পৃথা দাশগুপ্ত: চার দশক পর গ্রেফতার বাংলা-ঝাড়খণ্ড-ওড়িশা পুলিশের ত্রাস । কলকাতা টাস্ক ফোর্সের জালে সিপিআই (মাওবাদী)-র সক্রিয় সদস্য অসীম মণ্ডল ওরফে আকাশ ওরফে তিমির ওরফে মনোজ। মাথার দাম ছিল ১ কোটি টাকা।
পশ্চিম মেদিনীপুরের চন্দ্রকোনা থানার ফুলচকের বাসিন্দা অসীম। ৮০-র দশকে ছাত্র জীবন থেকেই অতি বামপন্থী কার্যকলাপে যুক্ত হয়ে পড়েন। পরে পিডব্লুজি-র সদস্য হন। ২০০৪ সালের ২১ সেপ্টেম্বর সিপিআই (মাওবাদী) গঠন হওয়ার পর জঙ্গলমহলে ফিরে পুরোদমে কাজ শুরু করেন। লালগড় আন্দোলনেও গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করেন। ২০১০ এ পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য কমিটির সম্পাদকের দায়িত্ব পান তিনি। এছাড়াও বাংলা-ঝাড়খণ্ড-ওড়িশা রিজিওনাল কমিটির গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন তিনি। তবে কিষানজির মৃত্যুর পর আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেননি।
জঙ্গলমহল থেকে ঝাড়খণ্ডে গা ঢাকা দেন। দীর্ঘ ১৫ বছর পর সদলবলে ফেরার সময় ৪ আগস্ট ঝাড়খণ্ড পুলিশের জালে তিনজন গ্রেফতার হন। একজন আত্মসমর্পণ করেন। তারপরেই বঙ্গ ব্রিগেডের সামরিক বাহিনী নিজের হাতে ভেঙে দেন। শচিন, মিতা , জবারাও এই রাজ্যের পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেন। তবে তাঁরা সকলেই পুলিশকে জানিয়েছিলেন, আকাশ কোনওভাবেই আত্মসমর্পণ করবেন না। পাশাপশি কিছুদিন বাইরে থেকে পরিস্থিতি ঠিক হলে পরিকল্পনা ছিল ফের জঙ্গলমহলে ফিরে আসার।
পুলিশ সূত্রের খবর, আজ ভোরে পূর্ব মেদিনীপুর জেলার পটাশপুর এলাকার একটি জায়গা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। উদ্ধার হয়েছে দুটি ব্যাগ। যার মধ্যে মাও পুস্তক-পুস্তিকা, বৈদ্যুতিন সরঞ্জাম রয়েছে বলে খবর। তবে আনুষ্ঠানিক ভাবে এখনও পর্যন্ত রাজ্য পুলিশের তরফে কিছু জানানো হয়নি।
পুলিশ সূত্রে খবর, আকাশের স্ত্রী পূর্ব মেদিনীপুর জেলার পটাশপুর এলাকার বাসিন্দা। তিনিও সিপিআই (মাওবাদী)-র সক্রিয় কর্মী ছিলেন। ২০১০ সালে কলকাতা পুলিশের টাস্ক পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হন। বর্তমানে তিনি জেলেই আছেন।