ভোট নয়, জনতার হৃদয় চুরি করেছে বিজেপি: হিমন্ত

26

নিউজ ডেস্ক: বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে বিরোধীদের অভিযোগ যে ভোটচুরি করে জিতেছে বিজেপি। তার উত্তর দিয়েছেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। হিমাচল প্রদেশের সিমলায় তিনি বলেছেন, ভোটচুরি নয়, জনতার হৃদয় চুরি করেছে বিজেপি।
হিমন্তর কথায়, কংগ্রেস যে কেবল ইভিএমেই হারছে তা নয়, ব্যালট পেপারের নির্বাচনেও তারা পরাজিত হচ্ছে, যা বিভিন্ন রাজ্যে বিধান পরিষদের সাম্প্রতিক নির্বাচনে দেখা গেছে। এর কারণ, বিজেপি ভোট চুরি করে না, বরং তারা মানুষের হৃদয় জয় করে নেয়।
কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী এবং হিমাচল প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী সুখবিন্দর সিং সুখুকে উদ্দেশ হিমন্ত প্রশ্ন তোলেন যে, কংগ্রেস কেন ইভিএম নিয়ে সমালোচনা করছে। তিনি উল্লেখ করেন, এই একই নির্বাচন পদ্ধতি ব্যবহার করেই হিমাচল প্রদেশে কংগ্রেস ক্ষমতায় এসেছিল।
তিনি রাহুল গান্ধীকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বলেন, রায়বেরেলি থেকে তাঁর নির্বাচনী জয় এবং লোকসভায় বিরোধী দলনেতা হিসেবে তাঁর অবস্থানের বিষয়টি তিনি যেন ব্যাখ্যা করেন। এ ছাড়া তিনি প্রশ্ন তোলেন, যে ইভিএম ব্যবহার করে কংগ্রেস বিধানসভা নির্বাচনে জয়ী হয়েছিল, সেই একই ব্যবস্থায় জয়ী হওয়ার পরও কেন সুখবিন্দর সিং সুখু রাজ্য সরকারের প্রধান হিসেবে বহাল রয়েছেন?
হিমন্তর অভিযোগ, কর্ণাটক, তেলেঙ্গানা ও হিমাচল প্রদেশের মতো রাজ্যে যখন কংগ্রেস জয়ী হয়, তখন তারা ইভিএম নিয়ে কোনও প্রশ্ন তোলে না, কিন্তু বিজেপি জয়ী হলেই তারা নির্বাচন কমিশন ও নির্বাচনী প্রক্রিয়ার ওপর প্রশ্ন তোলে।
এসআইআরের পক্ষে সাফাই গেয়ে অসমের মুখ্যমন্ত্রী বলেন, গণতন্ত্র রক্ষার জন্য নির্ভুল ভোটার তালিকা থাকা অপরিহার্য। তিনি জোর দিয়ে বলেন, প্রতিটি যোগ্য ভারতীয় নাগরিকের ভোটাধিকার থাকা উচিত, তবে আইন অনুযায়ী অযোগ্য ব্যক্তিদের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া প্রয়োজন।
কংগ্রেসের বিরুদ্ধে অভিযোগ হিমন্তের অভিযোগ যে, কংগ্রেস ভারতে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরির উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ ও নেপালের রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রসঙ্গ টেনে আনছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ভারতে সরকার পরিবর্তন হয় নির্বাচনের মাধ্যমে, রাস্তায় বিক্ষোভ বা রাজনৈতিক ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে নয়।
প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর হত্যাকাণ্ডের পর ১৯৮৪ সালে যে শিখ-বিরোধী দাঙ্গা হয়েছিল, তার উল্লেখ করে শর্মা কংগ্রেস নেতৃত্বের ঐতিহাসিক দায়বদ্ধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি দাবি করেন, গণতন্ত্র বাঁচানোর কথা বলার আগে রাহুল গান্ধীর উচিত ক্ষমা চাওয়া।
অসমের বিজেপি সরকার এবং হিমাচল প্রদেশের কংগ্রেস সরকারের মধ্যে তুলনা টেনে হিমন্ত দাবি করেন, তাঁর সরকার এক লাখ সরকারি চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি পূরণ করেছে এবং প্রায় ১.০৭ লাখ তরুণ-তরুণীকে কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দিয়েছে।
তিনি হিমাচল প্রদেশের সুখু সরকারের বিরুদ্ধে পাঁচ বছরে পাঁচ লাখ কর্মসংস্থান সৃষ্টির নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগ আনেন। তিনি বলেন, নির্বাচনী ব্যবস্থাকে দোষারোপ না করে কংগ্রেসের উচিত নিজেদের সাংগঠনিক দুর্বলতা দূর করা এবং অপূর্ণ প্রতিশ্রুতি পূরণ করার দিকে নজর দেওয়া।