অনশন মঞ্চ থেকে সোনম ওয়াংচুককে তুলে নিল পুলিশ

31

নিউজ ডেস্ক: দিল্লির যন্তরমন্তর থেকে অনশনরত সোনম ওয়াংচুককে জোর করে তুলে নিয়ে গেল দিল্লি পুলিশ। নিট পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদে ককরোচ জনতা পার্টির মঞ্চে টানা ২০ দিন অনশন করেছিলেন লাদাখের পরিবেশবিদ, সমাজকর্মী, শিক্ষাবিদ সোনম ওয়াংচুক।
টানা ২০ দিন অনশনের জেরে সোনমের ওজন কমেছিল প্রায় নয় কেজি। ক্রমশ অশক্ত এবং অসুস্থ হয়ে পড়ছিলেন। শনিবার ভোরে অনশনের ২১তম দিনে দিল্লির যন্তর মন্তর থেকে সোনম ওয়াংচুককে তুলে নিয়ে গিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

শুক্রবার রাতে যন্তরমন্তরে সোনমের উপরে হামলার চেষ্টার অভিযোগ ওঠে। ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে বলেছেন, সোনমের দিকে দুষ্কৃতীরা কিছু একটা ছুড়ে মারে। সোনম স্যারের কিছু হলে দায় সরকারের।

শুক্রবার অনশনরত সোনম ওয়াংচুকের কাছে গিয়েছিলেন কংগ্রেসের সদ্য রাজ্যসভা সাংসদ পবন খেরা। প্রসঙ্গত, ১৯৮৪ সালে সোনম ওয়াংচুকের বাবা সোনম ওয়াংগিয়াল লাদাখের জন্য তফসিলি জনজাতির তকমা চেয়ে অনশনে করেছিলেন। সেই সময় প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গাঁধী তাঁর কাছে গিয়ে অনশন ভঙ্গ করার অনুরোধ করেছিলেন।
কংগ্রেসের দূত হিসেবে পবন খেরা যন্তরমন্তরে সোনমের সঙ্গে দেখা করে বলেন, বিজেপি সরকার গণতান্ত্রিক আন্দোলনের বার্তা শোনে না। এজন্য প্রাণের ঝুঁকি নেওয়ার দরকার নেই।
শুক্রবার সন্ধ্যায় রাহুল গান্ধী দেরাদুনে ছাত্রোঁ কি গুঞ্জ জনসভায় শিক্ষাব্যবস্থা, পরীক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে নিশানা করেন কেন্দ্রীয় সরকারকে। শুক্রবার সোনমের সঙ্গে দেখা করেন এনসিপি সাংসদ সুপ্রিয়া সুলে। এর আগে অনশন মঞ্চে গিয়েছিলেন তৃণমূল সাংসদ সাগরিকা ঘোষ, দিল্লির দুই প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অতিশী মারলেনা, অরবিন্দ কেজরিওয়াল, সমাজবাদী পার্টির সাংসদ ডিম্পল যাদব, ধর্মেন্দ্র যাদব। বাংলার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ফোনে সোনম ওয়াংচুকের স্বাস্থ্যের খবর নেন।
সংসদের বাদল অধিবেশন শুরুর আগে সোনমের প্রতি রাজনৈতিক সমর্থনে শাসক শিবিরের উপর চাপ বাড়াচ্ছিল। ঠিক হয়েছিল, ২০ জুলাই, সংসদ অধিবেশন শুরুর দিনে, ইন্ডিয়া ব্লকের নেতারা যাবেন সোনমের অনশন মঞ্চে।
ঠিক সেসময়ই সক্রিয় হল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের মন্ত্রক পরিচালিত দিল্লি পুলিশ!
এদিকে, বৃহস্পতিবার দিল্লি হাই কোর্ট কেন্দ্রীয় সরকারকে নির্দেশ দিয়েছিল, সোনম ওয়াংচুকের জীবনরক্ষায় যা প্রয়োজন, তা-ই করতে হবে। আদালত বলেছিল যে সরকারি চিকিৎসকদের দিয়ে প্রতিদিন ওয়াংচুকের স্বাস্থ্যপরীক্ষা করাতে হবে। চিকিৎসকদের রিপোর্টের ভিত্তিতে যদি চিকিৎসার প্রয়োজন পড়ে, তা হলে সেই বিষয়ে পদক্ষেপ করতে হবে কেন্দ্রকে। তার দুদিনের মাথাতেই পদক্ষেপ করল বিজেপি সরকার।