দেবীর প্রতিমায় ‘ঘাম’! চার দিন পরেই ভয়াবহ বন্যা,‘অলৌকিক সংকেত’ ঘিরে তোলপাড় নেপাল

15

নিউজ ডেস্ক: নেপালে ভয়াবহ হড়পা বান নিয়ে একদিকে যখন আতঙ্ক ,অন্যদিকে এরই মধ্যে সামনে এসেছে এক চাঞ্চল্যকর দাবি। কাভরেপালানচোকের ভগবতী মন্দিরের প্রতিমায় বিপর্যয়ের চার দিন আগে জলবিন্দু দেখা গিয়েছিল বলে দাবি স্থানীয়দের। মানুষের বিশ্বাস, সেটি দেবীর ‘ঘাম’ এবং আসন্ন বিপদের পূর্বাভাস।
নেপালের সংবাদসংস্থা RSS-এর খবর অনুযায়ী, ২২ অগাস্ট সন্ধ্যার প্রার্থনার সময় পুরোহিত প্রতিমার মুখ ও কপালে জলবিন্দু দেখতে পান। এরপর বিশেষ পুজো ও ক্ষমা প্রার্থনার আয়োজন করা হয়। এর চার দিন পর, ২৬ অগাস্ট নেপালের ভয়াবহ হড়পা বান সবকিছু তছনছ করে দেয়।
এই ঘটনা অবশ্য প্রথমবার নয়, স্থানীয়দের দাবি, এর আগেও ভূমিকম্পসহ বড় বিপর্যয়ের আগে প্রতিমায় এমন পরিবর্তন দেখা গিয়েছিল।
১৯৭৪ এবং ১৯৮৭ সালের ভূমিকম্পের আগেও প্রতিমার শরীরে একই ধরনের লক্ষণ দেখা যায়। এমনকী ২০০১ সালে রাজপ্রাসাদে হত্যাকাণ্ডের আগেও ঘেমে ওঠেন দেবী ভগবতী। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি । তবে বিজ্ঞানভিত্তিক ব্যাখ্যায় বলা হচ্ছে, বর্ষাকালে মন্দিরের ভিতরের অতিরিক্ত আর্দ্রতা ও তাপমাত্রার পার্থক্যের কারণে পাথরের প্রতিমায় জলবিন্দু জমতে পারে।
বিশ্বাস আর বিজ্ঞানের এই টানাপড়েনের মধ্যেই নেপালে দেবীর প্রতিমার ‘ঘেমে যাওয়া’ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
উল্লেখ্য,নেপাল ও তিব্বতের সাম্প্রতিক বিপর্যয়ে প্রাণহানির সংখ্যা আরও বেড়েছে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত, কেবল নেপালেই মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯০৩ জনে। এছাড়া এখনও ৪,২৪৭ জনের কোনো খোঁজ মেলেনি, যাদের মধ্যে ৩,৬৫৫ জন স্থানীয় বাসিন্দা এবং ৫৯২ জন বিদেশি নাগরিক। অন্যদিকে, তিব্বতেও এই দুর্যোগ কেড়ে নিয়েছে ১৬ জনের প্রাণ এবং এখনও নিখোঁজ রয়েছেন ৫৪৩ জন।