যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজায় ‘দ্য লায়ন কিং’!

43

নিউজ ডেস্ক: চারদিকে কংক্রিটের ধ্বংসস্তূপ। বোমায় উড়ে যাওয়া বিল্ডিংয়ের ধ্বংসাবশেষের মাঝে পর্দায় ঠিকরে বেরোচ্ছে আলো। ধূসর ও প্রাণহীন প্রান্তর নিস্তব্ধতা ভেঙে শোনা গেল শৈশবের নিষ্পাপ হাসি। যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজায় খোলা আকাশের নীচে বসে ‘দ্য লায়ন কিং’ দেখছে শিশুরা।


ধ্বংস, মৃত্যু আর বারুদের গন্ধ গাজায়। মাথার ওপর চক্কর কাটছে যুদ্ধবিমান। গাজার প্রতিদিনের ছবি এরকমই। প্যালেস্তাইনইজরায়েল যুদ্ধে বিধ্বস্ত গাজায় ৬৪ হাজারেরও বেশি শিশু নিহত হয়েছে।

যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজার এই ছবি সম্প্রতি ভাইরাল হয়েছে নেটদুনিয়ায়। যা নাড়িয়ে দিয়েছে বিশ্ববাসীকে। ছবিটি ক্যামেরাবন্দি করেছেন ওমর আশতাউই। রাষ্ট্রসংঘের প্যালেস্তাইনের মিশনের পক্ষ থেকে প্রথম ছবিটি প্রকাশ্যে আনা হয়। বিধ্বস্ত বাড়িঘরের ধ্বংসাবশেষের ওপর সারি দিয়ে বসে একদল প্যালেস্তিনি শিশু মনোযোগ দিয়ে দেখছে ডিজনি-র বিখ্যাত অ্যানিমেশন ছবি ‘দ্য লায়ন কিং’। সামনে বড় পর্দায় চলছে সিংহশাবক সিম্বার গল্প। চারপাশের আতঙ্ক, যুদ্ধের সাইরেন আর অনিশ্চয়তাকে কিছুক্ষণের জন্য ভুলে গিয়ে তারা হারিয়ে গেছে ডিজনির সেই জাদুকরি দুনিয়ায়।

এই বিরল আনন্দের আয়োজন করেছিল চলচ্চিত্র সংস্থা ‘মাশারাউই ফান্ড’। তাদের ভ্রাম্যমাণ সিনেমা উদ্যোগ ‘লিটল উইংস’-এর আওতায় এই স্ক্রিনিংয়ের ব্যবস্থা করা হয় গাজায়। মানসিক আঘাত থেকে কচিকাঁচাদের বাঁচাতে ‘মাশারাউই ফান্ড’-এর এই উদ্যোগ প্রশংসা কুড়িয়েছে বিশ্বব্যাপী। সাময়িক ত্রাণশিবির আর ধ্বংস হয়ে যাওয়া এলাকায় তারা নিয়ে যাচ্ছে প্রজেক্টর, সাদা পর্দা আর সাউন্ড সিস্টেম। উদ্দেশ্য একটাই, এই ভয়াবহতার মাঝেও শিশুদের শৈশবটুকু বাঁচিয়ে রাখা।

উল্লেখ্য, ধ্বংস, মৃত্যু আর বারুদের গন্ধ। মাথার ওপর চক্কর কাটা যুদ্ধবিমান। এটাই এখন গাজার প্রতিদিনের ছবি। প্যালেস্তাইন-ইজরায়েল যুদ্ধে বিধ্বস্ত গাজায় ৬৪ হাজারেরও বেশি শিশু নিহত হয়েছে। ইউনিসেফের মতে, ২০২৫ সালের অক্টোবরে যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর থেকে বিগত ৩০০ দিনে গাজা উপত্যকায় অন্তত ৩০০ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।