নিউজ ডেস্ক: বম্বে হাই কোর্টে বড় ধাক্কা খেলেন তেহেলকা-র প্রতিষ্ঠাতা তরুণ তেজপাল। বৃহস্পতিবার দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে তাঁর সাজা ঘোষণা করা হয়। বিচারপতি নীলা গোখলে ও অমিত জামসান্দেকারের ডিভিশন বেঞ্চে বহু প্রতীক্ষিত এই মামলার রায়দান হয়। ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ৩৭৬(২)(এফ) ও ৩৭৬(২)(কে) এবং ৩৫৪এ ও ৩৫৪বি ধারায় তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। ধর্ষণের যে ধারায় তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে, সেই আইনে ন্যূনতম ১০ বছরের কারাবাস করতেই হবে। পরিস্থিতি অনুযায়ী এই সাজা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পর্যন্তও বাড়তে পারে।
ঘটনার সূত্রপাত ২০১৩ সালের ৭ ও ৮ নভেম্বর। গোয়ায় তেহেলকা পত্রিকা আয়োজিত একটি বার্ষিক অনুষ্ঠান ‘থিংকফেস্ট’ (ThinkFest) চলাকালীন এক পাঁচতারা হোটেলের লিফটে এক তরুণী সহকর্মীকে দু’বার যৌন নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে তেজপালের বিরুদ্ধে। অভিযোগকারীর দাবি, বাবার বয়সী হওয়া সত্ত্বেও তাঁর ওপর জোর করে শারীরিক অত্যাচার চালায় তেজপাল। সেই বছর ৩০ নভেম্বর গোয়া পুলিশ তরুণ তেজপালকে গ্রেফতার করেছিল। ২০১৪ সালের জুলাই মাসে জামিনে মুক্তি পান তরুণ তেজপাল। এরপর ২০১৭ সালে ধর্ষণের অভিযোগ আনা হয় তেজপালের বিরুদ্ধে। মামলার শুনানি শুরু হয় গোয়ার আদালতে। ২০২১ সালে সেই মামলায় রেহায় পান তিনি। এই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হয় গোয়া সরকার। অবশেষে বৃহস্পতিবার ধর্ষণ মামলায় তরুণকে দোষী সাব্যস্ত করল বম্বে হাই কোর্টের গোয়া বেঞ্চ। তেজপাল আদালতকে বলেন, “আমার বয়স ৬২ বছর, এবং আমি বিশ্বাস করি আমি নিজেও একজন ভুক্তভোগী। আমার স্ত্রী আছেন। এর বেশি বলার মতো কিছু নেই। আমি শুধু বলতে পারি যে আমরা এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করব। অনুগ্রহ করে আমার প্রতি সহানুভূতিশীল হোন।” বম্বে হাইকোর্টের রায়কে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হচ্ছে তরুণ তেজপাল।