২ কুকি যুবকের মৃত্যুতে উত্তাল মণিপুর

26

নিউজ ডেস্ক: দুই কুকি যুবকের মৃত্যু এবং প্রতিবাদ মিছিলে পুলিশের লাঠি চার্জ, কাঁদানে গ্যাস প্রয়োগে উত্তাল মণিপুর। অপহৃত দুই কুকি-জো যুবকের মৃত্যুর পর প্রতিবাদ মিছিলে নিরাপত্তা বাহিনী লাঠিচার্জ করে এবং বারবার কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে।
এই ঘটনায় বেশ কয়েকজন আহত হন এবং তাঁদের কাংপোকপি জেলা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, নিরাপত্তা অভিযানের সময় বেশ কিছু যানবাহন এবং আবাসিক ভবনের জানালার কাচ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কাঁদানে গ্যাস ব্যবহারের ফলে ওই এলাকার শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি এবং অন্যান্য অসহায় বাসিন্দারা চরম ভোগান্তির শিকার হয়েছেন বলে জানা গেছে।
২১ বছর বয়সি পাওগিনলাল হ্যাংশিং এবং ২০ বছর বয়সি টিংইনলুন চংলোই— এই দুই যুবকের মৃতদেহ জেলা সদর দফতরেরে নিয়ে আসার পর, শোকাহত শত শত বাসিন্দা কাংপোকপির পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনে জড়ো হলে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। নিহত দুই যুবকই তাপহাউ কুকি গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। সেনাপতি-ফাইবুং রোডে একটি যৌথ তল্লাশি অভিযানের সময় তাঁদের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, মৃতদেহ উদ্ধারের ঘটনায় জমায়েত একপর্যায়ে প্রতিবাদকারী ও নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষে রূপ নেয়। এরপর ভিড় ছত্রভঙ্গ করতে নিরাপত্তা বাহিনী লাঠিচার্জ করে এবং বেশ কয়েক রাউন্ড কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে।
তবে স্থানীয় বাসিন্দারা নিরাপত্তা কর্মীদের বিরুদ্ধে বলপ্রয়োগের অভিযোগ তুলেছেন। তাঁদের দাবি, কয়েকজন বিক্ষোভকারীকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়েছে এবং এই অভিযানের প্রভাব বিক্ষোভস্থলের বাইরেও সাধারণ মানুষের ওপর পড়েছে।
রবিবার গভীর রাত পর্যন্ত কাংপোকপিতে পরিস্থিতি উত্তপ্ত ছিল। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, সেখানে বারবার কাঁদানে গ্যাসের শেল ছোড়া হয়েছে।
নিরাপত্তা বাহিনীর আচরণ নিয়ে প্রশ্ন তুলল ‘কমিটি অন ট্রাইবাল ইউনিটি’ (CoTU)
এই পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে কমিটি অন ট্রাইবাল ইউনিটি-র মুখপাত্র এনজি লুন কিপগেন নিরাপত্তা কর্মীদের আচরণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি বলেন, দুটি মৃতদেহ উদ্ধারের পর উত্তেজনা প্রশমিত হওয়ার পরিবর্তে নিরাপত্তা বাহিনীর বলপ্রয়োগ জনমনে ক্ষোভ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
গত ২৮ অক্টোবর কাংপোকপিতে বন্দুকের মুখে দুই যুবককে অপহরণ এবং পরবর্তীতে তাদের হত্যার ঘটনার পর সেখানে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে, যার জেরে এই সংঘাতের সৃষ্টি হয়েছে।
নিহতদের মৃতদেহ উদ্ধারের পর, সিওটিইউ তাদের চলতি পূর্ণাঙ্গ ধর্মঘটের মেয়াদ আরও ২৪ ঘণ্টা বাড়িয়ে দিয়েছে। সংগঠন জানিয়েছে যে, সরকারের কাছে পেশ করা তাদের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তারা মৃতদেহ গ্রহণ করবে না।
এই নতুন সংঘাত মণিপুরের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। কাংপোকপিতে আগে থেকেই উত্তেজনার জেরে সাধারণ নাগরিকদের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।