জোড়াফুল প্রতীক কার ? উপনির্বাচনের আগে সমস্যা সমাধানের আশা কম, ফ্রিজ করা হতে পারে জোড়াফুল প্রতীক

23

পৃথা দাশগুপ্ত, কলকাতা: জোড়াফুল প্রতীক কার? কালীঘাট–তৃণমূলের, নাকি বিদ্রোহী তৃণমূলের? সেই প্রশ্নের নিষ্পত্তি করতে আজ ব্যাক টু ব্যাক দুই শিবিরের তৃণমূল প্রতিনিধিদের সঙ্গে দিল্লিতে বৈঠক হল জাতীয় নির্বাচন কমিশনের। দুই শিবিরই প্রস্তুত নথিপত্র নিয়ে। দু’পক্ষই আশাবাদী, তৃণমূলের ‘প্রকৃত প্রতিনিধিত্ব’ তারা পাবে।

দিল্লিতে প্রথমে বৈঠক হয় ‘ঋতব্রত তৃণমূল’-এর সঙ্গে । কমিশনের সঙ্গে প্রায় এক ঘন্টা কুড়ি মিনিট বৈঠক হয় তাঁদের । অফিস থেকে বেরিয়েই ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় জানালেন, তাঁরা নির্বাচনের কমিশনের সমস্ত প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাট-তৃণমূল শিবিরকে তীব্র কটাক্ষ করে ঋতব্রত বলেন, ‘তৃণমূল পরিবারভিত্তিক পার্টি নয়’। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ড. বন্দ্যোপাধ্যায় সম্বোধন করে ঋতব্রতর আক্রমণ, ‘একজনের কথায় সব চলতে পারে না’।

প্রথমে ঋতব্রত শিবিরের সঙ্গে বৈঠকে বসে নির্বাচন কমিশন । বৈঠকের পরই সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বিরোধী দলনেতা জানিয়েছেন, তাঁরা তাঁদের বক্তব্য নির্বাচন কমিশনকে জানিয়েছেন। তাঁরা আশাবাদী, কমিশন তাঁদের কথা শুনবে। তবে, প্রতীক নিয়ে কোনও আলোচনা হয়নি বলেই জানিয়েছেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়।

ঋতব্রতদের তরফে কমিশনের শুনানিতে ছিলেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, আখরুজ্জামান, অরূপ রায় ও চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যএবং সঙ্গে তাঁদের আইনজীবী। ঋতব্রত জানিয়েছেন, কমিশনকে সব প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, কমিশনের তরফে আরও কিছু তথ্য চাওয়া হয়েছে। আজই সব নথি জমা দেওয়া হবে।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করেছ তিনি বলেন, “না খাতা, না বহি, যো ড. মমতা ব্যানার্জী কহে ওহি সহি, এটা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় চলতে পারে না। তৃণমূল কংগ্রেস পরিবারভিত্তিক পার্টি নয়। কারও বাবার সম্পত্তি নয়। ব্যক্তিগত মালিকানা নেই। এটা তৃণমূল স্তরের কর্মীদের পার্টি। আমরা আমাদের পয়েন্ট তথ্যের ভিত্তিতে জানিয়েছি। ইচ্ছার উপর গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া চলতে পারে না।”

ঋতব্রত আরও জানিয়েছেন, নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত নিয়ে তাঁরা আশাবাদী। বলেন, “ড. মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নয় যে বলে দেব কী হবে। নির্বাচন কমিশনকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। আরও বেশ কিছু ডকুমেন্ট চাওয়া হয়েছে, তা আমি এক্ষুনি দিয়ে দেব। কী নির্বাচন কমিশন করবেন, কী করবেন না, তা কমিশনের এক্তিয়ার। তাই এটা নিয়ে কথা বলার কিছু নেই।”

তবে প্রতীক নিয়ে কোনও কথা হয়নি বলে জানিয়েছেন ঋতব্রত।

এরপর কালীঘাট তৃণমূল-এর সঙ্গে বৈঠকে বসে কমিশন। নেতৃত্ব দেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বৈঠক থেকে বেরিয়ে এসে বলেন, ‘আমরা আমাদের বক্তব্য রেখেছি। কী কী বলেছি আমি রিপিট করব না। ইলেকশন কমিশন সেটা বিবেচনা করবেন। হয়ত একটা ইন্টেরিম অর্ডার দিতে পারেন। ‘

কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্য়ায় জানান, প্রায় দু’ঘণ্টা বৈঠক হয় । কী ইন্টারিম অর্ডার দেওয়া হবে, সেই নিয়ে কোনও মন্তব্য করতে চাননি কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি জানান, সেটা দেখেই পরবর্তী পদক্ষেপ ঠিক করা হবে।

কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, তাঁদের কাছে কোনও নতুন নথি চাওয়া হয়নি। তাঁরা একটি ডকুমেন্ট দিয়েছেন। কল্যাণ আরো বলেন, ‘ আমরা এটাও বলেছি যে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের পক্ষ থেকে তাঁদের কাছে কোনও ‘ফার্দার ডকুমেন্ট’ আসেনি। তাই ঋতব্রতরা এদিন যদি নির্বাচন কমিশনকে কোনও নথি দিয়ে থাকেন, সেই নথি সম্পর্কে তাঁরা কিছু জানেন না। তাই সে বিষয়ে তিনি কোনও মন্তব্য করতে চাননি।

উপনির্বাচনের আগে চূড়ান্ত ফয়সালার সম্ভাবনা কম। অন্তর্বর্তী কোনও নির্দেশ দিতে পারে কমিশন। আপাতত ফ্রিজ করে দেওয়া হতে পারে ‘জোড়াফুল’ প্রতীক, খবর কমিশন সূত্রে। উপনির্বাচনে লড়তে দু-পক্ষকে অস্থায়ী নাম ও প্রতীক দিতে পারে কমিশন।