নিউজ ডেস্ক: প্রস্তাবিত কুলসি বহুমুখী প্রকল্পের জন্য এনওসি (NOC) না দেওয়ার অঙ্গীকার মেঘালয়ের খাসি সম্প্রদায়ের তিন নেতার। অসম-মেঘালয় সীমান্তের কাছে প্রস্তাবিত এই বাঁধের বিরুদ্ধে আয়োজিত প্রতিবাদ কর্মসূচিতে তাঁরা রাভা, বড়ো, গারো ও খাসি সম্প্রদায়ের দুহাজারেরও বেশি মানুষের সঙ্গে যোগ দেন।
মেঘালয়ের উকিয়ামের কাছে কিরশাই খেলার মাঠে আসাম-মেঘালয় জয়েন্ট প্রোটেকশন কমিটির উদ্যোগে সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছিল। এই বাঁধ হলে বাসস্থানের ক্ষতি, পরিবেশে বিরূপ প্রভাব এবং উভয় রাজ্যের ভূমির অধিকার ও জীবিকার ওপর প্রভাব পড়বে বলে দাবি বিরোধীদের।
বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে যোগ দেন হিমা নংখলাও-এর ‘সিয়েম’ (প্রধান) কেস্টর মানিক সিয়েম ইচ, হিমা নংমিনসাও-এর সিয়েম ফ্লোয়িং সিয়েম নংবাক এবং হিমা রামব্রাই-এর সিয়েম অর্ডার সিয়েম সাদ।
নংখলাও-এর সিয়েম কেস্টর মানিক ইচ বলেন যে, মেঘালয়ে জমি-সংক্রান্ত কোনও প্রকল্পের জন্য সংশ্লিষ্ট সিয়েম ও গ্রামপ্রধানসহ প্রথাগত কর্তৃপক্ষের সম্মতির প্রয়োজন হয়। তিনি উল্লেখ করেন যে, প্রস্তাবিত কুলসি বাঁধের জন্য কোনও এনওসি দেওয়া হয়নি এবং নিশ্চিত করেন যে প্রয়োজনীয় সেই সম্মতি দেওয়া হবে না।
আসাম-মেঘালয় জয়েন্ট প্রোটেকশন কমিটির সভাপতি আলবার্ট নংলাং জানান, প্রস্তাবিত বাঁধটির কারণে উভয় রাজ্যের প্রায় ৪৬টি গ্রাম ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তিনি যুক্তি দেন যে, আদিবাসী জনগোষ্ঠীর বাস্তুচ্যুতির ফলে সৃষ্ট দীর্ঘমেয়াদী প্রভাবের ক্ষতিপূরণ কেবল অর্থ প্রদানের মাধ্যমে যথাযথভাবে পূরণ করা সম্ভব নয়।
নংলং বলেছেন যে, প্রস্তাবিত ৬২-মিটার উঁচু বাঁধ অসমের কামরূপ জেলা এবং মেঘালয়ের পশ্চিম খাসি হিলস জেলার ওপর উল্লেখযোগ্য পরিবেশগত ও সামাজিক প্রভাব ফেলবে।
আসাম-মেঘালয় ইয়ুথ জয়েন্ট প্রোটেকশন কমিটির সভাপতি বিশ্বজিৎ রাভা বলেছেন, এই প্রকল্প নিয়ে বিতর্কের ক্ষেত্রে মেঘালয়ের উপজাতীয় এলাকাগুলোর জন্য সংবিধানের ষষ্ঠ তফসিলে প্রদত্ত সুরক্ষা ব্যবস্থাগুলো একটি গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য বিষয়।
এই সমাবেশে কুলসি নদী অববাহিকার গ্রামগুলোর বাসিন্দারা একত্রিত হয়েছিলেন। প্রস্তাবিত প্রকল্প নিয়ে উদ্বেগের জেরে আন্তঃরাজ্য সীমানা জুড়ে যৌথভাবে এই আন্দোলন চলছে।
প্রস্তাবিত কুলসি বহুমুখী প্রকল্পটি অসম-মেঘালয় সীমান্তের কুলসি নদীর ওপর গড়ে তোলার পরিকল্পনা করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় জলশক্তি মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, এই প্রকল্পের মাধ্যমে ৫৫ মেগাওয়াট জলবিদ্যুৎ উৎপাদন, প্রায় ২৬,০০০ হেক্টর জমিতে সেচ সুবিধা এবং আনুষঙ্গিক বন্যা নিয়ন্ত্রণ সুবিধা পাওয়ার লক্ষ্য রয়েছে।
প্রকল্পের আনুমানিক ব্যয় ১,৪৫৪.৯৫ কোটি টাকা। প্রকল্পটিকে এগিয়ে নেওয়ার পদক্ষেপ হিসেবে ব্রহ্মপুত্র বোর্ড ৩০ জুলাই, ২০২৬ আসাম পাওয়ার জেনারেশন কর্পোরেশন লিমিটেড (এপিজিসিএল)-এর কাছে ডিপিআর এবং সংশ্লিষ্ট নথিপত্র হস্তান্তর করে।