অসমে শিক্ষক নিয়োগে নিষেধাজ্ঞা শীর্ষ আদালতের

41

নিউজ ডেস্ক: অসমে প্রাদেশিক স্কুল-কলেজে শিক্ষক নিয়োগে নিষেধাজ্ঞা শীর্ষ আদালতের।


মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্ট অসম সরকার ও তাদের শিক্ষা বিভাগকে নির্দেশ দিয়েছে যে, রাজ্যের প্রভিন্সিয়ালাইজেশন বা সরকারি আওতাভুক্ত প্রকল্পের অধীনে স্কুল ও কলেজে যেন কোনও শিক্ষককে নিয়োগ বা অন্তর্ভুক্ত করা না হয়, এই প্রকল্পের আইনি কাঠামোর বিরুদ্ধে দায়ের করা একটি চ্যালেঞ্জের বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত এই নির্দেশ বহাল থাকবে।


প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত মিশ্র, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচি এবং ভি মোহনার বেঞ্চ কেন্দ্রীয় সরকার, অসম সরকার এবং শিক্ষা বিভাগকে নোটিস জারি করেছে। ভেঞ্চার বা বেসরকারি উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও কর্মীদের সরকারি আওতাভুক্ত করার এই প্রকল্পের সাংবিধানিক বৈধতাকে চ্যালেঞ্জ করে একটি জনস্বার্থ মামলা দায়ের করা হয়েছিল শীর্ষ আদালতে।


মামলাকারী রাজেশ চৌহানমাধব মুকুন্দ পূজারি যুক্তি দিয়েছেন যে, এই সরকারি আওতাভুক্তকরণ কাঠামোটি এমন সুযোগ তৈরি করে যার মাধ্যমে কোনও ব্যক্তি সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও প্রতিযোগিতামূলক নিয়োগ প্রক্রিয়া ছাড়াই সরাসরি স্থায়ী সরকারি চাকরিতে প্রবেশ করতে পারেন।


আবেদনে বলা হয়েছে যে, এধরনের ব্যবস্থা সংবিধানের ১৪ ও ১৬ নম্বর অনুচ্ছেদ বিরোধী। ওই দুটি অনুচ্ছেদ আইনের দৃষ্টিতে সমতা এবং সরকারি চাকরিতে সমান সুযোগের নিশ্চয়তা প্রদান করে।


অন্তর্বর্তী পদক্ষেপ হিসেবে আদালত নির্দেশ দিয়েছে যে, শিক্ষকতার যোগ্যতাসংক্রান্ত আইন ও বিধিমালাসহ প্রযোজ্য বিধিবদ্ধ কাঠামোর আওতায় স্কুল ও কলেজে কোনও শিক্ষক নিয়োগ বা অন্তর্ভুক্ত (অ্যাবজর্ব) করা যাবে না।


এই আবেদনে মূলত অসম শিক্ষা (শিক্ষকদের চাকরির প্রাদেশিকীকরণ ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পুনর্গঠন) আইন, তে অন্তর্গত বিভিন্ন নিয়মকে চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে। এতে অভিযোগ করা হয়েছে যে, এই আইনের ফলে এমন ব্যক্তিদের চাকরির প্রাদেশিকীকরণ করা হচ্ছে যাদের সংসদীয় আইন ও বিধিবদ্ধ বিধিমালায় নির্ধারিত ন্যূনতম যোগ্যতা নেই।


আবেদনকারীরা বিশেষ শিক্ষকের চাকরির প্রাদেশিকীকরণ-সংক্রান্ত বিধিনিয়মকেও চ্যালেঞ্জ করেছেন। তাঁদের যুক্তি, নির্ধারিত ন্যূনতম যোগ্যতা না থাকলে কাউকে সরকারি বা প্রাদেশিকীকৃত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষাদানের অনুমতি দেওয়া উচিত নয়।


আবেদনে আরও দাবি জানানো হয়েছে যে, আসাম ভেঞ্চার এডুকেশনাল ইনস্টিটিউশনস আইন, ২০১১ এবং ২০১৭ সালের আইনের আওতায় যাদের চাকরির প্রাদেশিকীকরণ করা হয়েছে, তাদের সবার যোগ্যতার বিষয়টি যেন সামগ্রিকভাবে পর্যালোচনা করা হয়, বিশেষ করে প্রযোজ্য আইন অনুযায়ী তাদের প্রয়োজনীয় যোগ্যতা আছে কি না, তা যাচাই করা হয়।


এ ছাড়া, প্রাদেশিকীকরণের মাধ্যমে নতুন শিক্ষক নিয়োগের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে এবং ভবিষ্যতে সরকারি শিক্ষকতার সব পদ যেন সুষ্ঠু, স্বচ্ছ, মেধা-ভিত্তিক ও প্রতিযোগিতামূলক নিয়োগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পূরণ করা হয়, সেই আহ্বানও জানানো হয়েছে।