নিউজ ডেস্ক: আরও এক অভিযুক্তর মৃত্যু এনকাউন্টারে। অসমে যেন রেওয়াজ হয়ে দাঁড়াচ্ছে শিহরনকারী হত্যার মূল অভিযুক্তর পুলিশি এনকাউন্টারে মৃত্যু। কিছুদিন আগে পুলিশের হেফাজতে থাকাকালীন পালাতে গিয়ে মৃত্যু হয় স্ত্রী হত্যায় অভিযুক্ত রামানুজ গোস্বামীর, অন্তত পুলিশের সেটাই দাবি। বুধবার ভোরে শিবসাগর থানায় যাওয়ার পথে পুলিশি এনকাউন্টারে মৃত্যু হয়েছে হোটেল বিলাস ইন হত্যাকাণ্ডের মূল অভিযুক্ত ঘনকান্ত গগৈয়ের।
পুলিশের দাবি, ঘনকান্তকে শিবসাগরে নিয়ে যাওয়ার সময় তিনি পুলিশের সার্ভিস পিস্তল ছিনিয়ে নিয়ে পালানোর চেষ্টা করলে আত্মরক্ষার্থে পুলিশ গুলি চালায়, যার ফলে তাঁর মৃত্যু হয়।
অসমের স্বরাষ্ট্র দফতর বিধানসভায় ২০২৫ সালের নভেম্বরে যে তথ্য পেশ করেছিল তাতে দেখা যাচ্ছে ২০২১ সাল থেকে ২০২৫ সালের নভেম্বর পর্যন্ত অসমে পুলিশি হেফাজতে ও এনকাউন্টারে মোট ৮০ জন অভিযুক্তের মৃত্যু হয়েছে।
বছরভিত্তিক মৃত্যুর বিবরণ নিম্নরূপ
• ২০২১ সাল: ৩১ জন
• ২০২২ সাল: ১৮ জন
• ২০২৩ সাল: ১৩ জন
• ২০২৪ সাল: ১০ জন
• ২০২৫ সাল (১৯ নভেম্বর পর্যন্ত): ৮ জন
এই সাড়ে চার বছরে এনকাউন্টারের ঘটনায় মোট ২২৩ জন সন্দেহভাজন অপরাধী আহত হয়েছেন। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, মৃত ও আহত ব্যক্তিরা মূলত খুন, ধর্ষণ, মাদক চোরাচালান এবং ডাকাতির মতো গুরুতর অপরাধে অভিযুক্ত ছিলেন।
২০২১ সালের ৫ জুলাই, ‘অসমে পুলিশি ব্যবস্থার মানদণ্ড পুনর্নির্ধারণ’ শীর্ষক সম্মেলনে অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বলেছিলেন, অপরাধীরা হেফাজত থেকে পালানোর চেষ্টা করলে পুলিশের উচিত তাদের পায়ে গুলি করা।
সেই সম্মেলনেই স্বরাষ্ট্র দফতরের দায়িত্ব থাকা হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বলেছিলেন, কেউ আমাকে জিজ্ঞেস করেছিলেন যে পুলিশের সন্দেহভাজনদের গুলি করাটা একটা রীতিতে পরিণত হয়েছে কি না। রীতিটা সেটাই হওয়া উচিত। যদি কোনও ধর্ষক অস্ত্র ছিনিয়ে নিয়ে পালানোর চেষ্টা করে, যদি কাউকে ঘটনাস্থলে নিয়ে যাওয়ার সময় সে পালানোর চেষ্টা করে, তাহলে পুলিশের উচিত নয় তার বুকে গুলি করা, কিন্তু আইন পুলিশকে তার পায়ে গুলি করার অনুমতি দেয়। পুলিশের এমন পদক্ষেপ নিতে ভয় পাওয়ার দরকার নেই, কিন্তু নিরপরাধদের বিরুদ্ধে এমন পদক্ষেপ নিতে তাদের ভয় পাওয়া উচিত।
গ্রেফতার হওয়ার পর যে কোনও অভিযুক্তর যাবতীয় দায়িত্ব থাকে পুলিশের কাঁধে। পুলিশের গাফলতিতেই অভিযুক্ত সুযোগ পায় রিভলভার বা পিস্তল ছিনিয়ে নেওয়ার কিংবা প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে যাওয়ার নাম করে পালানোর চেষ্টা করার। অসমে ২০২১ সাল থেকে পুলিশি হেফাজতে থাকাকালীন অভিযুক্তদের মৃত্যু পুলিশের ভূমিকা নিয়েই প্রশ্ন তুলে দেয়।