দিল্লিতে মণিপুরের গায়ককে হত্যায় সরব রাহুল গান্ধী

53

নিউজ ডেস্ক: দিল্লিতে পিটিয়ে খুন করা হয়েছে মণিপুরের বিখ্যাত মিউজিশিয়ান চোংথাম বিক্রম সিংকে। উত্তর-পূর্বের বাসিন্দার ওপর আক্রমণের ঘটনায় সরব রাহুল গান্ধী


সমাজমাধ্যমে লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী বলেছেন, মণিপুরের প্রখ্যাত সঙ্গীতশিল্পী চোংথাম বিক্রম সিং বাড়ির বাইরে গোলমাল-কোলাহল কমানোর অনুরোধ করতে নীচে নেমেছিলেন। এর জেরে তাঁকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। নিজের দেশের রাজধানীতে, নিজের বাড়ির সামনেই প্রাণ হারালেন এক বাবা। এমন অনেক ঘটনার পর আজ দিল্লিতে বসবাসকারী উত্তর-পূর্ব ভারতের প্রতিটি পরিবার একই প্রশ্ন তুলছে— আমরা কি এখানে নিরাপদ? বিশেষ করে উত্তর-পূর্ব ভারতের মানুষদের বিরুদ্ধে ক্রমবর্ধমান এই বিশৃঙ্খলা ও অপরাধমূলক কার্যকলাপ রুখতে অমিত শাহর নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক এবং দিল্লি পুলিশ কী পদক্ষেপ নিচ্ছে? এই ঘটনার দ্রুত তদন্ত হওয়া প্রয়োজন এবং দোষীদের অবশ্যই বিচারের আওতায় আনতে হবে।


মণিপুরের ৫৪ বর্ষীয় মিউজিশিয়ান চোংথাম বিক্রম সিংকে সোমবার পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে দক্ষিণ দিল্লিতে। দক্ষিণ-পূর্ব দিল্লির কিলোকরি এলাকায় চোংথামের বাড়ির সামনেই একদল ছেলে পিটিয়ে হত্যা করে প্রখ্যাত মণিপুরি গিটারবাদক ও পাশ্চাত্য সঙ্গীতের অন্যতম পথিকৃৎ চোংথাম বিক্রম সিংকে।


দিল্লি পুলিশের দাবি, সানলাইট কলোনি এলাকায় সংগীতশিল্পী বিক্রম তাঁর বাসভবনের বাইরে ডেলিভারি বয় ও ধাবার কর্মীদের চেঁচামেচি এবং গোলমালেরর প্রতিবাদ করেছিলেন। বিক্রম বাড়ির দোতলা থেকে নীচে নেমে এসে ওই গোলমালের প্রতিবাদ করলে তাঁকে ঘুষি ও কিল-লাথি মেরে আক্রমণ করা হয়। আহত বিক্রমকে তাঁর ছেলে ইয়াইফাবা হোলি ফ্যামিলি হাসপাতালে নিয়ে গেলেও বাঁচানো যায়নি।


ঘটনার পর দিল্লির মণিপুরী সম্প্রদায় মশাল মিছিল করে। মণিপুরের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বিরেন সিং ঘটনার কড়া নিন্দা করেছেন। দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘নর্থ ইস্ট স্টুডেন্টস সোসাইটি’ এই কথিত হামলার নিন্দা জানিয়েছে এবং দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি করেছে।


বিক্রম মণিপুরের পাশ্চাত্য সংগীত জগতের পরিচিত মুখ ছিলেন এবং তিনি ‘আল্ট্রা ভাইরেস‘, ‘ফিনিক্স’ ‘ইস্টার্ন ডার্ক’-এর মতো ব্যান্ডের হয়ে গিটার বাজিয়েছেন। তিনি প্রখ্যাত মণিপুরি গায়িকা চোংথাম কমলার পুত্র ছিলেন। দিল্লি পুলিশ অভিযুক্ত আটটি ছেলেকে গ্রেফতার করেছে।