নিউজ ডেস্ক: মেগা জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের বিরোধিতায় অরুণাচল প্রদেশের তিন জেলায় বন্ধের আহ্বান সাম্প এফেকটেড এরিয়া ইয়ুথ অ্যাসোসিয়েশনের। প্রস্তাবিত ১১ হাজার মেগাওয়াটের সিয়াং জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের বিরোধিতায় বন্ধ চলছে অরুণাচল প্রদেশের সিয়াং, আপার সিয়াং এবং পূর্ব সিয়াং জেলায়।
‘সায়া’ (SAAYA) বোগুম বোকাং-টুটিং এলাকার প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠন ‘বোগুম বোকাং ওয়েলফেয়ার সোসাইটি’-র কাছে ধর্মঘটে সমর্থন চেয়েছে।
‘সায়া’ জানিয়েছে, প্রকল্প-অঞ্চলে জোর করে সমীক্ষা চালানো এবং সেখানে কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী মোতায়েনের বিরুদ্ধে যে আন্দোলন চলছে, তার সঙ্গে যুক্ত ধৃত ব্যক্তিদের মুক্তি দিতে হবে।
এর আগের ধর্মঘটে বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতার করেছে অরুণাচল পুলিশ। গ্রেফতারকে আদিবাসী সম্প্রদায়ের কণ্ঠস্বর রুদ্ধ করার প্রচেষ্টা হিসেবে বর্ণনা করে, ‘সায়া’ বলেছে
যে, এই আন্দোলনের লক্ষ্য পৈতৃক ভূমি ও সিয়াং নদী রক্ষা করা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বার্থ নিশ্চিত করা। তারা উল্লেখ করে যে, এই বিষয়টি আদি জনগোষ্ঠীর নিজস্ব পরিচিতি এবং তাদের ঐতিহ্যবাহী জীবনধারা সংরক্ষণের সঙ্গে নিবিড়ভাবে জড়িত।
ভারতের অন্যতম বৃহত্তম জলবিদ্যুৎ প্রকল্প হিসেবে পরিকল্পিত এই উদ্যোগের বিরোধিতা করছে আদিবাসী আদি সম্প্রদায়। তাদের উদ্বেগের কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে— জনগোষ্ঠীর বাস্তুচ্যুতি, গ্রাম তলিয়ে যাওয়া, কৃষিজমি ও বনভূমি হারানো এবং ঐতিহ্যবাহী জীবিকার ওপর নেতিবাচক প্রভাব।
বিভিন্ন প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই প্রকল্পের ফলে ২৭টি গ্রাম তলিয়ে যেতে পারে এবং আরও কয়েক ডজন গ্রাম ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তিব্বতে ইয়ারলুং সাংপো নদীর ওপর চিনের বিশাল জলবিদ্যুৎ প্রকল্প নির্মাণের পরিকল্পনার প্রেক্ষাপটে, কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে এই প্রকল্পটি কৌশলগত গুরুত্বও অর্জন করেছে। উল্লেখ্য, ইয়ারলুং সাংপো নদীটি ভারতে প্রবেশ করার পর সিয়াং নদী নামে পরিচিত।
সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাসে এই অঞ্চলে উত্তেজনা বৃদ্ধি পায়, কারণ প্রস্তাবিত ‘প্রি-ফিজিবিলিটি রিপোর্ট’ (পিএফআর) বা প্রাক্-সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জরিপের বিরুদ্ধে বিরোধিতা জোরালো হয়ে ওঠে। বিক্ষোভকারীরা জরিপ পরিচালনার জন্য নিরাপত্তা কর্মী মোতায়েনের বিরোধিতা করেন। তাঁদের দাবি, ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর সম্মতি ছাড়াই এই প্রক্রিয়া চালানো হচ্ছে।
প্রতিবাদের সময় হিংস্র ঘটনা, যার মধ্যে যানবাহন ও সরকারি সম্পত্তির ওপর হামলাও অন্তর্ভুক্ত, পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। এরপর প্রশাসন ধরপাকড় ও প্রতিরোধমূলক আটক অভিযান শুরু করে এবং ওই অঞ্চলে নিরাপত্তা বাহিনীর উপস্থিতি বাড়িয়ে দেয়।
অস্থির পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে ১১ অক্টোবর আপার সিয়াং জেলা প্রশাসন জনসমাবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে।
এরই মধ্যে বেশ কয়েকটি সংগঠন আটক কর্মীদের মুক্তি, নিরাপত্তা কর্মীদের প্রত্যাহার এবং জরিপ স্থগিত করার দাবি জানিয়েছে।
তবে রাজ্য সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমানে যে কাজ চলছে তা শুধু প্রাথমিক সম্ভাব্যতা যাচাই, এটি বাঁধ নির্মাণের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়।
কেন্দ্রীয় সরকারও ২০২৪ সালের আগস্ট মাসে সংসদে জানিয়েছিল যে, প্রকল্পটি এখনও প্রাথমিক অনুসন্ধান পর্যায়ে রয়েছে এবং নির্মাণকাজ শুরুর আগে এর জন্য পরিবেশগত ছাড়পত্রের প্রয়োজন হবে।
Prev Post
Next Post