নিউজ ডেস্ক : ভারতের সভাপতিত্বে শুরু হওয়া ব্রিকস (BRICS) শীর্ষ সম্মেলনের প্রথম দিনেই কূটনৈতিক মহলে শোরগোল। শনিবার ভারতের মাটিতে পা রেখেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বসেছিলেন চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। দীর্ঘ আলোচনার পর দুই দেশের সম্পর্ক নিয়ে ইতিবাচক বার্তার আবহ তৈরি হলেও, রাতের এক ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে। শনিবার রাতে প্রধানমন্ত্রী মোদীর দেওয়া বিশেষ গালা ডিনারেদেখা গেল না চিনা প্রেসিডেন্টকে।স্বাভাবিকভাবেই ভারতের আয়োজিত এই রাষ্ট্রীয় নৈশভোজে শি জিনপিংয়ের ‘গরহাজির’ থাকা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে নানা আলোচনা ও জল্পনা ডালপালা মেলতে শুরু করেছে।
কেন গেলেন না জিনপিং?
বেজিং বা নয়াদিল্লির তরফে এখনও পর্যন্ত এই অনুপস্থিতির বিষয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা বা বিবৃতি দেওয়া হয়নি। তবে কূটনৈতিক সূত্রের খবর, শনিবার সকালেই চিন থেকে দীর্ঘ বিমান যাত্রা করে নয়াদিল্লি পৌঁছন শি জিনপিং। বিমানবন্দরে নামার পর দুপুর থেকেই শুরু হয়ে যায় ব্রিকস সম্মেলনের ব্যস্ত সূচি ও দ্বিপাক্ষিক বৈঠক। দীর্ঘ জার্নি এবং টানা ঠাসা কর্মসূচির ধকলের কারণে চিনা প্রেসিডেন্ট ক্লান্ত ছিলেন এবং বিশ্রামের প্রয়োজন বোধ করায় তিনি নৈশভোজে যোগ না দিয়ে হোটেলেই ফিরে যান বলে জানা গেছে।
হাজির ছিলেন পুতিন ও অন্যান্য রাষ্ট্রনেতারাভারতের প্রগতি ময়দানের ‘ভারত মণ্ডপমে’ আয়োজিত এই বর্ণাঢ্য গালা ডিনারে শি জিনপিংকে দেখা না গেলেও, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনসহ ব্রিকসের অন্যান্য সদস্য দেশের রাষ্ট্রপ্রধানরা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, দীর্ঘ সাত বছর পর ভারতের মাটিতে পা রেখেছেন শি জিনপিং। এর আগে দুই রাষ্ট্রনেতার মধ্যে সীমান্ত সমস্যা, বাণিজ্য ও পারস্পরিক সহযোগিতা নিয়ে দীর্ঘক্ষণ ফলপ্রসূ আলোচনা হয়। তা সত্ত্বেও নৈশভোজের মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি কূটনৈতিক মঞ্চে চিনা প্রেসিডেন্টের অনুপস্থিতি শুধু শারীরিক ক্লান্তি, নাকি এর পিছনে অন্য কোনও রাজনৈতিক সমীকরণ রয়েছে, তা নিয়ে কাটাছেঁড়া চলছে বিশেষজ্ঞ মহলে।