কাপুরুষোচিত কাজ, সিজেপি নেতাদের গ্রেফতারে মুখ খুললেন রাহুল গান্ধী

26

নিউজ ডেস্ক: ককরোচ জনতা পার্টির নেতাদের গ্রেফতারের পর সরকারের তীব্র সমালোচনা করেছেন বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। সমাজমাধ্যমে তিনি বলেছেন, এটা ভীরুতার লক্ষণ। মঙ্গলবার যন্তর মন্তরে অবৈধভাবে প্রবেশের অভিযোগে ককরোচ জনতা পার্টির নেতা আশুতোষ রাঙ্কা, সৌরভ দাস সহ ১৪ জনকে গ্রেফতার করেছে দিল্লি পুলিশ। আদালত তাঁদের ৫ দিনের বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠিয়েছে।
সম্প্রতি যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ প্রদর্শন বাতিল করেছে কেন্দ্র। সেখানে অনধিকার প্রবেশের অভিযোগে সিজেপি-র নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে পাঁচ দিনের বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠানোর বিষয়টি নিয়ে রাহুল গান্ধী সহ বিরোধী দলের নেতারা সমালোচনা করেছেন।
রাহুল গান্ধী বলেছেন, শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে যন্তর মন্তরে তেরঙা পতাকা ওড়ানো কোনও অপরাধ নয়। এর জন্য তরুণদের জেলে পাঠানো কাপুরুষের কাজ।
মঙ্গলবার কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধী বলেন, ভিন্ন ভিন্ন ব্যানারের অধীনে বিক্ষোভ করলেও শিক্ষার্থী, তরুণ সমাজ, সাংবাদিক এবং ইন্ডিয়া জোট একটি অভিন্ন লক্ষ্যের জন্য ঐক্যবদ্ধ। ব্যানার আলাদা হলেও লক্ষ্য এক। সব বিক্ষোভই আসলে এক— নাগরিকদের নিজেদের সাংবিধানিক অধিকারের দাবি। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে যন্তর মন্তর ভারতের জনগণের সম্পত্তি এবং এই বিক্ষোভস্থল পুনরুদ্ধার করব।
এর আগে, ১০ অক্টোবর স্বাক্ষরিত পুলিশের মুচলেকায় স্বাক্ষর করেছিলেন সিজেপির তিন নেতা অভিজিৎ দীপকে, আশুতোষ রাঙ্কা ও সৌরভ দাস। সেই মুচলেকা ভঙ্গ এবং কোনও অনুমতি ছাড়াই যন্তর মন্তরে অনধিকার প্রবেশের অভিযোগে দাস ও রাঙ্কাকে তিহার জেলে পাঠানো হয়। সিজেপি নেতা আজিঙ্ক শিন্ডেকেও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থায় গ্রেফতার করা হয়েছিল, তবে তাঁকে ব্যক্তিগত বন্ডে ছেড়ে দেওয়া হয়।
এই ঘটনার সমালোচনা করে দিল্লির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল প্রশ্ন তোলেন যে, ভারতের জাতীয় পতাকা ওড়ানো কি অপরাধ।
তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপিকে কটাক্ষ করে দেশকে “পাকিস্তানি-করণ হওয়া ভারত” বলে অভিহিত করেছেন। অভিষেক বলেছেন, তথাকথিত সবচেয়ে বড় দেশপ্রেমিকরা নিজেদের দেশেই জাতীয় পতাকা ওড়ানোর জন্য নাগরিকদের গ্রেফতার করছে!


সোমবার অমিত শাহর দিল্লি পুলিশ যন্তর মন্তরকে বিক্ষোভ ও আন্দোলনের নির্ধারিত স্থান হিসেবে তালিকা থেকে বাদ দেয় এবং তিনটি বিকল্প স্থানের নাম ঘোষণা করে। ২৮ এপ্রিল ২০২২ যন্তর মন্তরকে বিক্ষোভের স্থান হিসেবে নির্দিষ্ট করা হয়েছিল।
এই ঘটনার প্রেক্ষিতে, সিজেপি প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে ভিন্নমত দমনের অভিযোগ তুলেছেন।
দীপকে বলেছেন, ওদের অপরাধ কী? যন্তর মন্তরে তেরঙা পতাকা ওড়ানো। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর উদ্দেশে সরাসরি বার্তা দিয়ে তিনি বলেন, একটু সাহস দেখান। যদি ভিন্নমত দমন করতেই এত দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হন, তবে কাপুরুষোচিত কৌশলের আড়ালে না লুকিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করার সাহস দেখান।
দীপকে প্রশ্ন তোলেন যে সিজেপি নেতারা ঠিক কী অপরাধ করেছেন। তিনি বলেন, যন্তর মন্তরে তেরঙা ওড়ানোর জন্য মানুষকে পাঁচ দিন ধরে হেফাজতে আটকে রাখাটা কাপুরুষোচিত কাজ। এটা তো জরুরি অবস্থার সময়ও ঘটেনি। দীপকে আরও বলেন, এই দেশে জাতীয় পতাকা ওড়ানো এখন সবচেয়ে বড় অপরাধ হয়ে দাঁড়িয়েছে, যার জন্য মানুষকে পাঁচ দিনের বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হচ্ছে। নরেন্দ্র মোদীকে বলতে চাই, এত বড় কাপুরুষ হবেন না, একটু সাহস দেখান। যদি জরুরি অবস্থা জারি করতেই চান, তবে সাহস থাকলে আনুষ্ঠানিকভাবেই তা করুন।