গুয়াহাটিতে ব্যবসা কেন্দ্রিক সংঘাতের জেরে গুলি! নিহত একই পরিবারের ৪ সদস্য সহ পাঁচ জন

28

নিউজ ডেস্ক: সোমবার রাত। ঘড়ির কাটায় তখন ৯টা বাজতে চলেছে। গুয়াহাটির বরাসার্ভিসে গুলিচালনার ঘটনায় মৃত্যু হয় ৫ জনের। মৃতদের মধ্যে রয়েছেন একই পরিবারের ৪ সদস্য। দেশজুড়ে আলোড়ন তোলা এই ঘটনার মূল অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

গুয়াহাটির ‘হোটেল বিলাস ইন’-এর ঘটনা। যার মালিক হেলেনা ভরালি। তাঁর কাছ থেকে হোটেলটি ভাড়া নিয়েছিলেন ঘনকান্ত গগৈ। অভিযোগ, এদিন রাতে হেলেনা ও তাঁর ছেলে দেবর্ষি কাশ্যপ, দেবর্ষির স্ত্রী রিনিকি কাশ্যপ এবং হেলেনার ভাই ভূদেব ভরালির মৃত্যু হয় ঘনকান্ত গগৈয়ের বন্দুকের গুলিতে। ঘটনায় আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে, তাঁর নাম নারায়ণ দাস। তিনি হোটেলের কর্মী। গুলিবিদ্ধ হন হোটেলের আরেক কর্মী সত্যেন্দ্র পাঠকও। বর্তমানে তিনি গুয়াহাটি মেডিক্যাল কলেজে চিকিৎসাধীন।

হোটেল নিয়ে বিবাদের জেরেই এই খুনের ঘটনা বলে পুলিশের প্রাথমিক অনুমান। ঘটনার কিছুক্ষণের মধ্যেই গ্রেফতার হন অভিযুক্ত ঘনকান্ত গগৈ। বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে খুনে ব্যবহৃত .৩২ পিস্তল। গুয়াহাটির পুলিশ কমিশনার পার্থ সারথি মহন্ত জানান, এক বছর আগে হেলেনা ভরালির কাছে থেকে হোটেলটি লিজে নিয়েছিলেন ঘনকান্ত গগৈ। রাত ১১টা থেকে পল্টন বাজার থানায় জেরা চলে অভিযুক্তের। পুলিশি জেরায় হোটেলে ইন্টেরিও নিয়ে খরচ হওয়া ৩৫ লক্ষ টাকার একটি তথ্যও পাওয়া গেছে। মোটা অঙ্কের এই টাকাই ঘটনার মূল কারণ হতে পারে বলে পুলিশের অনুমান।

মৃতের পরিবারের একজন সদস্য নব ভরালি। তিনি বলেন, ঘনকান্ত প্রায় এক বছর ধরে হোটেলের ভাড়া দিচ্ছিলেন না হেলেনাকে। বিষয়টি নিয়ে তাদের মধ্যে এর আগেও দু’একবার আলোচনা হয়েছে। এদিকে, হোটেলের চুক্তির মেয়াদও শেষ হয়ে আসছিল। তাই সোমবার রাতে হেলেনা ও তাঁর পরিবারের অন্য তিন সদস্য বকেয়া আদায় নিয়ে কথা বলতে গিয়েছিলেন ঘনকান্ত গগৈয়ের সঙ্গে। মৃতের পরিবারের সন্দেহ, বকেয়া আদায় ও হোটেলের চুক্তির মেয়াদ শেষ করা নিয়ে উভয়ের মধ্যে বচসার সূত্রপাত হয়। এবং পরবর্তীতে সেই বচসাই ‘খুন’-এর মতো ভয়াবহ রূপ নেয়।

পুলিশ সূত্রে খবর, খুব কাছ থেকে গুলি করা হয়েছে হেলেনা ভরালি ও তার পরিবারকে। হেলেনা ও তার ছেলে দেবর্ষিকে মাথায় গুলি করা হয়েছে। দেবর্ষির স্ত্রী রিনিকিকে বুকে গুলি করা হয়েছে। হেলেনার ভাই ভূদেবের পিঠে গুলি লাগে। এবং মুখে গুলি করা হয় নারায়ণ দাসের। বাম কাঁধে গুলি লাগে সত্যেন্দ্ৰ পাঠকের। তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। দেবর্ষি ও রিনিকির দেড় বছর ও তিন মাসের দুটি সন্তান রয়েছে।

হেলেনার পরিবার মূলত বরপেটার বাসিন্দা। ১৯৯৬ সালে হেলেনা গুয়াহাটি এসেছিলেন। ‘হোটেল বিলাস ইন’ তার বাবার নামেই ছিল। হোটেল ব্যবসা তাদের পারিবারিক। হেলেনার তিনভাইয়ের একজন ভূদেব ভরালি। যার গতরাতে মৃত্যু হয়। গোটা ঘটনার তদন্ত করছে পল্টনবাজার থানার পুলিশ। শুধুই কী হোটেল আর টাকা-পয়সা নিয়ে বচসা? না কি এর পেছনে আরও কোনও রহস্য রয়েছে। সবটাই তদন্ত সাপেক্ষ।