নিউজ ডেস্ক: সারা বিশ্বে সব থেকে বেশি আম রফতানি করে ভারত। আমেরিকা, ইউনাইটেড আরব এমিরেটাস, সৌদি আরব, ব্রিটেন ও নেদারল্যান্ডস-এ সব থেকে বেশি আম রফতানি করে ভারতবর্ষ। তবে এবার আমের মরশুমে ঝটকা দিয়েছে জাপান। ভারতের আম নিষিদ্ধ জাপানে। এবার ভারতের প্রতিবেশী রাষ্ট্র নেপালও ভারতের আমে নিষেধাজ্ঞা জারি করল।
কেন নেপালের এই পদক্ষেপ?
নেপালে আমদানি করা আমে অতিরিক্ত মাত্রায় রাসায়নিক কীটনাশক পেয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। কাঠমান্ডুর কৃষি ও প্রাণীসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রকের আরোপ করা এই বিধিনিষেধে এপ্রিল-মে মাস থেকেই কার্যকর রয়েছে। এর ফলে নেপালে উৎপাদিত আমের বাজারে চাহিদা বাড়বে বলেই মনে করছে সে দেশের কর্তারা। যদিও, নেপালে আমের দাম বৃদ্ধি এবং বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কাও করছেন জনতা। আম আমদানির চেয়ে রফতানিই বেশি করে নেপাল। তবুও স্থানীয় চাহিদা মেটানোর জন্য অভ্যন্তরীণ উৎপাদন যথেষ্ট নয়। তাছাড়া, নেপালি আমের মৌসুম মাত্র ২ মাস।
যদিও ভারতের আম রফতানির বৃহত্তম বাজারগুলোর তালিকায় নেপাল নেই। তবুও ভারতীয় ফলে রাসায়নিক কীটনাশকের উপস্থিতি দেশের ফল উৎপাদন ব্যবস্থার ওপর বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি করছে। এমন এক সময়ে এই নিষেধাজ্ঞা যখন কোঙ্কন অঞ্চলের আলফনসো আম চাষিরা অত্যন্ত কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। সেখানে অসময়ে বৃষ্টি এবং তীব্র তাপপ্রবাহের কারণে ৯০ শতাংশ পর্যন্ত ফসল নষ্ট হয়ে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়তে হয়েছে।
ভারতীয় আমের উপর জাপানের নিষেধাজ্ঞা:
গত মাসেই জাপান ভারতের আম আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করে। যা ১৯৮৬ সালের পর দ্বিতীয়বার। এক্ষেত্রেও রাসায়নিক কীটনাশকের পরিমাণ বেশি থাকায় কড়া সিদ্ধান্ত নেয় জাপান। ভারতের কেশর, আলফনসো, ল্যাংড়া ও বঙ্গনপল্লী জাতের আমের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে জাপান। ভারতের বিভিন্ন উৎপাদন কেন্দ্রে পরিদর্শনের সময় অনিয়ম ধরা পড়ার পর এই নিষেধাজ্ঞা জাপানের। গত মার্চ মাসে উত্তর প্রদেশের রেহমানপুরে পরিদর্শনের সময় সেখানকার প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্রগুলোতে ফিউমিগেশন (ধোঁয়া বা গ্যাস প্রয়োগের মাধ্যমে জীবাণুমুক্তকরণ) ও সংশ্লিষ্ট জীবাণুমুক্তকরণ ব্যবস্থায় ত্রুটি খুঁজে পায় জাপানের কর্তারা। জাপানের জনস্বার্থমূলক সহায়তাকী সংস্থা ‘ইয়োকোহামা প্ল্যান্ট প্রোটেকশন অ্যাসোসিয়েশন’ জানিয়েছে যে, এখন থেকে ২৫ মার্চ বা তার পরে ভারতের ইস্যু করা আমের চালান আর গ্রহণ করা হবে না।