নিউজ ডেস্ক: জুবিন গার্গের মৃত্যুরহস্যে ধৃত সংগীতশিল্পী অমৃতপ্রভা মহন্তকে জামিনে হাফলং কারাগার থেকে মুক্ত হয়েই যেতে হল ফাস্ট ট্র্যাক আদালতে। ৯ অক্টোবর গুয়াহাটি হাইকোর্ট অমৃতপ্রভাকে জামিন দিলেও হাফলং কারাগার থেকে তিনি মুক্ত হন মঙ্গলবার।
মঙ্গলবার জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর অমৃতপ্রভাকে আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। এদিকে, আদালত চত্বরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আচরণের বিষয়ে অমৃতপ্রভা মহন্তের আইনজীবী আনন্দ কুমার ভুঁইয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে।
আদালতের প্রবেশপথে অমৃতপ্রভা যখন সংবাদকর্মীদের মুখোমুখি হন, তখন ভুঁইয়াকে সাংবাদিকদের সঙ্গে তর্কে জড়াতে এবং তাঁদের হুমকি দিতে দেখা যায়।
অসমের মিউজিক আইকন জুবিন গার্গের রহস্যমৃত্যুর ঘটনায় অভিযুক্ত সাতজনের মধ্যে অন্যতম গায়িকা অমৃতপ্রভা মহন্ত মঙ্গলবার হাফলং সাব-জেল থেকে মুক্তি পেয়েছেন। এর চার দিন আগে গুয়াহাটি হাইকোর্ট তাঁকে জামিন দিয়েছিল।
মামলার আরেক অভিযুক্ত এবং জুবিন গার্গের প্রাক্তন ব্যান্ড-সঙ্গী শেখরজ্যোতি গোস্বামীর সঙ্গেই অমৃতপ্রভা মহন্ত হাফলং সাব-জেলে বন্দি ছিলেন। মামলার অন্য অভিযুক্তরা তামুলপুর জেলে রয়েছেন।
জুবিন গার্গের মৃত্যুর মূল মামলায় কোনো অভিযুক্তের জামিন পাওয়ার এটিই প্রথম ঘটনা। এর আগে, আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত একটি পৃথক মামলায় জুবিনের ব্যক্তিগত দুই নিরাপত্তারক্ষী জামিন পেয়েছিলেন।
অমৃতপ্রভার জামিন নিয়ে তোপ দেগেছেন জুবিনের বোন পামি বরঠাকুর। তিনি জানতে চেয়েছেন, তাঁর ভাইয়ের মৃত্যুর মামলার অভিযুক্তদের কি সাধারণ বন্দির মতো দেখা হচ্ছে, নাকি তাদের বিশেষ সুবিধা দেওয়া হচ্ছে।
সমাজমাধ্যমে অমৃতপ্রভার জামিন নিয়ে প্রশ্ন তোলেন পামি বরঠাকুর। তিনি উল্লেখ করেন যে, কারাগার থেকে বেরোনোর সময় অমৃতপ্রভার প্রচুর জিনিসপত্র একটি গাড়িতে তোলা হচ্ছিল।
ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে পামি বরঠাকুর জানান, তিনি কারাগারের ভেতর থেকে একটি গাড়িতে প্রচুর জিনিসপত্র বোঝাই হতে দেখেছেন।
পামি বরঠাকুর লিখেছেন, অমৃতপ্রভার চালক গাড়িটি যেন প্রত্যক্ষদর্শীদের ওপরই তুলে দিতে চেয়েছিলেন, যেন বোঝাতে চাইছিলেন— সাবধান হও, ইনি জুবিন গার্গ হত্যা মামলার একজন অভিযুক্ত, কোনও সাধারণ মানুষ নন, তাই দূরে থাকো।
অমৃতপ্রভার জিনিসপত্রের পরিমাণ নিয়েও পামি প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর মতে, এর মাধ্যমে অভিযুক্ত ব্যক্তি প্রায় এক বছর ধরে যে পরিস্থিতিতে কারাবন্দি ছিলেন তা নিয়ে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
আজই জানলাম যে, একটি কারাগারে হত্যা মামলার কোনো অভিযুক্তকে এত বিপুল পরিমাণ জিনিসপত্র রাখার অনুমতি দেওয়া হয়, কটাক্ষ পামি বরঠাকুরের। বুঝতেই পারছিলাম না এটা কারাগার নাকি কোনও বিলাসবহুল হোটেল, লিখেছেন পামি।
পোস্টের শেষে পামি বরঠাকুর প্রশ্ন তোলেন যে, অভিযুক্তদের সাধারণ বন্দি হিসেবে দেখা হচ্ছে, নাকি কারাগারে থাকাকালীন তাঁদের ভিআইপি সুবিধা দেওয়া হচ্ছে।
Next Post