নিউজ ডেস্ক: নেপালে ভয়াবহ হড়পা বানে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬২৬। নেপাল ও তিব্বত মিলিয়ে নিখোঁজ অন্তত ২৪০০। এর মধ্যে শুধু নেপালেই প্রায় দুহাজার নিখোঁজ। নেপালের রাসুয়া জেলা এবং মধ্য নেপালের কিছু অংশ সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত।
হিমবাহ-হ্রদ ফেটে যাওয়ায় তিব্বত থেকে বিপুল জলরাশি চলে আসে নেপালের ভোটে কোশি নদীতে। তারপর প্রবল জলের তোড়ে ভেসে যায় নেপালের তিব্বত সীমান্তের বিস্তীর্ণ অঞ্চল।
বাড়িঘর, রাস্তা, সেতু তো বটেই জলের তোড়ে ভেসে গেছে অন্তত বারোটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প। এর মধ্যেই দুর্গতদের উদ্ধারের কাজ চালাচ্ছে নেপাল প্রশাসন।
শনিবার সকালের তথ্য অনুযায়ী মোট ২৪৭৮ জন নিখোঁজ। এর মধ্যে নেপালে ১৯২৪ এবং তিব্বতে ৫৫৪ জন নিখোঁজ।
নেপালের বিপর্যয় মোকাবিলা সংস্থা জানিয়েছে যে ৫১৭ বিদেশি এখনও নিখোঁজ। এদের মধ্যে পর্যটকের পাশাপাশি ছিলেন নেপালে কর্মরত কিছু বিদেশি। চিন জানিয়েছে যে তিব্বতে অন্তত ২৬০ বিদেশি নিখোঁজ।
নেপালের পর্যটন বোর্ড জানিয়েছে যে বন্যা ও ভূমিধসের পর ১২১ বিদেশিকে উদ্ধার করা হয়েছে। কিন্তু কতজন পর্যটক, কতজন সাধারণ বাসিন্দা এবং কতজন বিদেশি কর্মীকে উদ্ধার করা হয়েছে সেই তথ্য নেই। কয়েকজনের মৃত্যু হয়েছে তিব্বতে, কিন্তু সেই সংখ্যা স্পষ্ট নয়।
হড়পা বানে মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত তিব্বতের গিরং সীমান্ত। সেখানে চিনের ২১ জনের উদ্ধারকারী দল পৌঁছেছে। পাহাড় ও উপত্যকায় উদ্ধারকাজ চালাচ্ছে চিনা দলটি।
ভারত, চিন, অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়ার উদ্ধারকারী দলকে দেশের ভেতরে কাজ করার অনুমতি দিয়েছে নেপাল। নেপালের অর্থমন্ত্রক জানিয়েছে যে হড়পা বানে ক্ষয়ক্ষতি পূরণ করতে দরকার অন্তত ৪ থেকে ৫ বিলিয়ন ডলার।
নেপালের পুলিশের তথ্য অনুযায়ী শনিবার সকাল পর্যন্ত চিতোয়ান জেলা থেকে ২৩৩, নওয়ালপারসি পূর্ব জেলা থেকে ১৫৮, গোর্খা জেলা থেকে ৪৮, নওয়ালপারসি পশ্চিম জেলা ৪৭, ধাদিং জেলা থেকে ৪৫, নুয়াকোট জেলা থেকে ৪১, তানাহুন জেলা থেকে ৩১ এবং রাসুয়া জেলা থেকে ১৩ দেহ উদ্ধার করা হয়েছে। বন্যাবিধ্বস্ত এলাকায় চলছে প্রাণের খোঁজ। দুর্গতদের হেলিকপ্টারের মাধ্যমে উদ্ধার করে ত্রাণশিবিরে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। হড়পা বানের পর সীমান্তবর্তী কিছু এলাকার সঙ্গে যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছে কাঠমান্ডুর। সেখানে হেলিকপ্টার ছাড়া পৌঁছনোর অন্য উপায় নেই।
ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। ভোটে কোশি এবং ত্রিশূলি নদী এখনও ফুঁসছে। কাদামাটির স্রোত বইছে নদীতে। তবে নতুন করে জল বাড়েনি। হড়পা বানের পর চিন সীমান্তের পাহাড়ি এলাকায় একটি অস্থায়ী হ্রদ তৈরি হয়ে গিয়েছে। সেখানে জল আরও বাড়লে হ্রদ উপচে ফের জলস্রোত ছুটে আসবে নিম্নাঞ্চলে।
Prev Post