ইন্ডিয়া ব্লকের সাক্ষাতের প্রস্তাব ফেরালেন প্রধান বিচারপতি

43

নিউজ ডেস্ক: প্রধান বিচারপতির সঙ্গে দেখা করতে চায় বিরোধী ইন্ডিয়া ব্লক। যদিও প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত সেই প্রস্তাব ফিরিয়ে বলেছেন, সুপ্রিম কোর্টের দরজা সবার জন্য খোলা, কিন্তু ব্যক্তিগতভাবে কোনও রাজনৈতিক দলের সঙ্গে দেখা করা সম্ভব নয়। তাঁর সঙ্গে দেখা করার চেয়ে ইন্ডিয়া ব্লক বরং সুপ্রিম কোর্টে মামলা করতে পারে, পরামর্শ প্রধান বিচারপতির।
মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশকুমারের বিরুদ্ধে আন্দোলনের অংশ হিসেবে বিরোধীরা জানিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট অভিমুখে পদযাত্রা করবে। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী ও মল্লিকার্জুন খাড়গে ভোটচুরি নিয়ে আলোচনার জন্য প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তের সঙ্গে সাক্ষাতের সময় চেয়েছিলেন।
রাহুল ও খাড়গে প্রধান বিচারপতিকে চিঠি লিখে সোমবার বিকেল ৪-৫টার মধ্যে সাক্ষাতের অনুরোধ জানিয়েছিলেন। স্মারকলিপি জমা দিয়ে ভোটচুরি বন্ধ, জ্ঞানেশকুমারের পদত্যাগ, এসআইআর স্থগিত এবং ফের কাগজের ব্যালটে ভোটগ্রহণের দাবি জানাতে চেয়েছিলেন।
সোমবার এনএইচআরসি-র ৩৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত বলেন, সাক্ষাতের অনুরোধ জানিয়ে গতকাল আমি একটি চিঠি পেয়েছিলাম এবং গত রাতেই তার জবাব দিয়েছি। সেখানে কী কারণে আমি দেখা করতে পারব না, তা উল্লেখ করেছি।
তিনি আরও বলেন, সুপ্রিম কোর্টের দরজা সবার জন্য খোলা। সাধারণ নাগরিক বা কোনও নির্বাচিত সংস্থার সদস্য— সব পক্ষের আবেদনই স্বাগত। আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার অধিকার প্রত্যেক ভারতীয় নাগরিকের রয়েছে। আমরা তাঁদের বক্তব্য শুনব এবং আইন অনুযায়ী যা প্রাপ্য, তা নিশ্চিত করব।
সুপ্রিম কোর্টের পক্ষে একটি ইমেলে জানানো হয়েছে যে বিরোধী নেতারা যেসব বিষয় উত্থাপন করেছেন, সেগুলোর সুরাহা স্মারকলিপি জমা দেওয়ার পরিবর্তে বরং আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই করা সম্ভব।
কংগ্রেস সোমবারের এই বিক্ষোভ কর্মসূচিকে ‘চলো দিল্লি – গণতন্ত্রের জন্য পদযাত্রা’ নাম দিয়েছে।
সমাজমাধ্যমে রাহুল গান্ধী ভিডিয়োবার্তায় বলেছেন যে, দল, লিঙ্গ, জাতি, সম্প্রদায় ও রাজ্যের ঊর্ধ্বে উঠে ঐক্যবদ্ধ ভারতীয় হিসেবে সুপ্রিম কোর্ট অভিমুখে পদযাত্রা হবে।
রাহুলের কথায়, গতকাল দিল্লির রাস্তায় শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদে শামিল হয়েছিলেলন দেশের তরুণরা। তাঁদের মনে ছিল ভালোবাসা, ঘৃণা বা ক্ষোভ নয়। অথচ পুলিশ ও বিজেপির গুন্ডারা তাঁদের ওপর লাঠি চালিয়েছে। আমরা এমন ভারত চাই না।
এরপর রাহুল বলেন, আমরা দল, লিঙ্গ, জাতি, সম্প্রদায় ও রাজ্যের ঊর্ধ্বে উঠে ঐক্যবদ্ধ ভারতীয় হিসেবে সুপ্রিম কোর্ট অভিমুখে পদযাত্রা করব। তরুণ সমাজ, সমস্ত বিরোধী দল, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং গণতন্ত্র ও ভারতের সংবিধানে বিশ্বাসী ও তার পাশে দাঁড়ানো সকলেই আমাদের সঙ্গে এই পদযাত্রায় অংশ নেবেন, বলেছেন গান্ধী।
এর আগে, ইন্ডিয়া জোটের নেতারা সংসদ ভবন থেকে বিজয় চক পর্যন্ত পদযাত্রার পর রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর কাছে স্মারকলিপি জমা দিয়েছেন।
বেঙ্গালুরুতে মল্লিকার্জুন খাড়গে বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ সারা দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছেন। দিল্লিতে বিক্ষোভ চলাকালীন বিপুল পুলিশ মোতায়েন ও ধরপাকড়ের ঘটনা তরুণদের এই আন্দোলন নিয়ে সরকারের ভীতিকেই প্রকাশ করে।
জুন মাসে ইন্ডিয়া জোটের পক্ষ থেকে রাহুল গান্ধী ও খাড়গে প্রধান বিচারপতির কাছে একটি চিঠি পাঠিয়েছিলেন। ডিএমকে এবং আম আদমি পার্টিও সেই চিঠিতে স্বাক্ষর করেছিল।
সেই চিঠিতে ইন্ডিয়া জোট এসআইআর প্রক্রিয়াকে বিশাল বিপর্যয় হিসেবে অভিহিত করেছিল এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশকুমারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল।
চিঠিতে বলা হয়েছিল, বিজেপি-বিরোধী সমমনস্ক রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিনিধি হিসেবে আমরা সবাই বিশ্বাস করি যে নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করা হচ্ছে এবং একাধিক ক্ষেত্রে নির্বাচনী ফলাফলে জনগণের প্রকৃত ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটছে না।
ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এ প্রকাশিত প্রতিবেদনে নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্যের কথা উঠে আসার কয়েক দিনের মধ্যেই বিরোধীদের তৎপরতা শুরু হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ১০ মাসে নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু এবং বিবেক জোশি অন্তত ১৪ বার বিভিন্ন বিষয়ে— যার মধ্যে এসআইআর অন্তর্ভুক্ত— লিখিতভাবে আপত্তি জানিয়েছেন।