দিবাং ভ্যালি নদীবাঁধে নিঃশেষ হবে ডিব্রুগড়, তিনসুকীয়া! বিশেষজ্ঞের সতর্কবাণী, ‘ভয়াবহ বিপদের মুখে উজান অসম’

56

নিজস্ব প্রতিনিধি: দিবাং ভ্যালির নির্মিয়মান বাঁধের জন্য কি নিঃশেষ হয়ে যাবে শদিয়া সহ ডিব্রুগড়, তিনসুকীয়া। সম্প্রতি উজান অসমে বন্যা পরিস্থিতি ও বিশেষজ্ঞ কমিটির সতর্কবাণীর পরও সর্ববৃহৎ নদীবাঁধ নির্মাণ নিয়ে শঙ্কিত অসমবাসী। এই বাঁধ হলে ভেসে যাবে শদিয়া সহ ডিব্রুগড়, তিনসুকীয়া। দাবি আটাসার। কেন্দ্র সরকারের কাছে দ্রুত এই বাঁধ নির্মাণ বন্ধ করার আবেদন। অন্যথা, বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি তাই আহোম ছাত্র সংস্থার।

অরুণাচল প্রদেশের দিবাং উপত্যকায় নির্মাণ হচ্ছে ২হাজার ৮৮০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন জলবিদ্যুৎ প্রকল্প। হালে শিবসাগর, যোরহাট, চরাইদেওয়ের বন্যা পরিস্থিতির পর এই বাঁধ নিয়ে ফের শুরু বিতর্ক। পরিবেশবিদ, ভূবিজ্ঞানী, নদী বিশেষজ্ঞ ও সচেতন মহলের দাবি এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে ভয়াবহ বিপদের মুখে পড়বে উজান অসমের বিশেষ করে ডিব্রুগড়, তিনসুকীয়া, চাবুয়া, যোরহাট ইত্যাদি অঞ্চল। দিবাং নদীর উপর প্রায় ৯১৫ফুট উচ্চতার বিশাল কংক্রিটের বাঁধ নির্মাণ করা হচ্ছে। এই বাঁধের ফলে ৪৩কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের বিশাল জলাধার সৃষ্টি হবে। এই জলাধারে ২ হাজার ৮৮০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। কিন্তু বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশাল এই জলাধারে বৃষ্টির সময় অত্যধিক জল জমা হলে নিরাপত্তার কারণে সেই জল একসঙ্গে ছেড়ে দিতে হবে। এমতাবস্থায় নিম্ন অসমের বিস্তীর্ণ অঞ্চল তো প্লাবিত হবেই, উজানেও এই প্রকল্প ভয়াবহ বিপদ ডেকে আনবে।

EIAএর প্ৰতিবেদনেও অঞ্চলটির ভূতাত্ত্বিক সংবেদনশীলতা, ভূ-স্খলন, নদীপারের অবক্ষয়, পাথর-বালি উত্তোলনের প্ৰভাব ও জীববৈচিত্ৰ্যের উপর সম্ভাব্য ক্ষতিকারক প্ৰভাবের কথা উল্লেখ করা হয়েছিল।


উল্টোদিকে, পূর্ব হিমালয়ের এই অঞ্চলটি ভূমিকম্পপ্রবণ জোন ৫এর অন্তৰ্গত। অৰ্থাৎ অত্যন্ত সংবেদনশীল ভূমিকম্পপ্ৰবণ এলাকা বলা যায়। এমন অঞ্চলে ৯১৫ফুট উচ্চতার বাঁধ নিৰ্মাণ নিয়ে বিজ্ঞানীরাও গভীর উদ্বেগ প্ৰকাশ করেন।

জিওলজিক্যাল সার্ভের এক প্ৰতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, কোনো দুৰ্যোগপূর্ণ পরিস্থিতিতে যদি এই বাঁধ ভেঙে যায়, তাহলে মাত্ৰ ৮ মিনিটের মধ্যে জলের স্রোত ডিব্ৰুগড় জেলা স্পৰ্শ করতে পারে। পাশাপাশি প্ৰায় ৩০ কিলোমিটার এলাকায় ভয়াবহ বন্যার আশঙ্কা রয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উন্নয়ন জরুরি, তবে পরিবেশ, ভূতাত্ত্বিক বাস্তবতা ও নীচু এলাকার বাসিন্দাদের সুরক্ষাকেও অগ্ৰাধিকার দেওয়া উচিত। তাঁদের পরামৰ্শ, নদীর স্বাভাবিক গতিকে পুরোপুরি না আটকে বিকল্প ব্যবস্থা ও বৈজ্ঞানিক পরিকল্পনার মাধ্যমে প্ৰকল্প রূপায়ণ করলে সম্ভাব্য বিপদ এড়ানো সম্ভব।

ইতিমধ্যে বিষয়টি নতুন করে আবার বিতর্কের সৃষ্টি করেছে। তাই আহোম ছাত্র সংস্থা বহুবার এই প্রকল্পের বিরোধিতা করেছে। সম্ভাব্য বিপদ সম্পর্কে আরও একবার উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আটাসাএনএইচপিসির এই বাঁধ নির্মাণের কাজ দ্রুত বন্ধ হোক, সরকারের কাছে আবেদন আটাসার। অন্যথা অসমবাসীর স্বার্থে বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছে সংস্থা।

দিবাং জলবিদ্যুৎ প্ৰকল্প বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষেত্ৰে এক নতুন দিগন্তের সূচনা করলেও, এর সম্ভাব্য পরিবেশগত ও সামাজিক প্ৰভাব নিয়ে উদ্বেগ নতুন করে বিতর্ক উস্কে দিয়েছে। উন্নয়ন ও প্ৰকৃতি সংরক্ষণের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করাই এখন সবচেয়ে বড় প্ৰয়োজন বলে মত বিশেষজ্ঞদের।