অভিষেকের অফিসে বিল বোর্ড ভাঙার ঘটনায় কোন স্থগিতাদেশ দিল না হাইকোর্ট

65

পৃথা দাশগুপ্ত,কলকাতা: ক্যামাক স্ট্রিটে সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অফিসের বোর্ড ভাঙা নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল কালীঘাট তৃণমূল। সেই মামলায় বড়সড় ধাক্কা‌ ‌।

আজ বিচারপতি রাজা বসু চৌধুরীর একক বেঞ্চ বোর্ডটি পুনরায় লাগানোর জন্য কোনও অন্তর্বর্তী নির্দেশ দেননি। ভবিষ্যতে কলকাতা পুরসভা যাতে ওই অফিসে কোনও ‘ডিমোলিশন’ না চালায়, সেই আবেদনেও এই মুহূর্তে হস্তক্ষেপ করল না আদালত।

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অফিসের বোর্ড খোলার অভিযোগ তুলে বৃহস্পতিবার রাতেই জরুরি ভিত্তিতে মামলা দায়েরের উদ্যোগ নেয় কালীঘাট তৃণমূল। আজ মামলাটি আদালতে উঠতেই আইনজীবী কিশোর দত্ত জানান, ২৭ আগস্ট বিকেল সাড়ে ৪টে নাগাদ দু’জন ব্যক্তি এসে জানান, কলকাতা পুরসভার নির্দেশে ক্যামাক স্ট্রিটের বোর্ড খুলতে হবে। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বোর্ডটি খুলে ফেলা হয়।‌

কিশোর দত্ত জানান,”চার ঘণ্টার মধ্যে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং তা কার্যকরও হয়ে গিয়েছে। এটি আইনের অপব্যবহার এবং আইনগত বিদ্বেষের ঘটনা।’

তাঁর আবেদন, বোর্ডটি ফের আগের জায়গায় লাগানোর নির্দেশ দেওয়া হোক। ভবিষ্যতে ওই অফিসে পুরসভার আইনে কোনও ভাঙার কাজ না করা হয়।

বিচারপতির প্রশ্ন, ‘কেন অন্তর্বর্তী নির্দেশ চান, সেটা স্পষ্ট করে বলুন।’

বিচারপতির স্পষ্ট বক্তব্য, “ইতিমধ্যেই যা খুলে ফেলা হয়েছে, তা আদালতের নির্দেশে কীভাবে ফেরানো সম্ভব? ভবিষ্যতে এমন ঘটনা ঘটবে, এই আশঙ্কার ভিত্তিতে পুরসভাকে আইন অনুযায়ী পদক্ষেপ করা থেকে আটকানোও সম্ভব নয়”।

আদালত স্পষ্ট করে জানায়, আধিকারিকেরা তাঁদের সরকারি দায়িত্ব পালন করেছেন। তাই তাঁদের ব্যক্তিগত নাম বাদ দিয়ে সংশ্লিষ্ট পদে সরকারি আধিকারিক হিসেবে উল্লেখ করে নতুন করে মামলা দায়ের করতে হবে।

রাজ্যের পক্ষেও যথাযথভাবে নোটিশ দেওয়া হয়নি বলে জানায় আদালত।

পাশাপাশি আইনজীবী জয়দীপ কর জানান, “৯ ক্যামাক স্ট্রিটের সম্পত্তিটি পিরামল প্রপার্টিজের এবং ছাদের উপর ওই হোর্ডিং বসানোর জন্য কোনও অনুমতি নেওয়া হয়নি। এই বিষয়ে শেক্সপিয়র সরণি থানাতেও অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে”।

জয়দীপ করকে উদ্দেশ্য করে বিচারপতির প্রশ্ন, ‘আপনি এই মামলার পক্ষ নন।’

রাজ্যের অতিরিক্ত এজি বিল্বদল ভট্টাচার্য মামলাটি সোমবার শুনানির জন্য রাখার আবেদন জানান।

বিচারপতির পর্যবেক্ষণ, মামলাটি এখনও ‘প্রিম্যাচিওর’ । আবেদনের একাধিক বক্তব্য যাচাই করা হয়নি। নির্দিষ্ট নথিও আদালতে পেশ করা হয়নি। ফলে এখনই আবেদনকারীকে কোনও স্বস্তি দেওয়ার কারণ নেই।

রাজ্যকে হলফনামা এবং আবেদনকারীকে তার জবাব দেওয়ার জন্য এক সপ্তাহ সময় দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট। তারপর মামলাটি দৃষ্টি আকর্ষণ করে শুনানির জন্য তালিকাভুক্ত করা হবে বলে জানিয়ে কলকাতা হাইকোর্ট।