আন্তর্জাতিক ডেস্ক: পাকিস্তানের ইতিহাসে এই প্রথম কোনো একজন সামরিক কর্মকর্তার হাতে একাধারে সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী এবং বিমানবাহিনীর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। দেশটির সংসদ ‘ডিফেন্স ফোর্সেস অফ পাকিস্তান অ্যাক্ট, ২০২৬’ নামের একটি নতুন আইন পাস করেছে। এই আইনের মাধ্যমে ‘চিফ অফ ডিফেন্স ফোর্সেস’ (সিডিএফ) নামে একটি নতুন পদ তৈরি করা হয়েছে। আর এই নতুন পদের হাত ধরেই দেশটির বর্তমান সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির এক নজিরবিহীন ক্ষমতার অধিকারী হলেন।তিনি এখন তার আগের সেনাপ্রধান পদের পাশাপাশি নতুন এই ‘সিডিএফ’ পদের দায়িত্বও সামলাবেন। অর্থাৎ, তিনি একাই এখন তিন বাহিনীর মূল দায়িত্বে থাকছেন।৫০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় পরিবর্তনপাকিস্তানের ইতিহাসে এর আগে কোনো আইনই একজন মাত্র কর্মকর্তাকে একসাথে তিন বাহিনীর ওপর এমন সরাসরি ক্ষমতা দেয়নি। তাই ১৯৭৬ সালের পর, অর্থাৎ গত ৫০ বছরের মধ্যে এটিকে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর সবচেয়ে বড় পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
আগের পদের সাথে পার্থক্য কী?
এতদিন এই কাজের কাছাকাছি একটি পদ ছিল, যার নাম ‘চেয়ারম্যান অফ দ্য জয়েন্ট চিফস অফ স্টাফ কমিটি’। ১৯৭৬ সালে তৈরি হওয়া এই পদের কাজ ছিল শুধু তিন বাহিনীর মধ্যে যোগাযোগ ও মিল বজায় রাখা। নৌবাহিনী বা বিমানবাহিনীকে কোনো আদেশ দেওয়ার আইনি ক্ষমতা এই পদের ছিল না।
নতুন পদের ক্ষমতা কতটুকু?
নতুন এই ‘সিডিএফ’ পদের ক্ষমতা আগের চেয়ে সম্পূর্ণ আলাদা। এই পদে থাকা কর্মকর্তা সরাসরি দেশের কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে জবাবদিহি করবেন। একই সাথে তিন বাহিনীর যেকোনো বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার এবং তা জোর খাটানোর আইনি ক্ষমতাও এখন তাঁর হাতে থাকবে—যা পাকিস্তানের ইতিহাসে আগে কখনোই ছিল না।