আরটিআইয়ের অন্তর্ভুক্ত নয় শ্রীরাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্ট

10

নিউজ ডেস্ক: সম্প্রতি রামমন্দিরে অনুদান চুরির অভিযোগ নিয়ে দেশজুড়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে। অনেকেরই দাবি রামমন্দিরে প্রণামী ও দানের পরিপূর্ণ হিসেব প্রকাশ্যে আনা হোক। কিন্তু কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে শ্রীরাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্ট কারও কাছে জবাব দিতে বাধ্য নয়। এমনকি কেন্দ্রীয় সরকার ও রাজ্য সরকারের কাছেও নয়।
কেন্দ্রীয় তথ্য কমিশনের কাছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের দাখিল করা তথ্য অনুসারে, অযোধ্যার রামমন্দির চত্বর পরিচালনাকারী শ্রীরাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্ট কেন্দ্র বা উত্তর প্রদেশ সরকার কারও কাছেই জবাবদিহি করতে বাধ্য নয় এবং নিজস্ব সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা রাখে।
গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে এনিয়ে প্রশ্ন ওঠে। তখনই কেন্দ্রীয় তথ্য কমিশনের কাছে দাখিল করা প্রতিবেদনে এমএইচএ জানিয়েছিল যে, শ্রীরাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্ট একটি স্বাধীন ট্রাস্ট, যা কেন্দ্রীয় বা রাজ্য সরকারের মালিকানাধীন, নিয়ন্ত্রিত নয়। এবং কেন্দ্র বা রাজ্য কোনও সরকারের কাছ থেকেই এই ট্রাস্ট কোনও অর্থ নেয় না।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের মতে, ২০১৯ সালের ৯ নভেম্বর সুপ্রিম কোর্টের অযোধ্যা রায় অনুসারে এই ট্রাস্ট গঠন করা হয়েছিল। শীর্ষ আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী ট্রাস্ট গঠন করার মধ্যেই কেন্দ্রের ভূমিকা সীমাবদ্ধ ছিল। এই ট্রাস্টের ওপর কেন্দ্রীয় সরকার বা উত্তর প্রদেশ সরকারের কোনও আর্থিক, প্রশাসনিক বা পরিচালনগত নিয়ন্ত্রণ নেই। তারা ট্রাস্টকে কোনও তহবিলও সরবরাহ করে না এবং এর কার্যকারিতা ও কার্যকলাপের বিষয়ে স্বাধীন সিদ্ধান্ত নেওয়ার সম্পূর্ণ কর্তৃত্ব শ্রীরাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্টের রয়েছে।
যদিও এক আবেদনকারীর যুক্তি, তথ্য অধিকার আইন (আরটিআই)-এর অধীনে এই ট্রাস্টকে একটি সরকারি কর্তৃপক্ষ হিসেবে গণ্য করা উচিত, কারণ এটি সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী ভারত সরকার গঠন করেছিল এবং এর প্রাথমিক ট্রাস্টিদের অধিকাংশই সরকার-অনুমোদিত প্রকল্পের অধীনে মনোনীত হয়েছিলেন। অধিগ্রহণ করা প্রায় ৭০ একর জমিও ট্রাস্টের নামে হস্তান্তর করা হয়েছিল।
তথ্য কমিশন কী বলছে?
আবেদনপত্রগুলি পরীক্ষা করার পর, কেন্দ্রীয় তথ্য কমিশন এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছে যে শ্রীরাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্রকে ট্রাস্ট আরটিআই আইনের ধারা 2(h) অনুযায়ী সরকারি কর্তৃপক্ষ হিসেবে বিবেচনা করা যায় না। কমিশনের পর্যবেক্ষণ, এই ট্রাস্ট সংসদ বা রাজ্য বিধানসভা প্রণীত কোনও আইনের মাধ্যমে নয়, বরং সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী গঠন করা হয়েছে। ট্রাস্টের ওপর সরকারের কোনও গভীর বা ব্যাপক নিয়ন্ত্রণ নেই এবং এটি সরকারের থেকে কোনও অর্থ নেয় না। ফলস্বরূপ, কমিশন রায় দিয়েছে যে এই ট্রাস্ট আরটিআই আইনের অধীনে তথ্য প্রদানে বাধ্য নয়।
এখন কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ
তথ্য কমিশনের ব্যাখ্যা এমন এক রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল সময়ে এসেছে, যখন রামমন্দির ট্রাস্ট আর্থিক অনিয়ম ও তহবিল ব্যবস্থাপনার অভিযোগে অভিযুক্ত। রামমন্দিরে ভক্তদের কাছ থেকে পাওয়া অনুদান গণনার সময় কথিত গরমিল নজরে আসার পর এই বিতর্কটি সামনে আসে। একটি এফআইআর দায়ের করা হয়, যার পরিপ্রেক্ষিতে উত্তর প্রদেশ পুলিশ ভক্তদের দান করা নগদ টাকা ও মূল্যবান সামগ্রী আত্মসাতের অভিযোগে তদন্ত শুরু করেছে। চুরির অভিযোগে ইতিমধ্যে আটজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
অভিযোগ যে, মন্দির চত্বরের শৌচাগারের ভেতরে নগদ টাকা লুকিয়ে রাখা হত এবং পরে তা বের করে আনা হত। এ ছাড়া, প্রতি ৪৫ দিন অন্তর সিসিটিভি ফুটেজ নিয়মিতভাবে মুছে ফেলা হত, যার ফলে বেশ কয়েক মাস ধরে চুরির ঘটনা শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়েছিল।