কাজিরাঙা গেজেটে পানবাড়ি করিডোরই নেই! সরকারকে তোপ গৌরব গগৈয়ের

41

নিউজ ডেস্ক: অসম সরকারের ২০২২ সালের কাজিরাঙা গেজেট নোটিফিকেশনে নেই পানবাড়ি করিডোরের উল্লেখ। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর সরকারের বিরুদ্ধে তোপ দাগলেন যোরহাটের কংগ্রেস সাংসদ গৌরব গগৈ


সমাজমাধ্যমে অসমের কংগ্রেস সভাপতি গৌরব গগৈ বলেছেন, গেজেট নোটিফিকেশনে নেই পানবাড়ি বন্যপ্রাণী করিডোরের উল্লেখ।


গৌরব গগৈ বলেছেন, অসম সরকারের ২০২২ সালের গেজেট বিজ্ঞপ্তিতে কাজিরাঙার পানবাড়ি বন্যপ্রাণী করিডোরের উল্লেখ ছিল না। এখন সেই অসম্পূর্ণ বিজ্ঞপ্তিও রাজ্যের সরকারি ওয়েবসাইট থেকে সরিয়ে ফেলা হয়েছে। কাজিরাঙা জাতীয় উদ্যান ও ব্যাঘ্র প্রকল্পের ওয়েবসাইটের পূর্ণাঙ্গ বিজ্ঞপ্তিটি ১,৩২৮ থেকে ১,৪৫৫ পৃষ্ঠা পর্যন্ত বিস্তৃত। অথচ রাজ্যের পোর্টালে প্রকাশিত সংস্করণটি ১,৪২৬ পৃষ্ঠাতেই শেষ হয়ে গিয়েছিল, যার ফলে পানবাড়ি করিডোর-সংক্রান্ত ২৯টি পৃষ্ঠা বাদ পড়েছিল।


সরকারি গেজেটে পানবাড়ি করিডোরের উল্লেখ না থাকায় গৌরব গগৈয়ের অভিযোগ, এই ঘটনা এমন সময়ে ঘটল যখন ওই এলাকায় রেয়ার আর্থ এলিমেন্ট বা বিরল মৃত্তিকা মৌলের খনিজ মজুত থাকার খবর পাওয়া যাচ্ছে। সরকারি পোর্টালে কেন একটি অসম্পূর্ণ বিজ্ঞপ্তি আপলোড করা হয়েছিল এবং চার বছর ধরে তা কেন সংশোধন করা হয়নি—তা নিয়ে পূর্ণ স্বচ্ছতা থাকা প্রয়োজন, পাশাপাশি, বিষয়টি নজরে আসার সঙ্গে সঙ্গেই কেন তা সরিয়ে ফেলা হলো, তারও ব্যাখ্যা দরকার। নয়টি গুরুত্বপূর্ণ বন্যপ্রাণী করিডোরকে আনুষ্ঠানিকভাবে চিহ্নিত বা বিজ্ঞাপিত করার ক্ষেত্রে যে বিলম্ব হয়েছে, তার জন্যও অসম সরকারের জবাবদিহি করা উচিত।


গৌরব গগৈয়ের মতে, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা বা ত্রুটি নয়। একদিকে সরকার উদ্যানের পাশে বিলাসবহুল হোটেল তৈরির জন্য মউ স্বাক্ষর করে, অন্যদিকে অবৈধ খনিজ উত্তোলনের বিষয়ে উদাসীন থাকে এবং সরকারের সমালোচনা করার সাহস দেখালে আন্দোলনকারীদের গ্রেফতার করে।


এই অভিযোগ এমন সময় সামনে এল যখন কাজিরাঙায় পারিবেশিক সংবেদনশীল অঞ্চল বা ইএসজেড ১০ কিমি থেকে কমিয়ে ১ কিমি করার প্রস্তাব দিয়েছে অসম সরকার। যে প্রস্তাবের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই সরব হয়েছে বিভিন্ন বিরোধী দল সহ পরিবেশকর্মীরা।