সিয়াং মেগা বাঁধ বিতর্ক: আলোচনার আহ্বান অরুণাচলের মুখ্যমন্ত্রীর

35

নিউজ ডেস্ক: অরুণাচল প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী পেমা খান্ডু প্রস্তাবিত ‘সিয়াং আপার মাল্টিপারপাস প্রজেক্ট’ নিয়ে ঐকমত্য গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন। শুক্রবার বিক্ষোভকারী ও নিরাপত্তা কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনার প্রেক্ষিতে, মেগা বাঁধের বিরোধিতাকারী সংগঠনগুলোকে আলোচনার জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছেন খান্ডু।
সিয়াং জেলার গেকু-র কাছে ডিট-ডাইমে এলাকায় সংঘর্ষের সময় অন্তত চার মহিলা আহত হন। প্রস্তাবিত ১১,২০০ মেগাওয়াট প্রকল্পের বিরোধিতাকারী বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে। বিক্ষোভকারীরা পুলিশের সাতটি গাড়ি জ্বালিয়ে দেয়। থানায় আগুন, এনএইচপিসি কার্যালয় ভাঙচুর করে বিক্ষোভকারীরা।
মেগা বাঁধ বিরোধী আন্দোলনের ডাক দিয়েছে আদি বানে কেবাং ইউনাইটেড, এসইউএমপি এফেক্টেড এরিয়া ইয়ুথ অ্যাসোসিয়েশন, সিয়াং ইন্ডিজেনাস ফার্মার্স ফোরাম ইয়ুথ উইং এবং আদি গালো ওয়েলফেয়ার সোসাইটি। সংগঠনগুলোর দাবির মধ্যে রয়েছে, ধৃত ১০ আন্দোলনকারীর মুক্তি, সাময়িক বরখাস্ত হওয়া গ্রামপ্রধানদের পুনর্বহাল, প্রস্তাবিত প্রকল্পের সঙ্গে সম্পর্কিত প্রাক্-সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের সব কর্মসূচি প্রত্যাহার এবং ওই অঞ্চলে মোতায়েন আধাসামরিক ও কেন্দ্রীয় বাহিনীকে সরিয়ে নেওয়া।
বিক্ষোভকারীদের এসব দাবি প্রস্তাবিত জলবিদ্যুৎ ও জলসংরক্ষণ প্রকল্পের বিরুদ্ধে স্থানীয় সম্প্রদায়ের বিরোধকেই তুলে ধরে। বিশেষ করে, জমি, জীবিকা ও পরিবেশের ওপর এই প্রকল্পের সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে তারা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।
সিয়াং প্রকল্পের বিরোধিতার কারণ
১১,২০০ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতার প্রস্তাবিত ‘সিয়াং আপার মাল্টিপারপাস প্রজেক্ট’টি অরুণাচল প্রদেশের সিয়াং নদী অববাহিকায় একটি বড় পরিকাঠামোগত প্রকল্প। স্থানীয় আদিবাসী সম্প্রদায়ের একাংশ এই প্রকল্পের বিরোধিতা করছে। তাদের আশঙ্কা, এর ফলে সামাজিক ও পরিবেশগত প্রভাব পড়ার পাশাপাশি তাঁদের জীবন-জীবিকাও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
পেমা খান্ডু লক্ষ আলোচনার মাধ্যমে মতপার্থক্য দূর করা এবং উত্তেজনা বৃদ্ধি রোধ করা। আশা করা হচ্ছে, এই আলোচনার মধ্য দিয়ে সরকার এবং প্রকল্পের বিরোধিতাকারী সংগঠনগুলো আলোচনার টেবিলে বসবে।