মেগা বাঁধ নির্মাণের সিদ্ধান্ত হয়নি: পেমা খান্ডু জনগণের সম্মতি অপরিহার্য, আশ্বাস খান্ডুর

25

নিউজ ডেস্ক: অরুণাচল প্রদেশে সিয়াং নদীর ওপরে প্রস্তাবিত মেগা জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের তিন জেলায় ৪৮ ঘণ্টা বনধ চলাকালীন সেরাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী পেমা খান্ডু বলেছেন, জলবিদ্যুৎ প্রকল্প নির্মাণের জন্য কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি। এই প্রকল্প গড়তে হলে জনগণের সম্মতি আবশ্যক।
অরুণাচল প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী পেমা খান্ডু সিয়াং ও আপার সিয়াং জেলার বাসিন্দাদের আশ্বস্ত করেছেন যে, প্রস্তাবিত সিয়াং আপার মাল্টিপারপাস প্রজেক্ট (ইউএমপি) নির্মাণের বিষয়ে রাজ্য বা কেন্দ্র— কোনও পক্ষই এখনও কোনও সিদ্ধান্ত নেয়নি। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, মেগা বাঁধ নির্মাণের আগে জনগণের পরামর্শ এবং তাদের সম্মতি নেওয়া অপরিহার্য।
প্রস্তাবিত প্রকল্প ঘিরে আদি সম্প্রদায়ের মধ্যে যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, তার প্রেক্ষিতে মুখ্যমন্ত্রী বলেন যে, সরকার বর্তমানে শুধু একটি প্রি-ফিজিবিলিটি রিপোর্ট বা প্রাক্-সম্ভাব্যতা প্রতিবেদন তৈরির বিষয়টি বিবেচনা করছে। এই প্রতিবেদনে প্রকল্পটির কার্যকারিতা, সম্ভাব্য প্রভাব এবং বিকল্প উপায়গুলো খতিয়ে দেখা হবে।
খান্ডু স্পষ্ট করে বলেন, আমি পরিষ্কারভাবে বলতে চাই, এই পর্যায়ে আমরা বাঁধ নির্মাণের বিষয়ে কোনও কথা বলছি না।” তিনি আরও যোগ করেন, জনগণের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা এবং তাদের সম্মতি ছাড়া নির্মাণের বিষয়ে কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না।
তিনি জানান, কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে ২০০৮ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি ভারত সরকার এই প্রস্তাবিত প্রকল্পটিকে ‘জাতীয় প্রকল্প’ হিসেবে ঘোষণা করেছিল। বর্তমানে দেশে যে ১৬টি প্রকল্পকে জাতীয় প্রকল্প হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, এটি তার মধ্যে অন্যতম।
সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী চিনের কর্মকাণ্ডের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। তিনি জানান, ভারত সীমান্ত থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দূরে, চিনের মেডোগ কাউন্টিতে ইয়ারলুং সাংপো নদীর ওপর চিন বাঁধ নির্মাণ করছে। এই নির্মাণকাজ ২০২৫ সালের ১৯ জুলাই শুরু হয়েছে।
খান্ডুর মতে, আনে সিয়াং-এর প্রায় ৬৫ শতাংশ জল চিন থেকে আসে, যার ফলে এই অঞ্চল শুষ্ক শীতের মাসগুলোতে জলের অভাব এবং হঠাৎ করে জলের প্রবাহ বেড়ে যাওয়া— উভয় ঝুঁকির মুখে পড়ে।
তিনি বলেন, আমাদের উপত্যকা জল-সংক্রান্ত ঝুঁকির সম্মুখীন— কখনো হঠাৎ অত্যন্ত প্রবল জলপ্রবাহ ধেয়ে আসে, যার জন্য খুব কম সতর্কবার্তা পাওয়া যায়; আবার কখনো শুষ্ক শীতের মাসগুলোতে তীব্র জলসংকট দেখা দেয়।
খান্ডু যুক্তি দেন যে, নদীর উজানের জলপ্রবাহের ওপর ভারতের কোনও নিয়ন্ত্রণ না থাকলেও, বৈজ্ঞানিক ও কারিগরি মূল্যায়নের মাধ্যমে সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলার প্রস্তুতি নেওয়া প্রয়োজন। তিনি জানান, সিয়াং ইউএমপি-এর মতো বিকল্পগুলো খতিয়ে দেখা যেতে পারে, যা সিয়াং নদী ও ব্রহ্মপুত্রে পরিবেশগত প্রবাহ বজায় রাখার উপায় খুঁজে বের করতে সাহায্য করবে।
খান্ডুর আশ্বাস যে, প্রস্তাবিত পিএফআর কোনও নির্মাণ প্রকল্পের অনুমোদন নয়, বরং এটি একটি প্রাথমিক মূল্যায়ন মাত্র। এটি প্রকল্পের মৌলিক সম্ভাব্যতা যাচাই করতে, এর সম্ভাব্য ফলাফল বুঝতে এবং আনে সিয়াং-কে সুরক্ষিত রাখার অন্যান্য বিকল্প খতিয়ে দেখতে সহায়তা করবে।
খান্ডু জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে যে কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে ভূমি অধিগ্রহণ, পুনর্বাসন ও পুনর্সংস্থাপনের ক্ষেত্রে ন্যায্য ক্ষতিপূরণ ও স্বচ্ছতার অধিকার আইন, ২০১৩ এবং পরিবেশ সুরক্ষা আইন, ১৯৮৬-র আইনি শর্ত মেনে চলতে হবে।
খান্ডু বাসিন্দাদের উচ্ছেদ হওয়ার বা তাদের সম্মতি ছাড়া জমি অধিগ্রহণের আশঙ্কা দূর করার চেষ্টা করেন এবং এধরনের দাবিকে ভুল তথ্য বলে অভিহিত করেন।
গণতন্ত্রে ভিন্নমত পোষণের অধিকারের কথা স্বীকার করে খান্ডু বলেন, প্রকল্প নিয়ে উদ্বেগ নিরসনে সরকার বাসিন্দা, জনপ্রতিনিধি এবং কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনার জন্য সর্বদা প্রস্তুত।
খান্ডু সিয়াং অঞ্চলে শান্তি ও সংলাপ বজায় রাখার প্রচেষ্টার জন্য অরুণাচল আদিবাসী উপজাতি ফোরাম এবং বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের ভূয়সী প্রশংসা করেন।
তিনি বলেন, আসুন, আমরা সবাই মিলে সত্য খুঁজে বের করি এবং সম্মিলিতভাবে সিদ্ধান্ত নিই— আনে সিয়াং-এর জন্য, আমাদের ভূমির জন্য এবং আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য।