নিউজ ডেস্ক: দিল্লির প্রতিবাদ নিয়ে চিত্র প্রদর্শনী করতে চেয়েছিলেন প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর ছেলে রেহান বাডরা কিন্তু অনুষ্ঠান শুরুর তিন ঘণ্টা আগে আয়োজক বিকানের হাউসের পক্ষ থেকে একশোর মধ্যে অন্তত ৭০টি ছবি সরিয়ে নিতে বলা হয় রেহানকে। এর মধ্যে একটি ছবি ছিল ভারতের জাতীয় পতাকার।
এই ঘটনায় শিল্পী ও আলোকচিত্রী রেহান বিকানের হাউসের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি বিকানের হাউস কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে শৈল্পিক স্বাধীনতা খর্ব করার অভিযোগ এনেছেন।
রেহান জানান, প্রদর্শনীর বিন্যাস আগেভাগে জমা দেওয়া সত্ত্বেও, বিকানের হাউস কর্তৃপক্ষ দুটি কক্ষ জুড়ে থাকা ৭৫টি আলোকচিত্রের বিষয়ে আপত্তি জানায়। তারা এর পেছনে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও বুকিং নীতির দোহাই দিয়েছে।
আলোকচিত্রগুলো সরিয়ে ফেলায় কক্ষ দুটি প্রায় খালি হয়ে পড়ে। রাইহানের মতে, এই সংগ্রহটি শুধু দিল্লির সাম্প্রতিক বিক্ষোভের ছবিই নয়, বরং তাঁর গত তিন বছরের কাজের প্রতিফলন।
রেহান বলেন, আমার মতে, শিল্পের ওপর যে কোনও ধরনের হস্তক্ষেপই ভুল। তাঁর যুক্তি, কোনও আলোকচিত্রকে ‘আপত্তিকর’ মনে হতে পারে— এই অজুহাতে বিপুল সংখ্যক ছবি সরিয়ে ফেলা একটি সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের জন্য একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয়।
‘নো আইডিয়া ইজ ফাইনাল’ শিরোনামের এই প্রদর্শনীতে রাইহানের গত তিন বছরের আলোকচিত্রকর্ম স্থান পেয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে স্ট্রিট ফটোগ্রাফি, যুব আন্দোলন এবং দিল্লির সাম্প্রতিক বিক্ষোভের বিভিন্ন মুহূর্তের ছবি।
প্রদর্শনীটিতে ১০০টিরও বেশি আলোকচিত্র ও শিল্পকর্ম থাকলেও, দুটি কক্ষ জুড়ে থাকা ৭৫টি আলোকচিত্র নিয়ে কর্তৃপক্ষ আপত্তি জানায়।
রেহান জানিয়েছেন, ১৫ অক্টোবর তিনি ‘বিকানের হাউস’-এর কাছে প্রদর্শনীর লেআউট জমা দিয়েছিলেন এবং কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে তা গ্রহণের স্বীকৃতিও পেয়েছিলেন।
তবে, ২০ অক্টোবর প্রদর্শনী শুরুর মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে তাঁকে জানানো হয় যে, কিছু আলোকচিত্র হয়তো স্থানটির বুকিং নীতিমালার পরিপন্থী হতে পারে।
তিনি বলেন, আমি জানিয়েছিলাম যে, আমি কোনও ছবিই সরাতে ইচ্ছুক নই। তবে আপনাদের যদি সত্যিই কোনও সমস্যা থাকে, তবে তা লিখিতভাবে জানান— কোন ছবিগুলো নিয়ে সমস্যা এবং কেন সমস্যা, তা উল্লেখ করুন। এরপর আমরা আলোচনা করতে পারি, হয়তো আমি কিছু ছবি বদলে দিতে পারি।
রেহান জানান, ২১ অক্টোবর দুপুর ২টো পর্যন্ত কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে কোনও সাড়া পাওয়া যায়নি। এরপর তাঁকে জানানো হয় যে, ওই আলোকচিত্রগুলো সরিয়ে ফেলতে হবে।
তিনি আরও জানান, পরবর্তীতে প্রিন্সিপাল রেসিডেন্ট কমিশনার তাঁকে বলেন যে, ভারতে ও দিল্লিতে বর্তমানে যা ঘটছে, তার প্রেক্ষাপটে এই ছবিগুলোর সময়কাল ও বিষয়বস্তু সেগুলোকে রাজনৈতিক রূপ দিয়েছে; আর তাই এগুলো স্থানটির নীতিমালার পরিপন্থী।
রেহান বলেন, কোনও শিল্পকর্ম প্রদর্শনের সুযোগ থাকবে কি না, তা সেই শিল্পকর্মের চারপাশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট দিয়ে নির্ধারণ করা উচিত নয়।
তিনি জানান, বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে প্রশাসন সতর্ক করে দেয় যে, বিকেল ৪টার মধ্যে ছবিগুলো সরিয়ে না নিলে প্রদর্শনীটি বাতিল করা হবে।
উদ্বোধনের মাত্র কয়েক ঘণ্টা বাকি থাকতে, রায়হান ও তাঁর দল প্রাথমিকভাবে ছবিগুলোকে উল্টে দেন, যাতে ফ্রেমের পেছনের অংশ দর্শকদের দিকে থাকে।
২০২১ সালে বিকানের হাউসে রেহান প্রথম প্রদর্শনী করেছিলেন এবং এরপর থেকে প্রায় প্রতি বছরই সেখানে ফিরে এসেছেন।
তিনি বলেন, যদি কোনও কাজে খুব বেশি প্রত্যক্ষ রাজনৈতিক বিষয় থাকে, স্লোগান ব্যবহার করা হয়, কিংবা কোনও শিল্পকর্মে নগ্নতা থাকে— সেটা সরিয়ে ফেলার বিষয়টি বোধগম্য। কিন্তু কারো কাছে আপত্তিকর মনে হতে পারে এই অজুহাতে ৭৫টি ছবি একসঙ্গে সরিয়ে ফেলাটা একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয়।
এরপরই তাঁর তীব্র বিষোদগার, যদি আপনারা মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে খর্ব করেন, তবে আপনারা নিজেদের সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান বা শিল্পকলার অংশীদার বলে দাবি করতে পারেন না। সরকারের সঙ্গে বিষয়বস্তুর মতপার্থক্য রয়েছে বলেই কোনও শিল্পকর্ম সরিয়ে ফেলা উচিত নয়।
বিকানের হাউসের এক কর্মকর্তা বলেন, এব্যাপারে কথা বলার অনুমতি তাঁর নেই।
এই পদক্ষেপকে হাস্যকর বলেছেন প্রিয়াঙ্কা গান্ধী। তাঁর ছেলের তোলা ছবিগুলোর পক্ষে দাঁড়িয়ে প্রিয়াঙ্কা বলেছেন, ছবিগুলোতে আপত্তিকর কিছু নেই; বরং সেগুলো শুধু বিভিন্ন ঘটনার দলিল মাত্র। এখন আর দেশে গণতন্ত্র নেই। আজ আমার ছেলে, আগামীকাল অন্য কোনো শিল্পী হয়তো এমন পরিস্থিতির শিকার হবে।
সমাজমাধ্যমে প্রিয়াঙ্কা লিখেছেন, যখন ক্ষমতাবান কেউ অন্য কারো মতপ্রকাশকে ভয় পেতে শুরু করেন, তখন তিনি হয়তো বুঝতেও পারেন না যে, যে ক্ষমতাকে তিনি রক্ষা করতে চাইছেন, তা তিনি আসলে আগেই হারিয়ে ফেলেছেন।
তিনি আরও যোগ করেন, তুমি সত্যের পক্ষে দাঁড়িয়েছ— আর যা কিছু সুন্দর, তা নিজে থেকেই তোমার কাছে ধরা দেবে। আমি তোমাকে নিয়ে গর্বিত, সবসময়ই থাকব।
Next Post