মোদীকে পালাতে দেব না: রাহুল গান্ধী

40

নিউজ ডেস্ক: মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশকুমারের পদত্যাগের দাবিতে এবং এসআইআর বাতিল চেয়ে রবিবার দিল্লির রামলীলা ময়দানে বিরোধী জোট ইন্ডিয়া ব্লকের সমাবেশে রাহুল গান্ধী আওয়াজ তুলেছেন, দেশের প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা করেছে জ্ঞানেশকুমার। এবং তাঁকে দিয়ে এটা করিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। জ্ঞানেশকুমারকে জেলে যেতেই হবে এবং নরেন্দ্র মোদী ও অমিত শাহকেও বিচারের আওতায় আনা হবে, তাঁদের কোথাও পালাতে দেব না।
কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের বাংলা থেকে হুডখোলা গাড়িতে চেপে রামলীলা ময়দানে পৌঁছন রাহুল গাঁধী, সমাজবাদী পার্টি (এসপি)-র অখিলেশ যাদব, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী, দীপংকর ভট্টাচার্য, সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক এমএ বেবি প্রমুখ। রামলীলা ময়দানে বক্তৃতা করেন আইসা নেত্রী নেহা বোরা, প্রশান্তভূষণ, দীপংকর ভট্টাচার্য, মল্লিকার্জুন খাড়গে, ন্যাশনাল কনফারেন্সের ফারুক আবদুল্লা, কাশ্মীরের বিরোধী নেত্রী মেহবুবা মুফতি। শেষ বক্তা ছিলেন রাহুল গান্ধী।
বক্তৃতায় জ্ঞানেশের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকেও নিশানা করেন রাহুল। জ্ঞানেশকুমারকে ‘ভ্যানিশ কুমার’ বলে কটাক্ষ করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনে তৃণমূল হারেনি। জোর করে হারানো হয়েছে। নিজের বক্তৃতায় পশ্চিমবঙ্গে ভোট লুটের অভিযোগ করেন এসপি প্রধান অখিলেশও। জ্ঞানেশ পদত্যাগ না-করা পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ডাক দেন খাড়গে। ‘মোদী হটাও, গণতন্ত্র বাঁচাও’ স্লোগান তোলেন তিনি।
বক্তৃতায় জ্ঞানেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে ভবিষ্যদ্বাণী করেন রাহুল গান্ধী। লোকসভার বিরোধী দলনেতা বলেন, আমার কথা শুনে রাখুন। আমি যা বলি, পরে তা সত্যিই হয়। আমি দেশের প্রতিটি মানুষকে, প্রত্যেক যুবককে বলছি, জ্ঞানেশকুমারকে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পদ থেকে সরানো হবে। জ্ঞানেশকুমার জেলে যাবেন। এরপরই রাহুলের সংঞযোজন, জ্ঞানেশকুমারকে ছাড়া নরেন্দ্র মোদী প্রধানমন্ত্রী হতে পারবেন না। অমিত শাহও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হতে পারবেন না।
প্রধানমন্ত্রী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে নিশানা করে তিনি বলেন, অমিত শাহজি বলেছিলেন, নরেন্দ্র মোদী কোথাও যাবেন না। আমি আপনাদের উল্টোটা বলছি। নরেন্দ্র মোদী কোথাও যেতে পারবেন না। যদি তিনি যেতেও চান, আমরা তাঁকে যেতে দেব না। জ্ঞানেশকুমারের পর তাঁদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ করা হবে। রাহুল বলেন, আমরা হিংসায় জড়াব না, কারও ক্ষতি করব না, ঘৃণাও ছড়াব না। কিন্তু দেশের সংবিধানকেও ধ্বংস হতে দেব না।

পশ্চিমবঙ্গ কমিশনের এসআইআর প্রক্রিয়ার শিকার বলে দাবি করেন মমতা। ভোট লুটের অভিযোগ তুলে বিজেপিকেও নিশানা করেন তিনি। বলেন, এরা ভোটচুরি করে দেশের গণতন্ত্র এবং সংবিধানকে লুট করেছে। রামমন্দিরে জমা পড়া দানের টাকাও চুরি করেছে। এদের আমরা ক্ষমতা থেকে সরাবই। মমতার অভিযোগ, বিজেপির কোনও সংগঠন নেই। তাই পুলিশ দিয়ে দলের কাজ করছে। মমতা বলেন, আমরা জীবন দেব, তবু লড়াই চালিয়ে যাব। আত্মসমর্পণ করব না। ওরা আমাদের বাংলাকে লুট করেছে। আমরা গণতন্ত্রকে রক্ষা করব।”

২০২৭ সালে উত্তরপ্রদেশের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি হেরে যাবে বলে দাবি করেন অখিলেশ যাদব। ২০২৪ সালের লোকসভায় উত্তরপ্রদেশের বিজেপির খারাপ ফলের দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, ওটা বিদায়ের সূচনা ছিল। ২০২৭ সালের ভোটে এমন বিদায় দেওয়া হবে যে, ওরা আর ফিরতে পারবে না। কটাক্ষ করে অখিলেশ বলেন, উত্তরপ্রদেশের মানুষ খুব ভালো স্বাগত জানাতে পারে। আরও ভালোভাবে বিদায় জানাতে পারে।

সিপিআইএমএল (লিবারেশন)-এর সাধারণ সম্পাদক দীপংকর ভট্টাচার্য বলেন, গোটা দেশ বুঝতে পারছে যে, মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার যন্ত্র হল এসআইআর। এটা মানুষের উপর সরকারের সার্জিক্যাল স্ট্রাইক।” এমএ বেবি বলেন, এটা ভারতের দ্বিতীয় স্বাধীনতা সংগ্রাম।