের সাংসদই বেঁচে থাকল সেই শিবিরে। সূত্রের খবর, সদ্য রাজ্যসভার তৃণমূল সাংসদ হওয়া কোয়েল মল্লিকও ইস্তফা দেবেন কয়েকদিনের মধ্যে।

এই আবহে তৃণমূলের বিদ্রোহী গোষ্ঠীকে মঙ্গলবার একের পর এক নিশানা করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে থাকা কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর কটাক্ষ, ‘তারা (বিদ্রোহী সাংসদরা) ভূপেন্দ্র যাদবের বাসভবনে গেলেন শুভেন্দু অধিকারীও সেখানে ছিলেন, যার অর্থ তারা বিজেপি যোগ দিয়েছে।’ এরপরই কল্যাণের খোঁচা, ওই তৃণমূল সাংসদরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের থেকে এখন নরেন্দ্র মোদীকে নেতা মানছেন। এই তৃণমূল সাংসদরা তৃণমূল কর্মীদের মুখোমুখি হোন, দাবি করছেন কল্যাণ। তাঁর মতে, ‘পশ্চিমবঙ্গে স্বৈরতন্ত্র চলছে’।

আরও একটি বিস্ফোরক দাবি করেছেন কল্যাণ, বহরমপুরের তৃণমূল সাংসদ ইউসূফ পাঠান জানিয়েছেন তাঁকে ফোন করেছিলেন অমিত শাহ। দিল্লিতে তিনি সাক্ষাৎ করেছেন।’ এই কঠিন পরিস্থিতিতেও মমতার সঙ্গী হয়ে বর্ষীয়ান তৃণমূল সাংসদ কল্যাণের দাবি, ‘বিজেপির কাছে CM, ED, CBI ও একাধিক শক্তি আছে, আমার কাছে ‘মা, মাটি, মানুষ’ আছে।’

কল্যাণের পাশে বসেই বর্ধমান দুর্গাপুরের তৃণমূল সাংসদ কীর্তি আজাদের প্রশ্ন, ‘মা, মাটি মানুষের নামে তৃণমূলের সাংসদ হলেন ২৯ জন। আমি সেই বিশ্বাসঘাতকদের কাছে জানতে চাইব, কেন নির্বাচনের ফলের পর আফনারা এতো কথা বলছেন?’ সুখেন্দশেখর রায়ের মতো সাংসদ পদ ও দল থেকেই ইস্তফা দেওয়ার জন্য বিদ্রোহী তৃণমূল সাংসদদের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়েছেন কীর্তি আজাদ। বিজেপির টিকিটে লোকসভার নির্বাচনে লড়াইয়েরও দাবি তুলেছেন প্রাক্তন এই ক্রিকেটর।

আর কল্যাণের প্রতিক্রিয়ার দিতে না চেয়ে সদ্য তৃণমূল ত্যাগী সুখেন্দ্রশেখর রায়ের বক্তব্য, ‘একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে আমি মনে করি, নতুন সরকার তাদের ঘোষিত কর্মসূচি নিয়ে দ্রুত এগিয়ে চলেছে।’ এরমধ্যেই বিজেপি বিধায়ক শঙ্কর শিকদারের খোঁচা, আমাদের মুখ্যমন্ত্রী ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন বিধানসভার ফলের ৬ মাসের মধ্যে তৃণমূল দল ভেঙে পড়বে। কিন্তু ১ মাসেই সব হয়ে গেলো।

এদিকে, লোকসভার ২০ তৃণমূল সাংসদের ভোলবদল নিয়ে শিবসেনা (উদ্ধব গোষ্ঠী)-র সাংসদ সঞ্জয় রাউতের বক্তব্য, ‘অসৎ ও বিশ্বাসঘাতকতার ভাইরাস কাউকে গ্রাস করলে তারা যেকোনো কিছু করতে পারে। মহারাষ্ট্রে আমরা এমনটাই দেখেছি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করার সিদ্ধান্ত যদি তারা নিয়েই ফেলে, তবে তাদের আটকানো যাবে না। যারা থাকতে চায় তারা থাকুক, আর যারা চলে যেতে চায় তারা চলে যাক। আমরাও ঠিক সেটাই করেছিলাম।’
পশ্চিমবঙ্গ ছাড়িয়ে ঘাসফুলের শিকড় ক্রমশই আলগা হচ্ছে এবার রাজধানীর রাজনৈতিক মাটিতেও।