নিউজ ডেস্ক: জুবিন গার্গের রহস্যমৃত্যু মামলায় জামিন পেলেন অমৃতপ্রভা মহন্ত। গুয়াহাটি হাইকোর্ট জামিন দিয়েছেন জুবিনের সহশিল্পী অমৃতপ্রভা মহন্তকে। ২০২৫ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর সিঙ্গাপুরে রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছিল অসমের সংগীত আইকন জুবিন গার্গের। তদন্তে নেমে ২ অক্টোবর জুবিনের সহশিল্পী অমৃতপ্রভা মহন্তকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। এরপর থেকে অমৃতপ্রভাকে রাখা হয়েছিল হাফলং কারাগারে।
বারবার জামিনের আবেদন খারিজ হয়ে যায় অমৃতপ্রভার মহন্তর। ৭ অক্টোবর অমৃতপ্রভার জামিনের শুনানি শেষে রায় সংরক্ষিত রেখেছিল গুয়াহাটি হাইকোর্ট। শুক্রবার ৫০ হাজার টাকার ব্যক্তিগত বন্ডে জামিন দেওয়া হয় অমৃতপ্রভা মহন্তকে।
নর্থ ইস্ট ইন্ডিয়া ফেস্টিভ্যাল-এ যোগ দিতে গিয়ে সিঙ্গাপুরে সমুদ্রতীরে সাঁতার কাটার সময় ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে ৫২ বছর বয়সি জুবিন গার্গের মৃত্যু হয়েছিল।তাঁর মৃত্যু অসম জুড়ে ব্যাপক প্রতিবাদের জন্ম দেয় এবং সাধারণ মানুষ এই ঘটনার পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতির সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানায়।
এরপর অসম সরকার এই ঘটনার তদন্তের জন্য একটি এসআইটি গঠন করে। তদন্তের সূত্র ধরে সিঙ্গাপুর সফরে জুবিনের সঙ্গী বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এঁদের মধ্যে ছিলেন উৎসবের আয়োজক শ্যামকানু মহন্ত, গায়কের ম্যানেজার সিদ্ধার্থ শর্মা এবং ব্যান্ডের সদস্য শেখরজ্যোতি গোস্বামী ও অমৃতপ্রভা মহন্ত।
পরবর্তীকালে এসআইটি অমৃতপ্রভা মহন্ত, শ্যামকানু মহন্ত, সিদ্ধার্থ শর্মা ও শেখরজ্যোতি গোস্বামীর বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ এনে চার্জশিট দাখিল করে। জুবিনের তুতোভাই সন্দীপন গর্গের বিরুদ্ধে খুনের পর্যায়ে পড়ে না এমন হত্যার অভিযোগ আনা হয়। অন্যদিকে তাঁর ব্যক্তিগত নিরাপত্তা কর্মী নন্দেশ্বর বরা ও পরেশ বৈশ্যের বিরুদ্ধে অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র এবং অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগ গঠন করা হয়।
সিঙ্গাপুর সফরের সময় জুবিন গার্গের মৃত্যুর পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতিই এই মামলার মূল বিষয়। তদন্তকারীরা এটিকে নিছক দুর্ঘটনাবশত জলে ডুবে মৃত্যু না বলে এর পেছনে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলেছেন। এর আগে, আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত একটি পৃথক মামলায় জুবিনের ব্যক্তিগত দুই নিরাপত্তা রক্ষী জামিন পেয়েছিলেন।