পৃথা দাশগুপ্ত,কলকাতা:সই জাল সংক্রান্ত মামলায় বড় স্বস্তি তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের। এই মামলায় তাঁর রক্ষাকবচের মেয়াদ আরও বৃদ্ধি করল কলকাতা হাইকোর্ট।
আজ হাইকোর্টের বিচারপতি শুভ্রা ঘোষের নির্দেশ, ১৭ জুলাই পর্যন্ত অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে কোনও আইনি পদক্ষেপ করা যাবে না। তাঁর ব্যাখা, যেহেতু মূল মামলাটি প্রথম থেকে শুনানি করেছেন বিচারপতি কৌশিক চন্দ তাই তাঁর এই মামলা শোনা উচিত। তিনি বর্তমানে সার্কিট বেঞ্চে রয়েছেন, তাই তাঁর এজলাস না ফেরা পর্যন্ত এই রক্ষাকবচের মেয়াদ বহাল থাকবে।
বিধানসভার সই-জালিয়াতি মামলার তদন্তে করছে সিআইডি। ভবানী ভবনে তলব করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়েছে। দ্বিতীয়বার তলবে কুনাল ঘোষের মুখোমুখি বসিয়েও জেরা করা হয়েছে অভিষেককে।
বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষকে প্রায় সাড়ে ৩ ঘণ্টা অন্যদিকে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে সিআইডি দফতরে টানা সাড়ে ৮ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে ম্যারাথন জেরা সামলাতে হয়েছিল।
গোটা বিতর্কের সূত্রপাত পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় তৃণমূলের সংসদীয় দলের পদাধিকারী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে। ৬ মে কালীঘাটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতিতে বিধানসভার বিরোধী দলনেতা, সহ-বিরোধী দলনেতা এবং মুখ্য সচেতক পদে কয়েকটি রদবদলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বিধানসভায় সেই সিদ্ধান্তের রেজোলিউশন জমা দেওয়া হয়। তৃণমূলের দাবি ছিল, সেখানে দলের ৭০ জন বিধায়কের উপস্থিতি এবং তাঁদের স্বাক্ষর রয়েছে।
এর পরেই আসল জলঘোলা। তৃণমূলেরই দুই বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহা স্পিকারের কাছে লিখিত অভিযোগ জানান, বৈঠকে কোন প্রস্তাব গৃহীত হয়নি, অন্য কোনও সময়ে সাধারণ কারণে তাঁদের থেকে স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছিল, কিন্তু জালিয়াতি করে সেই সই ৬ মে-র বৈঠকের নথি হিসেবে সাজিয়ে বিধানসভায় জমা দেওয়া হয়েছে। সই জাল করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়। তদন্তভার হাতে নেয় সিআইডি।
কড়া পদক্ষেপ এড়াতে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন অভিষেক। আদালত ১৭ জুলাই পর্যন্ত রক্ষাকবচের মেয়াদ বৃদ্ধি করল আজ। আপাতত কিছুটা স্বস্তিতে ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।