গুয়াহাটি হত্যাকাণ্ডের তদন্তে ৬ সদস্যের এসআইটি

26

নিউজ ডেস্ক: গুয়াহাটির হোটেলে লিজ বিবাদে একই পরিবারের তিনজন সহ ৫ জনকে খুন করা হয়েছে। গুলিতে আহত আরও একজন।গুয়াহাটির লাচিত নগরে অবস্থিত ‘হোটেল বিলাস ইন’-এর লিজ ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিরোধের জেরে সোমবার গুলিবর্ষণের ঘটনায় পাঁচজন নিহত হয়েছেন। তদন্তের জন্য একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (এসআইটি) গঠন করেছে সরকার।
অভিযুক্ত ঘনকান্ত গগৈ (৩৪)ছয়জনের ওপর গুলি চালান বলে অভিযোগ। পুলিশের দাবি, হোটেলের ব্যবস্থাপনা ও সুযোগ-সুবিধা নিয়ে মতপার্থক্য দূর করতে একটি বৈঠক চলাকালীন গুলি চালানো হয়। গুলিবিদ্ধ পাঁচজন নিহত এবং সত্যেন্দ্র পাঠক (৪৩) নামে একজন আহত অবস্থায় গুয়াহাটি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
পুলিশ জানিয়েছে, সোমবার রাত ৯টার পুলিশ হোটেলটিতে পৌঁছয়। হোটেলের রিসেপশন এলাকায় চারজনের মৃতদেহ পাওয়া যায় এবং হোটেলের প্রবেশপথে আরও দুজনকে আহত অবস্থায় দেখা যায়। আহতদের মধ্যে একজন পরবর্তীতে জিএমসিএইচ-এ চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
নিহতরা হলেন বরপেটার ভূদেব ভরালী (৬৫) ও নারায়ণ দাস (৪৮), গুয়াহাটির নবীন নগরের বাসিন্দা হেলেনা ভরালী (৫৮), দেবর্ষি কাশ্যপ (৩৯) ও রিনিকা কাশ্যপ (৩০)।
পুলিশ জানিয়েছে, হোটেলের মালিকরা ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ অভিযুক্ত ধনকা গগৈয়ের সঙ্গে পাঁচ বছরের জন্য একটি লিজের চুক্তি করেছিলেন, যার মাসিক ভাড়া ছিল প্রায় ১.৮ লক্ষ টাকা। ধনকান্ত গগৈ হোটেলটি সংস্কার করার পর থেকেই বিভিন্ন বিষয়ে মতবিরোধ শুরু হয়, বিশেষ করে হোটেলের জায়গা ব্যবহার এবং কিছু সুযোগ-সুবিধা নিয়ে বিরোধ দানা বাঁধে।
এই সমস্যা সমাধানের জন্য সোমবার হোটেলে একটি বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছিল। তবে বৈঠক শুরু হওয়ার আগেই তর্কবিতর্ক হাতাহাতিতে রূপ নেয় এবং এরপরই অভিযুক্ত গুলি চালান বলে অভিযোগ।
মূলত ডিব্রুগড়ের বাসিন্দা এবং বর্তমানে গুয়াহাটিতে বসবাসকারী ধনকান্ত গগৈকে বশিষ্ঠ থানা এলাকা থেকে খুঁজে বের করে পুলিশ হেফাজতে নেয়। গুলিবর্ষণের ঘটনায় ব্যবহৃত পিস্তল উদ্ধার করেছে পুলিশ।
ঘটনাস্থল থেকে .৩২ ক্যালিবারের বেশ কয়েকটি ব্যবহৃত কার্তুজের খোসা এবং অব্যবহৃত কার্তুজ উদ্ধার করা হয়েছে।
ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায়, একটি পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত নিশ্চিত করতে গুয়াহাটি পুলিশ ছয় সদস্যের এসআইটি গঠন করেছে।
এই দলের নেতৃত্বে জয়েন্ট কমিশনার অফ পুলিশ অঙ্কুর জৈন, আইপিএস। দলের অন্যান্য সদস্য হলেন— ডেপুটি কমিশনার অব পুলিশ (সেন্ট্রাল) সম্ভবী মিশ্র, আইপিএস; ডেপুটি কমিশনার অব পুলিশ (ক্রাইম) দেবজিৎ নাথ, এপিএস; অ্যাডিশনাল ডেপুটি কমিশনার অব পুলিশ (সেন্ট্রাল) ভিকু আচুমি, আইপিএস; পল্টনবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত ওসি পরিদর্শক কুশলজ্যোতি ভুঁইয়া এবং সাব-ইন্সপেক্টর অবিনাশ দাস।